অশান্তি নয় শান্তির পরিবেশ চায় জনগণ

মাহমুদুল হক আনসারী, ০৯ এপ্রিল, ২০১৭, রবিবার: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ মরণশীল। সকল প্রানীকে মরতে হবে। কোন প্রানীর হিসাব নিকাশ নেই। মানুষকে পদে পদে তার হিসাব কষতে হয়। দুনিয়ার আগমন থেকে আরম্ভ করে শিশুকাল, কৈশোর, যৌবন, বৃদ্ধাবস্থায়, মৃত্যুর আগে ও পরে সব কালেই মানুষ নামক জীবের হিসাব নিকেশ করে চলতে হয়। ঘরে বাইরে বাজারে সর্বস্তরে মানুষের হিসাব নিকাশ কষেই তাকে চলতে হবে। হিসেবে অনেক ধরনের বিষয় থাকে, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, রাজনীতি, ক্ষমতা সর্বাধিক বিষয় নিয়েই একজন মানুষ তার জীবনকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেন। পারিবারিক কাজ কর্ম থেকে আরম্ভ করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড পর্যন্ত সবদিক বিবেচনা করে মানুষকে কাজ করতে হয়। কিন্তু হিসাব কষে মানুষ তাঁর সঠিক হিসেবে পৌঁছাতে পারেনা। মানুষ এক অস্থিরতায় পড়ছে। ঘরে নানা মুখি চাপ, ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে চাপ, স্ত্রীর চাপ, পরিবারের অন্য সদস্যদের চাপ, পাড়া পর্শি বিভিন্ন পেশার মানুষের চাপ, রাস্তায় চলতে ফিরতে জনগন ও গনপরিবহনের চাপ, বাজারে গেলে পণ্যের মূল্যের নানাবিধ চাপ, পণ্যের অগ্নিমূল্য মাথায় চাপ, আয় ও ব্যায়ের হিসেবে অন্য ধরনের চাপ, অর্থাৎ পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের সকল শাখা প্রশাখার একজন নাগরিকের মানষিক চাপ ছাড়া মুক্তি পাওয়ার কোন রাস্তাই দেখা যায়না। সব স্থানেই শুধু মানুষের অধিকারের উপর অন্যায় ও অবিচার চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বেতন ভাতার অতিরিক্ত চাপ, কোচিং চাপ, গাইড বইয়ের চাপ, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে স্কুল শিক্ষকদের নানা বিষয়ের চাপ আসে অভিভাবকদের কাছে। চাপের কোন শেষ নেই। হাট বাজারের চাপ অন্যরকম, ওখানে নগর ও নগরের বাইরে অসংখ্য হাট বাজার বসছে। এক কিলোমিটারের মধ্যে কয়েক হাট ও বাজার পাওয়া যাবে। কিন্তু পণ্যমূল্য তালিকা ভিন্নতা পাবেন। একই পণ্যের মূল্য একেক দোকানে ভিন্ন ভিন্ন । কারণ কি জানতে চাইলে বলা হবে নতুন মাল, আবার না হয় পুরাতন মাল, এ হয়েছে সে হয়েছে। নতুবা দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন বেশী, তাই পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। একটা উক্তর ছেড়ে দেবে ক্রেতার উদ্দেশ্য। পণ্যের মূল্যের তালিকার কথা বলা হলেও তা টাঙ্গানো হয়না দোকানে। শুধু দোকানীর কথা বলে লাভ কি। অফিস, আদালত যেখানেই যাবেন সেখানেই দেখবেন এবং মেনে নিতে হবে তাদের দাবী ও চাহিদা। এর বাহিরে গেলে আপনার ন্যায্য কাজ আদায় করা যাবে না। রাষ্ট্রের সমস্ত জায়গায় এ ধরনের আচরণ ও ব্যবহারে জনগণ মারাত্বক ভাবে অশ্বস্তিকর ও অস্থির। তাদের অস্থিরতার শেষ কোথায় সেটার সমাধান খুবই কঠিন এই মুহুর্তে। তবুও অস্থিরতার কথা না বলে উপায় নেই। বলতেই হবে। মানুষ রাষ্ট্র থেকে তার ন্যায্য অধিকার পাচ্ছেনা। বাসা  বাড়ী থেকে মানুষ গোম হচ্ছে। পিতা মাতার কোল থেকে ছেলেকে তুলে নেয়া হচ্ছে। হদীস পাচ্ছেনা। কোন কোন ক্ষেত্রে লাশ পাওয়া যায় আবার লাশও পাওয়া যায়না। ছেলে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবক মহল শংকিত। এ শংকার শেষকি তার উত্তর আমার কাছে নেই। রাষ্ট্রের মালিক ঠিক বলতে পারবে। হঠাৎ হঠাৎ জঙ্গি ষ্টেশন আবিস্কৃত হতে দেখা যাচ্ছে। নারী শিশুদের সেখানে মৃত্যু হচ্ছে। বলা হয় জঙ্গিরা আত্মঘাতিতে মারা গেছে। জনগণ অস্থির। নানা ঘটনার দেশ জনগণ অস্থির। তাই জনগন স্বস্তি চায়, অস্তিরতা নয়। এত অস্তিরতা স্বাধীনের পর জনগন দেখেনি। এখন তা দেশবাসী দেখছে। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘটনা ও সংবাদের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই জনগণ খুবই  অস্থির, অস্বস্থির মধ্যে আছে। পাারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বস্থির পরিবেশ তৈরী করতে হবে। ঘটনা অঘটন, সুসংবাদ, দুঃসংবাদ থেকে মানুষ সমাজ পরিবেশকে নিয়ন্ত্রনে রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ক্ষমতাবানদের।
লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী, সংগঠনক, গবেষক ও কলামিষ্ট

Leave a Reply