ভেস্তে যাচ্ছে কাউখালীবাসির স্বপ্নের চা-বাগান প্রকল্প

মোঃ ওমর ফারুক, কাউখালী, ০৯ এপ্রিল, ২০১৭, রবিবার: পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা বাসির অনেক দিনের আশা আকাংখা, স্বপ্নের চা-বাগান প্রকল্প কার্য্যক্রম আজ ভেস্তে যেতে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়,উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সমম্বয়ে গঠিত এই উপজেলা। যার উত্তরে নানিয়ারচর উপজেলা,দক্ষিনে রাঙুনীয়া উপজেলা,পুর্বে রাঙামাটি সদর ও পশ্চিমে রাউজান উপজেলা সিমানা ঘিরা। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই উপজেলার পরিবেশ মাটি এখানকার মানুষের জীবন যাত্রা তুলনামুলক অন্য পার্শ্ববতী উপজেলার লোকজনের সাথে ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত। কিন্তু পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙুনীয়ায় রয়েছে ব্রাকের বিশাল চা-বাগান,ফটিকছড়িতে রয়েছে বিশাল চা-বাগান। যে চা-বাগান গুলি হতে প্রতি বছর উপার্জন করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা,অর্থৃনৈতিকভাবে স্বচ্চল হচ্ছে এসব এলাকার লোকজন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কাউখালী উপজেলার পাহাড়ী বাঙালীরা পার্শ্ববর্তী এসব উপজেলার ব্যাক্তিগত ও বে-সরকারী উন্নয়ন মুলুক সংস্থা ব্রাকের এসব চা-বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে গড়ে তুলেছেন কাউখালী ক্ষুদ্র চা-চাষী সমবায় সমিতি। তাদের সকলের একটাই চাওয়া পাওয়া নিজস্ব পাহাড়ী উচু নিচুঁ টিলায় সেই স্বপ্নের চা-বাগান করা। যেই চা-বাগানে নিজেরা কাজ করবেন সাথে এলাকার অন্যরাও কাজ করবেন থাকবেনা কোন বেকার, অর্থনৈতিকভাবে গুছঁবে দারিদ্রতা থাকবেনা এলাকায় কোন বিদ্বেষ,হানাহানি জাতিগত ধন্ধ।
কিন্তু সরকারীভাবে সব কাগজ কলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটা। বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কাউখালী উপজেলা ক্ষুদ্র চা-চাষী সমবায় সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় ২০০৭ ইং সালে শুরু করলেন কাউখালী উপজেলায় চা-চাষের জন্য সকল পরিক্ষা নিরীক্ষা কার্যক্রম সব কিছু ঠিকঠাক মতো এগিয়ে চললো। চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশে ২০৮জনকে ক্ষুদ্র চা-চাষী হিসাবে নিবন্ধন প্রদান করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কাউখালী উপজেলা শাখার মাধ্যমে প্রথমে ১৪জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা চা-চাষীদের মাঝে কিস্তির মাধ্যমে ব্যাংক ঝন দিতে শুরু করলের্ন। অর্থ পেয়েই অনেকেই শুরু করলেন তাদের স্বপ্নের চা-চাষ প্রকল্পের সেই চা বাগানের কাজ, কিন্তু বিধিবাম এলাকার লোকজনের স্বপ্নের চা-বাগান স্বপ্নই থেকে গেলো,মাঝ পথে এসে মুখ থুবরে পড়ল সেই আশা।
অন্যদিকে কাউখালী ক্ষুদ্র চা-চাষী সমবায় সমিতির সদস্যগন নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড সি এইচটি প্রকল্প পরিচালক ও সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) বরাবরে বিস্তারিত উল্ল্যেখ করে জানিয়ে একটি আবেদন করেন, সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রতিনিধি দল সরেজমিনে তদন্ত করে গত ২২.৭.