ইসলামী ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ বড় ধরনের হতাশার জন্ম দিয়েছে পুঁজিবাজারে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: পরিচালনা পর্যদ পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ বড় ধরনের হতাশার জন্ম দিয়েছে পুঁজিবাজারে। গত ৩০ মার্চ দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ এই কোম্পানি ২০১৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব করে, যা তালিকাভুক্তির পর থেকে সর্বনি¤œ লভ্যাংশ। সর্বশেষ ২০১৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির লভ্যাংশের হার ছিল ২০ শতাংশ নগদ। এর আগেও নগদ ও বোনাস মিলিয়ে সবসময়ই ১৫ শতাংশের ওপরে ছিল কোম্পানিটির ঘোষিত লভ্যাংশ। এ বছরের ৫ জানুয়ারি হঠাৎ করে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়।
১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও পরের বছরগুলোতে কমবেশি বেড়েছে কোম্পানিটির লভ্যাংশ। ২০০০ সালের পর কখনো তা ২০ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০১০ সালে তা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশে পৌঁছে। এ ছাড়া ডিএসই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৩ থেকে ২০১৩ সালের অন্য বছরগুলোতে ইসলামী ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ ছিল ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অর্থবছরে ২৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করে ব্যাংকটি।
ব্যাংকটির ঘোষিত লভ্যাংশ ব্যাপকভাবে হতাশ করেছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, যেখানে বরাবরই ব্যাংকটি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা করে আসছে, সেখানে এমন লভ্যাংশ ঘোষণা বাজারের প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একপ্রকার বঞ্চিত করার শামিল। তাদের বক্তব্যের পেছনে যুক্তি ছিলÑ এ খাতের অন্য ব্যাংকগুলোর ঘোষিত লভ্যাংশ। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ২০১৬ অর্থবছরের জন্য সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ২০ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ২০ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক ২৪ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ২৩ শতাংশ ও প্রাইম ব্যাংক ১৬ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে বছরশেষে ব্যাংকটির মুনাফা উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চলমান মূল্যস্তর উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।
কোম্পানি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭৮ টাকা, যা ২০১৫ অর্থবছরে ছিল ১ দশমিক ৯৬ টাকা। কিন্তু ২০১৫ সালে নগদ ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ইসলামী ব্যাংক।
সপ্তাহিক পুঁজিবাজার
সূচক ও লেনদেনের অবনতি দিয়েই গত সপ্তাহ পার করেছে দেশের পুঁজিবাজার। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার আচরণ বিশ্লেষণে তার প্রমাণ মেলে। শীর্ষ এই পুঁজিবাজার সপ্তাহটির চার কর্মদিবসের তিনটিতেই সূচক হারায়। এ সময় ডিএসইর লেনদেন সীমিত থাকে ৭৭৭ কোটি থেকে ১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকার মধ্যে, যা আগের সপ্তাহে ৯৯৫ কোটি থেকে ১ হাজার ২৯০ কোটি টাকার মধ্যে ছিল।
গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭২৫ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫ হাজার ৬৯৩ কোটি ৪৪ লাখ ৭ হাজার টাকা। বাজারে লেনদেনের অবনতি ছাড়াও কর্মদিবস একটি কম হওয়ায় মোট লেনদেনের এ অবনতি হয়।
মোট লেনদেন ছাড়াও অবনতি হয়েছে ডিএসইর গড় লেনদেনের। গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৯৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৩৮ কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
গতকাল চার কর্মদিবসের তিনটিতেই সূচক হারায় ডিএসই। তবে এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচকটির অবনতি হলেও অন্য দু’টি সূচক কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ৬ দশমিক ৬২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজার ৭২৬ দশমিক ২৩ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে ৫ হাজার ৭১৯ দশমিক ৬১ পয়েন্টে স্থির হয়। পুঁজিবাজারটির অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচক যথাক্রমে ১৪ দশমিক শূন্য ৯ ও ২ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খাতভিত্তিক লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত। এই খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ অবদান রয়েছে। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, আলোচ্য সপ্তাহে ব্যাংক খাতে প্রতিদিন ২৪৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্থিক খাত। এই খাতে ডিএসইতে মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ অবদান রয়েছে। ওষুধ-রসায়ন খাতে ১২ শতাংশ লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে ১১ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত ৬ শতাংশ, বিবিধ খাতে ৫ শতাংশ, সিমেন্ট, খাদ্য ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণ-অবকাশ, টেলিকমিউনিকেশন ও বীমা খাতে ১ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে।

Leave a Reply