চট্টগ্রামে ভর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তিনীতিমালা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত ফিস আাদায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: চট্টগ্রামে ভর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তিনীতিমালা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত ফিস আাদায়, পূনঃ ভর্তিতে বিপুল পরিমান অর্থ আদায়, টিসি গ্রহনে পুরো বছরের ফিস আদায়সহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমান অর্থ আদায়ে অভিযোগ প্রমানিত ০৬টি মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চকবাজার, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগাং আইডিয়াল স্কুল, জামালখান, চিটাগাং ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল, মির্জা আহম্মেদ ইস্পাহানী উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়তলী, এলিমেন্টারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দামপাড়া বেসরকারী স্কুলকে শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগাং ক্যান্টমেন্ট ইংলিশ স্কুল, হালিশহর ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজকে স্বীকৃতি কেন বাতিল হবে না তার ব্যাখ্যা জানানোর জন্য কারন দর্শানোর সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। শিক্ষা সচিবের কাছে প্রেরিত বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের সাহসী উদ্যোগ সমগ্র দেশে শিক্ষা ব্যবস্থানায় সুশাসন নিশ্চিত করবে, অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না, কেউ আইনের উধ্বে নয় এবং সরকারের নির্দেশনা মানতে সকলেই বাধ্য তার প্রতিফলন ঘটবে। যা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনিয়ন্ত্রিত, বিশৃংখল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন চট্টগ্রামে ভর্তি বানিজ্য ঠেকাতে ক্যাব এর সামাজিক আন্দোলনে এটা পরিস্কার ফুটে উঠেছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় অভিভাবকদের কোন কার্যকর অংশগ্রহন নেই। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কর্মচারীদের হাতে পুরো অভিভাবকরা জিম্মি। কার্যকর কোন অভিভাবক ফোরাম নাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিধিমালায় যদিও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অভিভাবকদের প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান থাকলেও সেটা পরিচালানা কমিটি নির্বাচনের সময় শুধুমাত্র সক্রিয় হয়। অন্যান্য সময় এর কোন কার্যকারিতা না থাকায় বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানের পকেট বন্ধি থাকে। যার কারনে চরম নৈরাজ্য ও একনায়ক সুলভ বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়। যার ফলশ্রুতিতে দুর্নীতি অনিয়ম থেকে শুরু করে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। সেখানে শুধু অভিভাবকরা নয় স্কুলের কর্মরত শিক্ষক/শিক্ষিকারাও প্রতিষ্ঠান প্রধানের হাতের পুতুলে পরিনত হতে বাধ্য। তাই অনতিবিলম্বে  সকল বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিভাবক ফোরাম গঠন ও এর সক্রিয় কার্যকারিতা নিশ্চিতে শিক্ষা মন্ত্রণালকে উদ্যোগের আহবান জানান। ক্যাব প্রয়োজনে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংস্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সহায়তা করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ভর্তি নীতি মালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফিস, পুনঃ ভর্তি ফিস, সেশন ফিস নিতে অভিভাবকদের সাথে প্রথমেই মতামত নেয়া, তাদের সংখ্যাগরিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রস্তাবনা পাঠানোর বিধান থাকলেও কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নিয়ত তোয়াক্কা না করে যে যার ইচ্ছামতো সেশন ফিস নির্ধারন ও আদায় করছে। এখানে জেলা শিক্ষা অফিস বা শিক্ষা বোর্ড এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন তদারকি নাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারের দেয়া বই, উপকরণ, শিক্ষা বোর্ডের সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহনসহ নানা সুবিধা নিলেও ঢালাও ভাবে বলে আসছে তারা সরকারের কোন সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে না। যা একটি চরম বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অসত্য কথা। মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা কথায় কথায় এ ধরনের অসত্য কথা বলতে থাকলে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীরাও শিক্ষকদের কথা না শুনে বখাটে ও জঙ্গি হয়ে বেড়ে উঠবে। যা হবে একটি জাতিকে অংকুর বিনষ্ঠ করার সামিল। যার কারনে দেশের মানুষ যে রকম চিকিৎসকদের উপর আস্থা হারিয়ে পার্শ্ববতী দেশে চলে যাচ্ছে সেভাবেই সন্তানদের মানুষ করার জন্যও পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাবার প্রবণতা বাড়বে। যা হবে চরম আত্মঘাতি। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য সরকারী স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো, শিক্ষা প্রশাসনের সব স্তরে সুশাসন নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালনায় অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহন নিশ্চিত করা, ব্যবস্থাপনা কমিটিতে প্রকৃত অভিভাবকদের অর্ন্তভুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়গুলি কঠোর ভাবে অনুসরন করার সুপারিশ করা হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এ এম তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

Leave a Reply