২০০৯ইং সালে স্বারক নং/মেমো নং প্রকল্প/প্রজেক্ট বিটিবি-গউ/প্রকল্প-১৩৯(৩)/পিই-১৮/২০০৪(উপনথি-০১) প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করেন যে,বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘স্মল হোল্ডিং টি কালটিভেশন ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি জেলার কাউখালীতে ১০০ (একশত) হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্রায়তন চা-চাষ করা যাবে। এবং জেলা প্রশাসক, রাঙামাটির উপর ভিত্তি করে চা বোর্ড কাউখালীতে মোট ২০৮ (দুইশত আট) জনকে ক্ষুদ্র চা-চাষী হিসাবে নিবন্ধন করেন এবং প্রত্যেকের জমির মালিকানা ঠিক আছে ও জেলা প্রশাসন হতে প্রত্যেকের নামে বরাদ্ধ প্রদান সহ অনাপত্তি প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৪  (চৌদ্দ) জন ক্ষুদ্র চা-চাষীকে সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কাউখালী শাখা হতে ঝন প্রদান করেন। অন্য চাষীদেরও ঝন প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিন্তু বাঁধার কারনে ব্যাংক অন্যদের ঝন কার্য্যক্রম স্থগিত করেন।  পরবর্তীতে গত ২৫.৬.০৯ ইং তারিখে চা বোর্ডের প্রকল্প সম্প্রসারন কর্মকর্তা সরেজমিনে ক্ষুদ্র চা-চাষীদের জমিন পরিদর্শন করে দেখতে পান যে এলাকার কিছু দুষ্ঠ প্রকিৃতির উপজাতিয় লোক প্রস্তাবিত চা-বাগানের জমিতে ঝুম চাষ শুরু করে দিয়েছেন। পরে চা-চাষীগন এই সমস্যা নিরসন কল্পে কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে গত ৬.৭.০৯ ইং সালে একটি আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ্ও উপজেলা নির্বাহীূ অফিসার বিষয়টি সুরহা করার জন্য বসেন, কিন্তু বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক বরাবওে ভুক্তভুগীদের  আবেদন করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।
সুত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি আন্চলিক রাজনৈতিক দলের কারনে সব চা-চাষীদের সব স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেলো। চা-চাষী সাধারন পাহাড়ী বাঙালীদের মাঝে দেখা দিল চরম ক্ষোঁভ আর হতাশা। এলাকার নিরহী সাধারন লোকজনের দির্ঘ দিনের অনেক স্বপ্নের চা-বাগান আজ আর করতে পারলেন না চা-চাষীরা। ১৯৭৯ ইংসালের পুণর্বাসিত সাধারন লোকজন এবং এই এলাকার সাধারন পাহাড়ী জনঘোষ্ঠি তাদের নিজস্ব পাহাড়ী জমি যে উচু/নিচুঁ টিলা যা কিনা চা-চাষের জন্য উপযুক্ত বলে বাংলাদেশ চা-বোর্ড গবেষনা টিম পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে ঘোষনা দিয়েছেন। তাতে চা-বাগান করা যাবেনা বলে নিষেদ করলেন, সেই আন্চলিক রাজনৈতিক দলটি। যেন মাথায় আকাশসম কিছু ভেঁঙে পড়ল ব্যাংক হতে ঝন নেয়া সেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা চা-চাষীদের মাথায়। হতবিহবল হয়ে পড়লেন সেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা চা-চাষীরা।
উপায়ন্তর না দেখে কাউখালীর এই ক্ষুদ্র চা-চাষী সমবায় সমিতির পক্ষ হতে তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উর্দ্ধোতন কর্তৃপ্ক্ষ ও প্রশাসনের কাছে দরখাস্তের মাধ্যমে জানাতে লাগলেন তাদের সেই সব দাবি দাওয়া। কারন আজ চা-বাগান করতে না পারার ফলে সরকার হতে দেয়া ঝনের টাকা এখন তাদের জন্য মাথার বোঁঝা হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকে যেন চোখে মুখে কিছুই দেখছেন না। এ ব্যাপারে ক্ষুদ্র চা-চাষী উদ্যোক্তা জয়নাল মুন্সি,জোসনা বেগম,সুপন চাকমা,রিগান মারমা দৈনিক যুগান্তরকে বলেন,আমরা অনেক আশা ভরসা নিয়ে সরকারী ব্যাংক হতে