মৌলভীবাজারের বড়হাটে জঙ্গি আস্তানায় ৩ জঙ্গি নিহত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিস (সোয়াত) টিমের ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ হয়েছে। আস্তানার ভেতরে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। নিহত পুরুষদের মধ্যে একজন সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান চলাকালে আস্তানার বাইরে যে হামলা হয় তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে নিশ্চিত পুলিশ।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম আজ শনিবার অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান। আতিয়া মহলে অভিযান চলাকালে আস্তানার বাইরের ওই হামলায় র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত হন।
ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের বারবার তাঁরা আত্মসমর্পণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাতে সাড়া দেয়নি। যখনই সোয়াট ঘটনাস্থলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তখনই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে।
ঘটনাস্থলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, সিলেটের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গতকাল রাত সোয়া আটটার দিকে গুলির শব্দের পর সকাল পর্যন্ত আর কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি। অভিযান স্থগিত ঘোষণার পরে গতকাল ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
মৌলভীবাজার পৌরসভার ভেতরে বড়হাট এলাকার আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা এই বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা বলে সন্দেহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সেটি শনাক্ত করে ঘিরে রাখা হয়। বুধবার ওই আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ৫৩ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় সোয়াটের ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। অভিযানে পুলিশের কনস্টেবল কায়সর আহত হন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচুর বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরিতে দক্ষ একজন ওই বাড়িতে আছে।
বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের নাসিরপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ শেষ হওয়ার পর ওই বাড়ি থেকে চার শিশু, দুই নারীসহ সাতজনের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধারের খবর জানায় পুলিশ।

Leave a Reply