মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদ বিপুলের ফাঁসি যেকোনো মুহূর্তে কার্যকর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ এপ্রিল, ২০১৭, মঙ্গলবার: জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদ বিপুলের ফাঁসি আজ  রাতের যেকোনো মুহূর্তে কার্যকর হতে পারে। রাত ১০টার পর ফাঁসি কার‌্যকর হতে পারে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তুত কারা প্রশাসন। প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ।  কারা ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
কারাগার এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কারাগার এলাকার সব দোকানপাট। কারা ফটকের সামনে আছেন জেলা পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন এলে তিনি ভেতরে ঢুকবেন। কারা ফটকের ২০০ গজ দূরে সাংবাদিকদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
কারাগার সূত্র জানায়, জঙ্গি নেতা হান্নান ও তার সহযোগীর ফাঁসি কার্যকরের জন্য জল্লাদ রাজু এবং তার সহযোগী ইকবাল ও সফিককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীকে তওবা পড়াবেন কারা মসজিদের পেশ ইমাম হেলাল উদ্দিন।
এরই মধ্যে প্রস্তুতি দেখতে কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন কারা সহকারী মহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে দুপুরে জঙ্গি নেতা হান্নানের সঙ্গে দেখা করেছেন তার কারাবন্দি দুই ভাই মহিবুল্লাহ ও আনিসুর রহমান। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় আধ ঘণ্টার মতো তারা কথা বলেন। তবে বিপুলের কোনো আত্মীয়স্বজন এখনো কারাগারে যানানি।
আলোচিত এই দুই জঙ্গির ফাঁসি আজ রাত ১০টা বা তার আগে সম্পন্ন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। রায় কার্যকর নিয়ে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারাগার এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কারাগার এলাকার সকল দোকান পাট।
এর আগে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন,  সকালে মুফতি হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভিন রুমা বেগম, বড় ভাই আলী উজ্জামান মুন্সী, মেয়ে নাজনীন ও নিশি খানম কারাগারে প্রবেশ করে মুফতি হান্নানের সঙ্গে কথা বলেন। স্বজনদের সাক্ষাৎ পর্বের পর জেলকোড অনুযায়ী তাদের যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদ- দেন আদালত। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা। গত ২৭ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণভিক্ষার আবেদন ইতিমধ্যে নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
ফাঁসির দ- পাওয়া তিন জঙ্গির মধ্যে মুফতি হান্নান ও বিপুল আছেন কাশিমপুর কারাগারে। অন্যজন রিপন সিলেট কারাগারে আছেন।

Leave a Reply