ভারতের গুজরাট রাজ্যে গরু মারলে শাস্তি যাবজ্জীবন সাজা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: ভারতের বিজেপি শাসিত গুজরাট রাজ্যে গরু মারলে শাস্তি যাবজ্জীবন সাজা। শুক্রবার এই মর্মে সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে গুজরাট বিধানসভায়। গোটা ভারতের মধ্যে গো-হত্যাকারীদের জন্য এটাই সবচেয়ে কঠিন শাস্তি।
চলতি বছরই ভোট গুজরাটে। সেই দিকে তাকিয়ে হিন্দুত্বের হাওয়াকে জোরালো করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে এক জনসভায় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী বলেছিলেন, ‘গরু, গঙ্গা এবং গীতা রক্ষা করতে বিজেপি দায়বদ্ধ।’ সেই গরুকে বাঁচাতে আইন আরও কঠোর করল গুজরাট।
‘গুজরাট প্রাণীরক্ষা আইন ১৯৫৪’-য় বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল ২০১১ সালে। সেই সংশোধনী অনুযায়ী, গরু মারলে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল সাত বছরের কারাদণ্ড। সংশোধনী এনে সেই শাস্তিকেই বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করা হল। জরিমানাও ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ রুপি করা হয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, গরু পাচার করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। চিরদিনের মতো বাজেয়াপ্ত করা হবে গরু এবং গোমাংস পাচারে ব্যবহৃত গাড়ি। কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে গোমাংস বিক্রি করলেও।
প্রথমে বিধানসভায় একটি বিল পেশ করে বলা হয়, গোহত্যাকারীদের সাত থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পরে গুজরাটের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী প্রদীপসিংহ জাডেজা সংশোধনী এনে গরু মারলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ করেন। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে এই সংশোধনী-সহ পাশ হয় বিলটি। বিরোধী কংগ্রেস বিধায়কদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি পাশ হয়।
এই আইনের নিন্দা করেছে কংগ্রেস-সিপিএমের মতো দলগুলো। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছে গুজরাট সরকার। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্য বলছেন, এটা গুজরাট সরকারের ব্যাপার। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে তারা যা ভাল বুঝেছে, সেটাই করেছে।
এদিকে রূপাণী কয়েক দিন ধরেই বলছিলেন, গবাদি পশুরক্ষায় আরও কঠোর আইন করা হবে। রাজনীতির কারবারিদের মতে, উত্তরপ্রদেশে বিপুল সাফল্যের পরে হিন্দুত্বের হাওয়াকে পুঁজি করে গুজরাটের ভোটে ঝাঁপাতে চাইছে বিজেপি। গোহত্যা রোধে এই নয়া আইন সেই কাজে তাদের অনেকটা এগিয়ে দেবে বলেই বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন। গুজরাট বিধানসভায় মোট আসন ১৮২টি। ইতিমধ্যেই বিজেপি আওয়াজ তুলেছে উত্তরপ্রদেশে ৩২৫ হয়েছে, গুজরাটে হবে ১৫০টি আসন।

Leave a Reply