স্থানীয় সরকার কার্যক্রম জোরালো করতে হলে জনগণের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে: চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৯ এপ্রিল, ২০১৭, রবিবার: চট্টগ্রাম বিভাগীয়  পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী (অতিরিক্ত সচিব) বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি সেবা জনগণের কাছে আরো অতি সহজে কিভাবে পৌঁছে দেয়া যায় সে লক্ষ্যে সরকার মাঠ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের নানামুখী প্রদক্ষেপের কারণে আজ সরকারি-বেসরকারি প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ সমানভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হতো। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিং তেমন চোখে পড়ে না। সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের কারণে আমরা ইতোমধ্যে নি¤œমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত এবং মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল্ড (এমডিজি) অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সরকারের উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরো জোরালো করতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের কাক্সিক্ষত মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে দেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে  আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সক্ষম হবে। আজ ৯ এপ্রিল ২০১৭ ইং রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিভাগীয় কমিশনার অফিস আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উত্তম চর্চা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের ভূমিকা’ সম্পর্কিত বিভাগীয় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি  এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে দেশের সকল শিশুর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। বিশে^ অনেক উন্নত দেশ আছে যারা সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে পারে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কৃষি, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানামুখী উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য, পানীয় ও সেনিটেশন ব্যবস্থায় সরকারের যুগোপযোগী ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাই ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ সমন্বয় রেখে কাজ করলে সরকারের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
কর্মশালার বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, সরকারিভাবে জনগণকে যে সেবাগুলো দেয়া হচ্ছে সে সেবাগুলো আরো কিভাবে দ্রুত নিশ্চিত করা যায় সেদিকে খেয়াল রেখে সরকারের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। তাহলে এদিকে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে, অন্যদিকে ২০২১ সালে এদেশ একটি মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
কর্মশালার উদ্বোধক নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. এবিএম জাফর উল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমগুলো আরো বেগবান করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। তাহলে জনগণ তার কাক্সিক্ষত সেবা পাবে। স্থানীয় সরকার কার্যক্রমকে বেগবান করতে হলে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন (যুগ্ম সচিব)। কর্মশালার উদ্বোধন করেন নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. এবিএম জাফর উল্লাহ। কর্মশালায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উত্তম চর্চা এবং উদ্ভাবনে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী, ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের উত্তম চর্চা উদ্ভাবন সমূহ উপস্থাপন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. হাবীবুর রহমান, দুর্নীতি দমনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের করণীয় ও যুব সমাজের ভূমিকা উপস্থাপন করেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যে ও ১৬টি টার্গেট সম্পর্কে উপস্থাপন করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মুহাম্মদ গোলামুর রহমান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতার। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আব্দুল মান্নান, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সচিব সাব্বির ইকবাল,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. হাবীবুর রহমান, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মুহাম্মদ গোলামুর রহমান, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া, ব্রাহ্মবাড়িয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনিসুল হক ভূঁইয়া, সোনাইমুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হক, বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি চাকমা, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উদয় দেওয়ান, ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফয়জুন নাহার, বাঘাইছড়ি উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুমিতা চাকমা, সমাজকর্মী জেসমিন সুলতান পারু, সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রনজিত কুমার শীল, স্বনির্ভর এনজিওর নির্বাহী পরিচালক এস.এম শাহীন প্রমুখ। কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্য, এনজিও প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তাগণ অংশ নেন

Leave a Reply