বাংলাদেশের একমাত্র অগ্রগামী ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়ালটন: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশের একমাত্র অগ্রগামী ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি খুচরা যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল এখন দেশেই তৈরি করছে। উৎপাদিত সেসব কাঁচামাল দিয়ে দেশেই তৈরি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ পণ্য। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওয়ালটন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের চন্দ্রায় নবনির্মিত ওয়ালটন কম্প্রেসার উৎপাদন কারখানা উদ্বোধন শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী কম্প্রেসারের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল ও তা থেকে পূর্ণাঙ্গ কম্প্রেসার তৈরির বিভিন্ন প্রক্রিয়া সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ওয়ালটন কারখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ওয়ালটন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম নূরুল আলম রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এস এম শামসুল আলম, এস এম আশরাফুল আলম, এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম, তাহমিনা আফরোজ ও রাইসা সিগমা, নির্বাহী পরিচালক এসএম জাহিদ হাসান (পলিসি, এইচআরএম এন্ড এডমিন), মো. সিরাজুল ইসলাম (পলিসি, এইচআরএম এন্ড এডমিন), আশরাফুল আম্বিয়া  (সোসিং ইঞ্জিনিয়ারিং), মো. হুমায়ুন কবীর (পিআর এন্ড মিডিয়া), সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম, কর্নেল (অব.) এস এম শাহাদত হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক ফিরোজ আলম, মিডিয়া উপদেষ্টা এনায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বিসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালে ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনের সময় দেখেছিলাম স্থানীয় পর্যায়ে ফ্রিজ উৎপাদনে শুধুমাত্র কম্প্রেসার বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। মাত্র ৪ বছরের মধ্যেই দেশের প্রথম কম্প্রেসার উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে ওয়ালটন। এখন ওয়ালটন ফ্রিজের প্রত্যেকটি খুচরা যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল দেশেই তৈরি করছে। যা দেখে আমি খুব আনন্দিত।
এই কারখানা চালুর মাধ্যমে বিশ্বে ১৫তম এবং এশিয়ায় ৮ম কম্প্রেসার উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম লেখালো ওয়ালটন। কর্তৃপক্ষের দাবি, মানের দিক থেকে ওয়ালটন কম্প্রেসার বিশ্বের শীর্ষ দুটি ব্র্যান্ডের একটি। তারা জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়ালটন কম্প্রেসার কারখানায় বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৪০ লাখ ইউনিট। তবে ওয়ালটনের লক্ষ্য- আগামী ৫ বছরের মধ্যে বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখে উন্নীত করা। প্রথম দিকে তৈরি করা হবে ইন্ডাকশন প্রযুক্তির কম্প্রেসার।
ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন করে বেসিসের সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে মাল্টিলেয়্যার মাদারবোর্ড তৈরির জন্য ওয়ালটন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আশা করছি, চলতি বছরের শেষেই মাল্টিলেয়্যার মাদারবোর্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি শুরু করবে ওয়ালটন। এজন্য প্রয়োজন সহায়ক শুল্ক ও কর নীতিমালা।
দেশীয় ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন খাতের বিকাশে আগামী বাজেটে বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ তৈরি ল্যাপটপ আমদানির শুল্কহার বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদকদের প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানান তিনি। যুক্তি দেখান, কয়েক বছর আগে সরকার এ ধরণের নীতি গ্রহণ করেছিল বলেই, আজ ওয়ালটনসহ আরও বেশকয়েকটি দেশীয় ফ্রিজ উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশীয় ফ্রিজ উৎপাদন শিল্পের বিকাশের সেই সহায়ক নীতি যদি ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও গ্রহণ করা হয়, তাহলে অতি শিগগির বাংলাদেশে গড়ে উঠবে ল্যাপটপের মতো উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন শিল্পও।
এর আগে অর্থমন্ত্রী ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে ওয়ালটনের বিশাল কর্মযজ্ঞের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি উপভোগ করেন। তিনি ঘুরে দেখেন ওয়ালটনের সুসজ্জিত প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার। উল্লেখ্য, গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা কমপ্লেক্সে প্রায় ১৬ লাখ বর্গফুট কর্ম এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে এই কম্প্রেসার ফ্যাক্টরি। যেখানে রয়েছে বিশাল স্টিল, জিংক, অ্যালুমিনিয়াম ও কপার কাস্টিং এবং ফাউন্ড্রি। আরও রয়েছে বিশাল টেস্টিং ও মেটাল প্রসেসিং সিস্টেম এবং আরএনডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) বিভাগ।

Leave a Reply