রাজশাহীতেই দাফন হচ্ছে মালদ্বীপের মডেল রাউধার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়তে এসে আত্মহত্যা করা মালদ্বীপের মডেল রাউধা আতিফকে রাজশাহীতেই দাফন করা হবে। শনিবার সকালে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা রাউধার লাশ নিয়ে যাবেন না। তারা রাজশাহীতেই তাকে দাফনের ব্যাপারে তাদের মতামত দিয়েছেন। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হবে।
ওসি জানান, মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত ও রাউধার পরিবারের সদস্যরা এখন রাজশাহীর পর্যটন মোটেলে আছেন। শনিবারের দুপুরের মধ্যেই রাউধার লাশের দাফন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দাফনের পর হয়তো পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরবেন।
এর আগে গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল থেকে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাউধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। রাউধার বাড়ি মালদ্বীপের মালেতে। তার বাবা মোহাম্মদ আতিফ পেশায় একজন চিকিৎসক।
২০১৬ সালের অক্টোবরে বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য উদযাপন’ (সেলিব্রটিং বিউটি ইন ডাইভার্সিটি) শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছিলেন মালদ্বীপের নীলনয়না এই মডেল। উঠতি মডেল হিসেবে রাউধার রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি।
রাউধার লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। এরপর ওই দিনই নগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে কী না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পরিবারের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল।
পরে বৃহস্পতিবার রাজশাহী আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশাদ শান শাকির ও কমনওয়েলথের সেকেন্ড সেক্রেটারি ইসমাইল মুফিদসহ একটি প্রতিনিধি দল। পরে আসেন রাউধা আতিফের মা-বাবা ও ভাই। এরপর শুক্রবার সকালে তারা রামেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা রাউধার লাশ দেখতে যান। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর তারা লাশের ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেন।
পরে শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এর আগে লাশের ময়নাতদন্ত করতে রামেকের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট টিম গঠন করা হয়। রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনসুর রহমানকে প্রধান করে এ টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. এমাদাদুর রহমান ও ডা. এনামুল হক।
ময়নাতদন্ত শেষে টিমের প্রধান ডা. মনসুর রহমান জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ভিসেরা পরীক্ষা করা হচ্ছে। দু-একদিনের মধ্যে ময়নাতন্তের প্রতিবেদন পুলিশকে দিয়ে দেয়া হবে। তখন মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এর আগে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

Leave a Reply