ঋণপত্র জালিয়াতি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবিবার: ঋণপত্র জালিয়াতি করে আমদানিকারকদের কোটি টাকার পণ্য হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে। ট্রিম ট্রেড নামে একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট ভূয়া ঋণপত্র দেখিয়ে ভারতের একটি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের ২০০ মেট্রিক টন চাল তুলে নেয় । এদিকে ঋণপত্র জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব র্বোডকে চিঠি দিয়েছে ভারতের হাই কমিশনার।
ভারতের চাল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরেশ এক্সিম। সবশেষ সাতক্ষীরা ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে ২০০ মেট্রিক টন বাশমতি চাল রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। ন্যাশানাল ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ঋণপত্রের মাধ্যমে সেই চাল আমদানি করে অমি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু অমি এন্টারপ্রাইজের মালিক অমিতের অভিযোগ তার আগেই চাল খালাস করে নিয়ে যায় সাতক্ষীরা এক্সিম নামে অন্য এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান । আর ঐ পণ্য খালাস হয় সিএন্ডএফ এজেন্ট, ট্রিম ট্রেড এর মাধ্যমে। যার ঋণপত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয় মেঘনা ব্যাংকের গুলশানের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে।
এ সম্পর্কে ভারতের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরেশ এক্সিমের মালিক অমিত জেন বলেন, পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সেই এলসির মাধ্যমে যেভাবে পণ্য খালাস পাওয়ার কথা। তবে তা না হয়ে সেই কোম্পানি কোন ভিন্ন নথিপত্র তৈরি করে তার মাধ্যমে পণ্য খালাস করিয়ে নেয়।
অমিত আরো বলেন, তার পণ্য ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসে আর মেঘনা ব্যাংকের টাকা পরিশোধ হয়েছে নভেম্বরে।
ন্যাশানাল ব্যাংকের ঋণপত্রটি কিভাবে মেঘনা ব্যাংক থেকে অন্য আমদানিকারকের নামে পণ্য খালাস হলো এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি ব্যাংক কর্মকর্তারা।
বন্দর নেতাদের অভিযোগ ঋণপত্র জালিয়াতির কারণে এদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে রপ্তানিকারকরা।
এ সম্পর্কে সাতক্ষীরার হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কোন ভাবে এই পোর্ট দিয়ে সুযোগ নিতে দেয়া যাবে না। যদি তারা সুযোগ নিতে পারে তাহলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এই পোর্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। আর এমন হলে রাজস্ব আদায়ে ব্যাঘাত ঘটবে।
এদিকে ঋণপত্র জাল করা অপাধের সাথে জড়িত সাতক্ষীরা এক্সিম লিমিটেডের মালিক লাভলু এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট ট্রিম ট্রেডির স্থানীয় প্রতিনিধি আলমগীরের নামে মামলা করেছে ভোমরার শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
এ সম্পর্কে শুল্ক স্টেশনের যুগ্ন কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দীন বলেন, আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন মামলা বিচারাধীন আছে বিচারের রায় হবার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঋণ জালিয়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজ্বস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন।
সূত্র: একাত্তর টিভি

Leave a Reply