ফিশারিঘাটে ৩ ডাকাত: মহিউদ্দীন চৌধুরী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ এপ্রিল, ২০১৭, সোমবার: ‘ফিশারিঘাটে ৩ জন ডাকাত আছে। সেখানে মাছের আড়ত নয়, ইয়াবা ব্যবসা কেন্দ্র করতে চায়। আপনার পূর্বের জায়গায় আড়তারি করবেন। পাহারা দেবেন। যারা টাকা নিয়েছে, তারা টাকা ফেরত দিবেন না হয় ভাল হবে না।’
সোমবার লালদিঘী মাঠে ফিশারিঘাট মাছের আড়ত স্থানান্তর, বার্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবিতে সোনালী মৎস শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিতির বক্তব্যে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, শহরে ৫০ লক্ষ মানুষের বসবাস। সমস্যার শেষ নেই। এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন হয়েছে, কেউ কাউন্সিলর, এমপি হয়েছেন সংসদে কথা বলার জন্য, বন্দরে বসা থাকার জন্য নয়।
মেয়র আ জ ম নাছির প্রতি মহিউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের গেইটে থালা মেরে আপনি বন্দরে সার্বক্ষণিক বসে থাকেন। শহরের সমস্যা সমাধানের কোন হিসাব নেই। কর্পোরেশনে একজন এস্টেট অফিসার, একজন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আছে। আরো ৭/৮টি পদে স্থায়ী কোন লোক নেই। আবার দুইজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার আছে সেখানে। পাগলের আড্ডাখানা বানিয়েছেন। উনি (নাছির) থাকেন না, তালাভরে রাখেন। তার কিছু তল্পিবাহক, যারা তার নামে সেøাগান দেন তাদের সেখানে চাকরি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এসে সাবধান করে গেছেন। পরিবর্তন হচ্ছেন না। চক্রান্ত বন্ধ করুন। না হয় কিভাবে কি করতে হবে মহিউদ্দীন চৌধুরীর সেটা জানা আছে।
তিনি নাম উচ্চারণ করে বলেন, ‘বিচ্ছু, আমাদের লতিফ, মনজুর ভাতিজা সংসদে কথা বলে না, বলে বন্দরের চেয়ারম্যানের অফিসে। লজ্জা লাগে না। আপনি সংসদ সদস্য, বসে রইলেন বন্দরের চেয়ারম্যানের চেম্বারে। এটা কি আপনার দায়িত্ব? কি দায়িত্ব পালন করছেন। জাহাজের ব্যবসা, লোহার ব্যবসা, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যবসা। সেটা তো আপনার কাজ নয়।’
হোল্ডিং ট্যাক্স প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন,  হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়ে নিচ্ছেন। আমিও দিতে রাজি। কিন্তু শহরের আধিবাসীন্দাদের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন না। ক্রোকের নামে হুমকি দিচ্ছেন। হুমকি দিয়ে ঘর ছাড়া করার অধিকার আপনার নেই। ট্যাক্স দিতে না পারলে মাপ করে দেন। বিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই বছর সময় আছে। বিজ্ঞ লোকদের ডেকে পরামর্শ নেন। প্রয়োজনে আমার পরামর্শ নেন। আমাকে তো ডাকেন না। শহরের উন্নয়ন করে ট্যাক্স নেন। দায়িত্ব পালন করতে পারলে করুন, না হয় কি করবেন আপনি জানেন।
মহিউদ্দীন চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটায় দশ হাজার শ্রমিক ২০/৩০টি আড়ত। তিনি (নাছির) সেই জায়গা হুমুক দখলের ব্যবস্থা করছেন। ওয়াকফ সম্পত্তিতে ১১০টি দোকান করেছেন। বাধ্য করেছেন তাদের যাওয়ার জন্য। হুমকি দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না।
সমবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গণঅধিকার ফোরাম সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা মাহবুবুল হক এটলি, মহিউদ্দিন বাচ্চু, শ্রমিক নেতা আকবর আলী, সোনালী মৎস শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি সামসুল আলম, পরিচালক হাজী মো. মহসিন, স্বরুপ বিকাশ বড়–য়া, হাজী আব্দুস শুক্কুর, মো. মহসিন, ইব্রাহিম সওদাগর, ইমতিয়াজ আলী, জমিয়ত আলী, দিদারুল আলম প্রমুখ।

Leave a Reply