বিশ্বে বাড়ছে হলুদের জনপ্রিয়তা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবিবার: ভারতীয় উপমহাদেশের মসলা হলুদের গুণকীর্তনে মেতেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুষ্টিবিদেরা। সারা বিশ্বেই বাড়ছে হলুদের জনপ্রিয়তা। তরকারিতে হলুদ খাওয়ার অভ্যাস যে স্বাস্থ্যকর, এখন সেটা প্রমাণিত। ভারতসহ নানা দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হলুদমিশ্রিত হলদে দুধ বা গোল্ডেন মিল্ক। হলুদের কারকুমিন নামের রাসায়নিক দেহের প্রদাহ ও ব্যথা দূর করে, ওজন কমায়, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, ক্যানসার প্রতিরোধ করে, বিষণ্নতা দূর করে এবং শরীর বুড়িয়ে যাওয়ার হার কমায়।
তবে হলুদের গুণাগুণ পুরোপুরি পেতে হলে কেবল তরকারির সঙ্গে হলুদ খেলে চলবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, দুধজাতীয় খাবারের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলে এর ফল পাওয়া যায়।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, গোলমরিচের উপাদান পিপেরিন মানুষের শরীরে কারকুমিন শোষণ অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে গোলমরিচের গুঁড়ার সঙ্গে হলুদ যোগ করলে শরীর উপকারী কারকুমিন গ্রহণে সক্ষম হবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, হলুদের উপকারী দিকগুলো।
দীর্ঘকালীন প্রদাহ ঠেকাতে: প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর থাকায় জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলেই প্রদাহ হয়। প্রদাহ না হলে সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মানুষের মৃত্যু ঘটত। তাই স্বল্পকালীন প্রদাহ শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু যখন শরীরের রোগপ্রতিরোধ–ব্যবস্থা শরীরের বিরুদ্ধে কাজ করতে থাকে, তখন প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে শরীরে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, আলঝেইমারের মতো রোগ দেখা দেয়। এসব দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দূর করতে হলুদের জুড়ি নেই।
মানবদেহে থাকা এনএফ-কেবি নামের একধরনের অণু কোষের ভেতরের প্রদাহের জন্য দায়ী জিনকে সক্রিয় করে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এনএফ-কেবি অণুর কার্যকারিতায় বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বন্ধ হয়। এতে অস্থিসন্ধির বাত ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।
শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরে জারণ বা অক্সিডেশন বেড়ে গেলে অনেক বেশি ফ্রি-রেডিক্যাল বা মুক্ত অণু তৈরি হয়। এসব ফ্রি রেডিক্যাল মানবদেহের ডিএনএর কাঠামো বদলে দেয়। এ ছাড়া নানান রোগ সৃষ্টি করে। হলুদের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান কারকুমিন ফ্রি রেডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে শরীর রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: মানব মস্তিষ্কে ব্রেন ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামের একটি হরমোন কমে গেলে আলঝেইমারসহ নানা ধরনের মস্তিষ্কের রোগ হয়। কারকুমিন এই হরমোন মস্তিষ্কে বাড়িয়ে তোলে। ফলে বয়সজনিত মস্তিষ্কের নানা জটিলতা কমে আসে। পাশাপাশি আলঝেইমার, বিষণ্নতার মতো রোগের ঝুঁকিও কমে।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়: হৃদরোগের জন্য দায়ী নানা উপাদানকে দেয় হলুদের কারকুমিন। বিশেষ করে, রক্তনালির ভেতরের আবরণ অ্যান্ডোথেলিয়ামের কার্যকারিতা বাড়ায় এটি, যার ফলে রক্তনালি সরু হয় না এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমে। অথরিটি নিউট্রিশন

Leave a Reply