খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবিবার: সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদসহ পাঁচজন নিহতের মামলায় বাসচালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। রবিবার ভোর ছয়টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়।
দক্ষিণাঞ্চল শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শালজানা গ্রামে ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়নের স্থান দেখে মাইক্রোবাসে করে ফেরার পথে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন। দুর্ঘটনায় আহত হন মাসুদের স্ত্রীসহ তিনজন।
ওই ঘটনায় করা মামলায় গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া তার পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
রায়ের প্রতিবাদে গত পাঁচদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন। পরে রায়ের প্রতিবাদে গতকাল খুলনার ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন আঞ্চলিক কমিটি।
বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হোসেন জানান, খুলনা বিভাগের প্রত্যেকটি জেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এসব যানবাহনে চলাচল করা যাত্রীদের। বাস না পেয়ে তারা বিকল্প ব্যবস্থায় নিজ গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে ধর্মঘটের কথা জানতে না পেরে বাসস্ট্যান্ডে এসে বিপাকে পড়েছেন।
যশোর যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে খুলনা বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন নাজমুল হক। তিনি এসে দেখেন বাস বন্ধ। জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে তিনি জানান, সকালে যশোর যাওয়ার জন্য এসে দেখি বাস বন্ধ। কিভাবে যশোর যাব বুঝে উঠতে পারছি না।
তিনি ঢাকাটাইমসের এই প্রতিবেদকের কাছে বাস ধর্মঘটের কারণ জানার পর অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘কিছু একটা ঘটলেই বাস বন্ধ করে দেয় মালিক-শ্রমিকরা। অন্যায় করলেও তাদের ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না? সরকার কঠোর হলেই এরা সাইজ হয়ে যাবে।’
জরুরি কাজে সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য খুলনায় আসেন আমজাদ হোসেন। বাস বন্ধ দেখে তিনি বাড়ি ফিরে যান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় ধর্মঘট এদের অভ্যাস হয়ে গেছে। আদালতের রায় না মেনে এভাবে আন্দোলন করলে আদালতের দরকার কী?’ এ সময় তিনিও সরকারকে কঠোর হাতে দমনের পরামর্শ দেন।

Leave a Reply