ভিএক্স ব্যবহার হয় ন্যাম হত্যায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, মঙ্গলবার: উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং ন্যামের হত্যায় কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে ঘাতকরা বিষ হিসেবে ব্যবহার করেছিল ‘ভিএক্স’ নামে এক রাসায়নিক পদার্থ।
‘ভিএক্স’ ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে জানেন খুব কম লোকই। কিন্তু তারা কোন কথা বলছেন না। যে নারী ন্যামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার মুখে ওই তৈলাক্ত পদার্থটি মাখিয়ে দিয়েছিল, সম্ভবত সেও জানতো না সে কি করছে। জিনিসটা আসলে কি তাও হয়তো তার জানা ছিল না।
বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন জোর জল্পনা চলছে উত্তর কোরিয়ার হাতে যে পরমাণু বোমা ছাড়া অন্য আরো গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে, হয়তো সেটি জানান দিতেই ভিএক্স এর ব্যবহার। আবার হতে পারে প্রকাশ্যে নি:শব্দে একজন লোককে মেরে ফেলার কার্যকর উপায় হিসেবেই এই রাসায়নিকের ব্যবহার হয়েছে।
ভিএক্স জিনিসটা এতই বিষাক্ত যে, আক্রান্ত হবার মাত্র ১০-১২ মিনিটের মধ্যেই কিম জং ন্যাম মারা যান। এটা তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী নার্ভ এজেন্ট। এক গ্রামের একশ ভাগের এক ভাগও, অর্থাৎ ভিএক্স এর খুব ছোট্ট ফোঁটাও মানুষের চামড়ার ওপর পড়লে তা কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যু ঘটাতে পারে। কারণ, এই রাসায়নিক পদার্থটি চামড়া ভেদ করে শরীরে ঢুকে যায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বুকে ব্যথা, কাশি, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, অবসন্নতা এবং শেষ পর্যন্ত সংজ্ঞা হারানো এসব লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে যে নারী এই ভিএক্স আক্রমণ চালিয়েছিল, তারও তো তাহলে মৃত্যু হওয়ার কথা। কিন্তু সে বমি করেছিল বলে জানা যায়। তবে তার মৃত্যু হয়নি এবং সুস্থ আছেন। এর মানে হচ্ছে, এমন ভাবে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে ন্যামের মুখে ভিএক্স লাগিয়ে দেয়ার সময় আক্রমণকারী নিজে তার সংস্পর্শে না আসে। হয়ত এ জন্য তাদের বিশেষভাবে মহড়া দিতেও হয়েছিল।
সবচেয়ে সব সুবিধা হচ্ছে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটাতে খুব কম পরিমাণে ভিএক্স প্রয়োজন। যা খুব সহজেই লুকিয়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসা সম্ভব। অনেকে ধারণা করছেন, হয়তো পরিকল্পনাকারীরা ভেবেছিল ভিএক্স দিয়ে হত্যা করা হলে তা ময়না তদন্ত ছাড়া ধরা পড়বে না। এটা একটা ‘আকস্মিক কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলেই মনে হবে।
এদিকে মনে রাখতে হবে যে, উত্তর কোরিয়া চেয়েছিল ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মালয়েশিয়া মৃতদেহটি পিয়ংইয়ংয়ের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু মালয়েশিয়া তাতে রাজি হয়নি। যা নিয়ে পরে দুদেশের কূটনৈতিক বিবাদও হয়। উল্লেখ্য, রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে গুপ্তহত্যার ঘটনা নতুন নয়।
এর আগে ২০০৬ লন্ডনে আলেক্সান্ডার লিটভিনেনকো নামে একজন পলাতক রাশিয়ান স্পাই তেজষ্ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে জানা যায় তিনি দুজন সাবেক কেজিবি এজেন্টের সঙ্গে হোটেলে বসে যে চা খেয়েছিলেন, তাতে তেজষ্ক্রিয় পদার্থ মেশানো ছিল।
১৯৭৮ সালে লন্ডেই গ্রেগরি মারকভ নামে বিবিসির এক প্রযোজককে বিষ ভর্তি ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়।কেউ কিছু বোঝার আগেই হত্যাকারী ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। ধারণা করা হয়, এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বুলগেরিয়ান এজেন্টরা ।
ডংগুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কো ইউ-হোয়ান বলেন, তার মনে হয় বিষপ্রয়োগে হত্যার সুবিধাগুলোর কথা চিন্তা করেই সম্ভবত উত্তর কোরিয়া বা তার নেতা কিম জং উনের ইচ্ছায় এই হত্যাকাণ্ডে ভিএক্স ব্যবহারের বিকল্পটি বেছে নেয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এ হত্যাকাণ্ডে পরে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে চলাফেরা বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ হঠাৎ পথের ওপর কেউ যদি কারো মুখে ভিএক্স মাখিয়ে দেয়, সম্ভবত দেহরক্ষী রেখেও তা ঠেকানো যাবে না।

Leave a Reply