দিনাজপুরে সাথী ফসলের চাষ ব্যাপক হারে বাড়ছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, শনিবার: দিনাজপুর জেলার বৃহত্তর উপজেলা চিরিরবন্দরে সাথী ফসলের চাষ ব্যাপক হারে বাড়ছে। বর্তমানে সাথি ফসলসহ দুই বা তারও বেশি ধরনের ফসল চাষ করা হচ্ছে ইছামতি, আত্রাই ও বেলান নদী বিধৌত চিরিরবন্দরে।
মূলত কৃষি ও মৎস্য আহরণই এ উপজেলার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস। এখানকার কৃষকরা আগে ফসলি জমিতে শুধু ধান চাষ করতেন। তাতে খুব একটা লাভ হতো না তাদের। এখন তারা জমিতে চাষ করছেন সাথি ফসল। সাফলতাও পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে একই সঙ্গে একাধিক ফসল চাষ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি খাতকে উন্নয়নমুখী ও লাভজনক করতে চিরিরবন্দরের জমিকে দুই ফসলি করার চেষ্টা চলছে। তারই ধারাবাহিকতা এই সাথি ফসল চাষ। সাথি ফসল হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে সবজি।
উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের রাজাপাড়ার কৃষক রহমান আলী এ বছর সাথি ফসল হিসেবে আলুর সঙ্গে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনি জানান, আলু তোলা শেষ। এখন চলছে ভুট্টার পরিচর্যা। এ বছর তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে সাথি ফসল চাষ করেছেন বলে জানান।
তার মতো স্থানীয় অনেকেই আলুর সঙ্গে ভুট্টা চাষ করছেন। আবার অনেকে সাথি ফসল হিসেবে রাখছেন অন্যান্য সবজি।
সাতনালা ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের কৃষক মতিয়ার হোসেন এক একর জমিতে আলুর সঙ্গে চাষ করেছেন ধনিয়া, লাল শাক ও মরিচ। এসব সবজির পাশাপাশি একই জমিতে চাষ করেছেন পুঁইসহ দুই ধরনের শাক।
পর পর একাধিক ফসল চাষ করে তারা লাভবান হয়েছেন জানিয়ে মতিয়ার বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে পরিবারের লোকজনকে শ্রম দিতে হয় বেশি।

একই গ্রামের কৃষক নজরুল, জাকির, মুকুল, শাহীনুর, লাবলু ও বেলাল হোসেন তাদের জমিতে সাথি ফসল চাষ শুরু করছেন। তারা জানান, ধনিয়া, লাল শাক, আলুর শাক, ক্ষীরা, পুঁই শাক, মরিচ ও আলুর সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষ করছেন।
সাথি ফসলে বাড়তি খরচ খুব একটা নেই বলে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। আলোকডিহি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহিনী কান্ত রায় জানান, এ ফসল চাষাবাদ করার জন্য জৈব সারই বেশি ব্যবহৃত হয়। এ কারণে বীজ কেনা ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই। তবে আলু ও ক্ষীরা চাষে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, চিরিরবন্দরে ফসলি জমিকে দুই ফসলি করার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সাথি ফসল চাষাবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহও অনেক।

Leave a Reply