টাকা নেই এই চা-বাগান করার জন্য কিন্তু আজ আমাদের সেই আশা,আকাংখা,স্বপ্ন যেন মাটি হয়ে গেল। আমরা আজ নিরুপায় অসহায়। এ প্রসঙে কাউখালী ক্ষুদ্র চা-চাষী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ বশির মিয়া বলেন,আমরা অনেক কষ্ঠ করে পাহাড়ী বাঙালী মিলে এই ক্ষুদ্র চা-চাষী সমবায় সমিতি করি, চা বোর্ডের সকল নিয়ম কানুন মেনে আমরা  অনেক আশা ভরশা নিয়ে এই চা-চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাংক হতে টাকা নিয়ে যার যার নিজস্ব পাহাড়ী জমিতে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছিলাম ঠিক সেই মুহুর্তে একটি অশুভ শক্তি এসে সব কার্যক্রম চুরমার করে দিল। যেন স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল তা ছাড়া কাউখালী উপজেলায় কর্ম সংস্থানের জন্য কোন শিল্প কারখানা বা মিল ফ্যাক্টরী নাই। না আছে কোন ব্যাক্তিগত মিল কারখানা যেখানে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে এ এলাকার মানুষ বেকারত্ব দুর করে গোছাঁবে তার আর্থিক স্বচ্ছলতা। আজ এই চা-চাষ প্রকল্প কার্য্যক্রম বন্দ হয়ে যাওয়ার কারনে অনেক ক্ষুদ্র চা-চাষী উদ্যোক্তা সরকার কতর্ৃৃক ব্যাংক হতে নেওয়া ঝনের টাকার বোঝাঁ মাথায় নিয়ে পাগলের মতো গুরে বেরাচ্ছেন। যে চা বাগান প্রকল্পের মাধ্যমে হতে পারতো এই এলাকার হাজারো লোকের কর্ম সংস্থান অর্থৃনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে ফিরে আসতো এই এলাকার জনসাধারনের অর্থনৈতিক মুক্তি। আমরা চা বাগানের জন্য ব্যাংক হতে নেয়া ঝনের টাকা মওকুফের জন্য সরকারের উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিতভাবে জানিয়ে আসতেছি। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আমরা আবারো সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমাদের নিজ নিজ পাহাড়/জমিতে চা-চাষ/বাগানের কাজ শুরু করতে পারবো বলে আমাদের দৃড় বিশ্বাস।
অপর দিকে এই চা-চাষ প্রকল্পের বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার  আফিয়া আখতার দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, চা-চাষ প্রকল্পের ব্যাপারে  বর্তমানে সরকার হতে এখন কোন গাইডলাইন পাইনি কিন্তু ইতি পুর্বে চা-চাষীদের জমির বিষয় নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর বিষয়টি সুরহার জন্য ভুক্তভোগীদের আবেদন করতে বলা হয়। এই এলাকায় চা বাগান হলে হাজারো লোকের কর্ম সংস্থান হবে তা ছাড়া এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে বলে আমি মনে করি।
পরিশেষে অত্র কাউখালী উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের একটাই চাওয়া পাওয়া সরকারের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের কাছে যেন সরকার চা বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন  ‘স্মল হোল্ডিং টি কালটিভেশন ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাউখালী উপজেলায় ক্ষুদ্র চা-চাষী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে যে উদ্যোগ ইতি পুর্বে গ্রহন করেছেন তা যেন কোন অশুভ শক্তির কাছে নথ না হয়ে এই প্রকল্পটি পুনরায় শুরু করেন তাতে অত্র এলাকার শুধু কর্মসংস্থান নয় দারিদ্রতাকে পিছনে পেলে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হবে এই এলাকার সকল জাতি ঘোষ্ঠি সম্প্রদায় এটাই এখন সকলের একমাত্র চাওয়া

Leave a Reply