ইসলামী সভা সম্মেলন ও মুসলিম ঐক্য

মাহমুদুল হক আনসারী, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, শনিবার: বর্তমান ঢাকা কক্সবাজার সহ বাংলাদেশের প্রায় উল্লেখযোগ্য জেলায় আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন সংস্থার উদ্যোগে ৩২ বছর চলে আসছে, সঠিকভাবে ইসলাম, মুসলমান, নবী, রাসূল, ছাহাবী, তাবেঈন, তবে তাবেঈন, মুহাদ্দেসীনেুকেরাম, রাজিআল্লাহু আনহুম সহ তাঁদের উত্তরসূরী হাজার হাজার পীর, বুুজর্গ, আলেম, ইমাম, খতীব, মুয়াল্লিম, মুবাল্লীগ, মুফতী, মুহাদ্দিস, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর মুসলমানদের নিকট সঠিকভাবে বিশুদ্ধ ঈমান, আকিদা, বিশ্বাস, তাহযিব তমুদ্দুন, ইহ ও পরকালীন মুক্তির জন্য প্রচার করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সঠিকভাবে দ্বীন,ইসলামের দাওয়াত অব্যাহত রাখা উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ফরয ও কর্তব্য। প্রকৃতভাবে ইসলামের দাওয়াত,তাবলীগ না থাকলে মুসলমানগণ,ইসলামী আদর্শ তাহযিব তমুদ্দুন হতে বিমূখ হয়ে পড়ব্।ে ইসলাম ও কোরআন সুন্নাহর নীতি আদর্শ হতে বিচ্যুত হয়ে বিপথগামী পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। বর্তমানে ইসলামী তাবলীগ ও দাওয়াতের মধ্যে অনেক দল উপদল ইসলাম নবী রাসূলের দাওয়াতের নামে দাওয়াতী কাজ চালাচ্ছে। সেখানে প্রকৃত, মুহাম্মদী ইসলাম ও ছহী, বিশুদ্ধভাবে নবী রাসূলের দাওয়াত কোনটা ছিল সেটা বুঝতে ও খুজঁতে সাধারণ মুসলমানদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিশুদ্ধভাবে ইসলামকে না বুঝলে ঈমান ও আকিদা বিশুদ্ধ হবে না। ঈমান ও আকিদা বিশুদ্ধ না হলে তার ইবাদত বন্দেগী আমল আখলাক কিছুই শুদ্ধ হবে না। ইসলামের ৫ম স্তম্ভ ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞান,না থাকলে পরিস্কারভাবে আমল করা যাবেনা। আমল বা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে না হলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট ঐ আমল কবুল হবে না। ইবাদাত, আমল বিশুদ্ধ করার জন্য পরিস্কারভাবে ইসলামের আকিদা বিশ্বাসের প্রতি মুসলমানদের সঠিক ও বিশুদ্ধ জ্ঞান থাকতে হবে। সঠিক ও পরিপূূর্ণ ঈমান আকিদা না থাকলে তার ঈমান আমল পরিপূর্ণভাবে গ্রহনযোগ্য হবে না। নিজের ইবাদত বন্দেগী আমল আল্লাহ তাআলার দরবারে সঠিকভাবে পৌঁছাতে হলে সঠিকভাবে ঈমান আমল আখলাক বিশ্বাস বিশুদ্ধ ও পরিপূর্ণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে যিনি আল্লাহ ও তার রাসূলের বাস্তব অনুসারী,হক্কানী ওলামা মশায়েখ তিনি দাওয়াতের বানী যুগ যুগ ধরে সে দাওয়াতই দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে অনেক ইসলামী দল সংগঠন, ইসলামের দাওয়াত প্রচার প্রসার করতে গিয়ে নানাভাবে আয়োজন করে ইসলামের বাণ্ ীপৌঁঁছাতে দেখা যায়। কে সঠিক কে মিথ্যা,কোন দল প্রকৃত ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছে, আবার কোন দল প্রকৃতভাবে মুসলমানদের বিভাজন পতভ্রষ্ট করছে সেটা পাঠকগণ ও শ্রোতগণই নির্ণয় করবেন। সঠিক ও প্রকৃত ইসলামের দাওয়াত নবী রাসূলের সময় থেকেই চলে আসছে। সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ আঘাত প্রতিঘাত তখন থেকেই ছিল, এখনো আছে সামনেও থাকবে। বাস্তব ও কোরআন হাদীস, রাসূল ভিত্তিক ইসলাম কোনটা ও কি সেটা মুসলমানদের বুঝতে হবে। দুনিয়ার সমস্ত কাজ যদি আমি বুঝি তাহলে সঠিক দ্বীন, ধর্ম, নবী, রাসূলের সুন্নাত,পন্থা কেন আমি বুঝব না? বুুঝার জন্য চেষ্টা ও সাধনা মানসিকতা থাকতে হবে। বাস্তবে কারা প্রকৃত ইসলাম ও সঠিকভাবে দ্বীন ও ধর্মের তাবলীগে ইসলাম করছে,তা সহজেই বুঝে আসবে প্রকৃত ইসলাম ও দাওয়াতের আসল চেহারা দেখলে, দাওয়াতের প্রদানকারী অনেক দলের মধ্যে কতিপয় দল আছে যারা কোন ধরনের দুনিয়ার মোহ ছাড়া একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রেম ভালবাসায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে