পরিবেশ রক্ষায় পাহাড়কাটা, মাটিকাটা বন্ধ করা হউক

মাহমুদুল হক আনসারী, ৮ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: চট্টগ্রাম নগরীর ও আশ পাশের পাহাড়কাটা বন্ধ হচ্ছে না। উঁচু পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে সেখানে জনবসতি গড়ে উঠছে। নগরীর বায়েজিদ, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, শহর-গ্রাম কোথাও এখন আগের মাত্র কয়েক বছরের উঁচু পাহাড় চোঁখে পড়ছে না। পাহাড় দেখতে গেলেই সেখানে নজরে পড়ছে শত শত  বসতি পরিবার। চট্টগ্রাম শহরের নান্দনিক পাহাড়ী পরিবেশ এখন নেই বল্লেই চলে। শহরের অথবা গ্রামের কোথাও এখন আর পাহাড় নামক আল্লাহর অপুরন্ত সৃষ্টি মন জুড়ে দেখা মিলবেনা। এ পাহাড়গুলোকে কেটে বৈধ অবৈধ পাহাড় মালিক সেখানে বসতি স্থাপন করে দিয়েছে । পরিবেশ অধিদপ্তর আছে, পরিবেশ আইন আছে, পরিবেশের শত শত কর্মকর্তা কর্মচারী আছে। নেই শুধু আইনের বাস্তবায়ন। চট্টগ্রামের ফয়েজলেকস্থ পরিবেশ অধিদপ্তর বিশাল বিল্ডিং এ বসে আছে। কিন্তু তাদের চোঁখে কোন পাহাড়কাটা, পাহাড় নিধন পরিবেশ ধ্বংশ কিছুই তারা দেখেনা। শুধু জনগন অভিযোগ করলেই সেখানে একটু তাদের দৌড়জোর দেখা যায়। চট্টগ্রামের  বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পাহাড় ও জীব বৈচিত্র রক্ষা কমিটি, পরিবেশবাদী আন্দোলন অনেক আছে। কিন্তু চট্টগ্রামের নান্দনিক সৃষ্টির অপুর্ব সৌন্দর্য্য পাহাড় এখন আর পাহাড় নেই। সব সমানতালে সমতল হয়ে যাচ্ছে, ওখানে কোন জীব বৈচিত্র আর থাকার পরিবেশ নেই। হাজার প্রকারের জীব বৈচিত্র হারিয়ে গেছে, যাচ্ছে। তাদের নতুন কোন ঠিকানা নেই। কোন বাসা বাড়ীতেও তারা আশ্রয় পাচ্ছে না, তাহলে ঐ জীব বৈচিত্রের কী অবস্থা হবে! সেটাও কেউ কি ভাবছি? হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়, সাথে জীব বৈচিত্র, চট্টগ্রামের নান্দনিক পাহাড়ী সৌন্দর্য্য। এখন যেখানে যাবেন শুধু পাহাড়ের তলদেশে দেখবেন শুধু বসতি, ঘরবাড়ী, মার্কেট, মানুষ আর মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন এসব দেখার পরও চোঁখ বোজে নীরব থাকছে। কোন অভিযোগ পেলে একটু নড়ে চড়ে বসে। বড় ধরনের ভুমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগ নগরবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই। ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের অনেক পাহাড়ী এলাকায় বেশ কয়েক দফা ঝড়  বৃষ্টি ভূমি কম্প হয়েছিল।  তখন দক্ষিণ চট্টগ্রামের অনেক পাহাড়ী এলাকার পাহাড় ভেঙ্গে সমতল এলাকায় চলে আসতে দেখা গেছে। কারণ হিসাবে সেখান থেকে জানা যায় উক্ত এলাকার পাহাড়গুলো কেটে মাটি বিক্রি, পাহাড়ের পাদদেশে ঘরবাড়ী নির্মাণ প্রচুর মৌসুমী বৃষ্টিতে ঐ পাহাড় ভেঙ্গে সমতল ভূমি ভরাট হয়ে যায়। জমি হয়ে যায় পাহাড়। পাহাড় আর রইলনা। মহান আল্লাহর সৃষ্টি নদী পাহাড় আজকে মানব দানবের রক্ত চোখের রোষানলে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। কে বাঁচাবে এ পাহাড়, কার কাছে পাহাড় তার অধিকার চাইবে? কে তাকে অধিকার দিবে? এর কোন সদোত্তর রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে নেই। চোঁখ খুল্লেই পাহাড়কাটা, চোখ মেল্লেই মিলবে নদী ভরাট, এ সব  পরিবেশ বিরোধী ভয়াবহ আচরণের পরিনতি খুবই খারাপ, বন্যা এবং সাইক্লোন হবে পাহাড় থেকে, নদী থেকে এখন আর সাইক্লোন বন্যা দেখা যায়না। পাহাড় থেকে আসবে পাহাড়ী বন্যা। প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের আরো সক্রিয় হতে হবে। সক্রিয় হতে হবে পাহাড়ের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র রক্ষায়। পাহাড়ী তলদেশের  বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হবে। তাদের নিজস্ব ঘর বাড়ীতে পুর্নবাসন করা হউক। ভূমিদস্যু, জ্বাল দালিল সৃজনকারী গডফাদার চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারী পাহাড় রক্ষা করতে হবে। পাহাড়ের পরিবেশ  জীব বৈচিত্রের জন্য সংরক্ষণ ও বনায়ন থাকতে হবে। পাহাড় রক্ষায় বন বিভাগকে আরো শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইনের প্রয়োগ থাকতে হব। নামে মাত্র বিভাগ আর সরকারের হাজার কোটি টাকা খরচ করে দপ্তর রাখলে হবেনা, প্রকৃত পক্ষে বনবিভাগ. পরিবেশ অধিদপ্তর, সব দপ্তরের কার্যকরী পদক্ষেপ চায় সাধারণ জনগন। অন্যথায় শষ্য শ্যামল সোনার  বাংলার নদী, পাহাড়ের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। যা করবেন এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকল। এই জনগনের প্রত্যাশা। লেখক ঃ মাহমুদুল হক আনসারী, সংগঠনক, গবেষক ও কলামিষ্ট

Leave a Reply