কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাই সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সক্ষম: আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, কওমী শিক্ষা ব্যবস্থাই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সক্ষম। কারণ কওমী শিক্ষা ব্যবস্থায় আল্লাহ ও রাসুল (সঃ) প্রদত্ত কুরআন ও হাদিসের সঠিক শিক্ষা ও তার বাস্তব আমলী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখানে দুনিয়াবী কোন লোভ-লালসা, পদ-পদবীর লড়াই আর অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের কোন সুযোগ নেই। আজ সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির সয়লাব চলছে, কুরআন ও হাদিসের উপর মেহনত বাড়াতে পারলেই তাকওয়াহ অর্জন সম্ভব। তিনি আরো বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। জঙ্গিবাদের নামে অশান্তি ও ফ্যাসাদ সৃষ্টির কোন সুযোগ ইসলামে নেই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামের কোন সর্ম্পক নেই। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। তিনি ৩১ মার্চ শুক্রুবার বাদে জুমা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উলুম আল-ইসলামীয়া লালখান বাজার মাদ্রাসায় ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। জামিয়াতুল উলুম আল-ইসলামীয়া লালখান বাজার মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ফক্কীহুল উম্মাহ আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমিরে শরীয়ত আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ বিন হাফেজী হুজুর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল মালেক হালিম, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী, বিশিষ্ট লেখক আহমদুল ইসলাম চৌধুরী, আল্লামা মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, আল্লামা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদী, মাওলানা জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিএমপি) দেবদাস ভট্টচার্য, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএমপি) আবদুল ওয়ারিশ, খুলশী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, লালখান বাজার ওয়ার্ড কমিশনার এফ কবির মানিক, মাওলানা কারী ফজলুল করিম জিহাদী, মাওলা হাফেজ ফয়েজ উল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক আল-আরবী, মাওলানা মুহিউদ্দিন মোহাম্মদ আনিস, মাওলানা কামরুল কাসেমী, সাংবাদিক কে. এম. আলী হাসান প্রমুখ। আমিরে শরিয়াত শাহ আতাউল্লাহ বলেন আজকে দেশের বুজুর্গানেদ্বীনদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে অথচ ওলামায়েকেরাম তাদের চোখের পানিতে স্বাধীনতার মহান নেয়ামত অর্জিত হয়েছে। হযরত হাফেজী হুজুর ও আমীমুল ইহছান রহঃকে নাস্তিক মুরতাদদের গড়ফাদার কর্তৃক স্বাধীনতা বিরোধী বানানোর যে কোন চক্রান্ত এদেশের কোটি কোটি তৌহিদী জনতা রুখে দেবে। মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন দেশের সকল ইসলামী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে আজ গভীর যড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একে একে সকল ঐতিহ্যের মুছে দিয়ে মূর্তি সংস্কৃতি চালু করে দেশের জনগণকে সেকুলার বানানোর হীন অপচেষ্টা চলছে, এদেশের নবীপ্রেমিক তাওহীদী জনতা তা বরদাস্ত করবে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাশ ভট্টচার্য্য বলেন, কওমী মাদ্রাসাগুলি আদর্শ নাগরিক তৈরীর করার প্রাণ কেন্দ্র। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গীবাদী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ওলামা সমাজ ও আইনশৃংখলাবাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে আমাদেরকে একটি সুন্দর ভবিষ্যত উপহার দিতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার ভাই ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরীকে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। অথচ আমাদের ওলামাকেরামকে আজ একশ্রেণীর মিডিয়া স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গী হিসেবে চিত্রায়িত করতে চায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোন প্রকার ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। ইসলামী কল্যাণময়ী আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশের আর্থ সামাজিক রাজনীতির আবহ পরিবর্তন করতে চাই। সম্মেলনে দেশের ইসলামিক স্কলার, বিশিষ্ট আইনজীবী বৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবি মহল উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply