মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষই পারে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকার রাখতে: কারিতাসের ত্যাগ ও সেবা অভিযান বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: কোন ধর্মই হানাহানির পক্ষে না। তথাপিও স্বার্থপরতা, হানাহানি ও একে-অপরের প্রতি বিদ্বেষ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। মানুষের প্রতি মানুষের মর্যাদা ও ভালবাসা নেই। এই অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য নিজের বিবেককে যাগ্রত করতে হবে এবং সেবার গুণগত মান বাড়াতে সকলেরই সচেষ্ট হতে হবে। আর সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন মূলবোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়া। কারিতাসের ত্যাগ ও সেবা অভিযান বিষয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ সামসুল আরেফিন।
কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চল কর্তৃক আয়োজিত ত্যাগ ও সেবা অভিযান ২০১৭ উপলক্ষে আজ রোববার ০২ এপ্রিল কারিতাস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে “এসো, দীনজনের অন্তরের কথা শুনি; এসো, তার বেদনা লাঘব করি” শীর্ষক প্রধান চার ধর্মের আলোকে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক জেমস্ গোমেজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কারিতাস দিবস ও মুলসুরের তাৎপর্যের আলোকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক। আমন্ত্রিত বক্তারা ইসলাম, সনাতন, বৌদ্ধ এবং খ্রীষ্ট ধর্মের আলোকে মূলসূরের উপর তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মূল আলোচনা পর্বে অংশ গ্রহণ করেন সুফীতত্ত্ব গবেষণা ও মানবকল্যাণ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহম্মদ ইকবাল ইউসুফ, মরিয়ম ধর্মপল্লী, দিয়াং-এর পাল – পুরোহিত, রেভা. ফাদার লেনার্ড সি রিবেরু , রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ স্বামী শক্তি নাথানন্দজী মহারাজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু। তাঁরা দীনজনের অন্তরের কথা শুনার মাধ্যমে তাদের বেদনা লাঘব করার উপর গুরুত্বারোপ করে নিজ নিজ ধর্মের মর্মবাণীসমূহ উপস্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান বাস্তবতায় সমাজে ন্যায্যতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্রতা নির্মূলে একে-অপরের প্রতি সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোরারোপ করেন। বক্তারা আরো বলেন, প্রতিটি ধর্মেই প্রতিবেশিসহ সকল দরিদ্র মানুষের সহায়তার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই আমাদেরকে দরিদ্র মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাদেরকে সেবা করতে হবে। অন্যান্য অতিথিবর্গের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলন ফারজানা পারভীন ও নিলু নাগ, ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, মমতার চেয়ারম্যান আলহাজ রফিক আহমেদ এবং পিএসটিসির পীযুষ দাশগুপ্ত, দৈনিক আমাদের সময়ের ব্যুরো চীফ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অতিথিবৃন্দ বর্তমান বাস্তবতায় ত্যাগ ও সেবার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ সম্ভব বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, কারিতাসের এ কার্যক্রম অন্য অনেকের জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত যা আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কারিতাসে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কর্মরত (১০,১৫,২০ ও ২৫) ৩১ জনকে কর্মীকে লং সার্ভিস এওয়ার্ড প্রদান করেন প্রধান অতিথি জনাব মোঃ সামসুল আরেফিন।
উল্লেখ্য যে, কারিতাস বাংলাদেশের ৯৬টি প্রকল্পের মধ্যে একটি অন্যতম শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম হলো ‘ত্যাগ ও সেবা অভিযান’। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা কাজে দেশের সাধারণ জনগণকে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে গত মার্চ ১ হতে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এর কার্যক্রম চলবে আগামী মে ৩১ পর্যন্ত। এবারের মূলসুর হল “এসো, দীনজনের অন্তরের কথা শুনি; এসো, তার বেদনা লাঘব করি” কারিতাস কর্মীদের বেতনের অংশ এবং বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিদের কাছ হতে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় এ প্রকল্পটি। ১৯৮০ খ্রীঃ হতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত অনুদানের অর্থ প্রতিবছর দুস্থ ও পীড়িত মানুষের সেবায় ব্যয় করা হচ্ছে।

Leave a Reply