দ্¦ীনের সঠিক দাওয়াত দিয়ে চলছেন, আবার কিছু কিছুু দল যারা দুনিয়ায় ক্ষমতা,অর্থ শক্তির জন্য ইসলাম নবী রাসূূলের পন্থা ব্যবহার করছে। তারাই মূলত ইসলামকে নিয়ে ব্যবসা করছে, ইসলামী রাজনীতির নামে মুুসলমানদের ধোকা ও প্রতারিত করছে, ধর্ম ও ইসলামের সভা সম্মেলনের মাধ্যমে মুসলমান সমাজে ব্যক্তি পরিবার সামাজিক জীবনে বিভাজন সৃষ্টি করছে। সৃৃষ্টি করছে হানাহানী মারামারী, যুুদ্ধ বিগ্রহ, প্রকৃত ইসলামের বাণী ও মর্র্ম থেকে সরে গিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠীতে পরিণত করছে। ইসলামের সঠিক বাস্তব বক্তব্য একটা, সে বক্তব্য ও পন্থা থেকে মুসলমানদেরকে বিপথগামী ও সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকৃতপক্ষে তারা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। এ ক্ষতি নিজের জন্য মুসলমান ও ইসলাম ধর্মের জন্য, গোঠা জাতির জন্য। এ ভাবে আজ মুুসলিমদের মধ্যে নানা ফিৎনা ও ফ্যাসাদের মাঝে দুনিয়াব্যাপী সন্ত্রাসী ও জঙ্গী হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ইসলামের অনুসারী যুব সমাজ আজ সন্ত্রাসী ও জঙ্গী হয়ে মারা যাচ্ছে। সন্ত্রাস, জঙ্গী, মানবতার ক্ষতিকারক সকল ষড়যন্ত্র হতে মুুক্তি দিতেই ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) পৃৃথিবীতে আগমন হয়েছিল। আর তাঁর সে পবিত্র ইসলামকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য কখনো জঙ্গী সন্ত্রাসী কার্যক্রম ইসলামে গ্রহণ যোগ্য নয়। ইসলাম প্রতিষ্ঠা নবীর আদর্শ কায়েম করার নামে কোন জঙ্গী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ইসলামের শুরু থেকেই ছিল ন্্া, এখনো গ্রহণযোগ্য নয়। আজকের সময়ে যারা জঙ্গী ও সন্ত্রাসী আচার আচরনের মাধ্যমে ইসলামকে ব্যবহার করছে তারা বাস্তবে ইসলামী দল নয়। তাদের অন্য কোন ্উদ্দেশ্য রয়েছে যাতে করে মুসলমানগন ইসলাম ও নবীর আদর্শ হতে পদচ্যুত হয়। এ ষড়যন্ত্র আমাদের বুঝতে হবে এবং এ সকল ষড়যন্ত্র হতে অবশ্যই মুসলমানদের সচেতন হতে হবে। তাদের কু-চিন্তা চেতনা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকতে হবে। ইসলাম ধর্মের প্রবক্তা মুহাম্মদ (সঃ) কখনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সমর্থন করেন নাই। সন্ত্রাসের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। আজকের দুনিয়ায় যারা ইসলাম শব্দ ব্যবহার করে পবিত্র ধর্মকে জঙ্গিপনা ও ইসলামের সাথে ব্যবহার করছে, তারাই মূল সন্ত্রাসী,জঙ্গী,তালেবান, আইএসকে কখনো ইসলাম সমর্থন করে না। জোর করে মানব হত্যা, ধর্মান্তরিত করা,মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে জোর করে কোন ধর্ম পালনে বাধ্য করা ইসলামের আদর্শের মধ্যে,নীতির মধ্যে পড়ে না। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ইসলামকে দুনিয়বাসীর সামনে কল্যাণময় শান্তিময়,ু মানবাতবাদী ধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্মকে উপস্থাপন করে গেছেন। আজকে যারা ইসলামকে মানবতার ধর্ম হিসেবে সমাজের সামনে উপস্থাপন করছেন তারা বাস্তবে ইসলামের আদর্শ বা মডেল হতে পারেন নাই। তারা ইসলামের কথা মুখে বল্লেও তাদের বাস্তব জীবনে ইসলামের মৌলিক তত্ত্ব, আমল, আখলাক, তাদের কর্মকান্ডে অনুপস্থিত, ইসলামের পথ নির্দেশনার মূল গ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফে আছে,তোমরা নিজে যা কর না, তা অন্যকে করার জন্য বলিও না, যা নিজের জন্য করবে তা অন্যের জন্য পছন্দ কর। খাওয়া,দাওয়া চাল চলনে, উঠা বসায়, প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সকল স্তরে নিজের যা যা, করণীয় কল্যাণ কর তা অন্য মুসলমানদের জন্য পছন্দ গ্রহণ করা আল্লাহর নির্দেশ। আমি পেট ভর্তি করে আহার করব,পাশের লোক না খেয়ে থাকবে,তার পরণে কাপড় নেই,শরীরে জামা নেই,ঘরে ছাল নেই,চাউল নেই,তরি তরকারী নেই,ইজ্জত নিবারণের নু্যুনতম সম্ভ্রম রক্ষার ক্ষমতা তার নেই, সেখানে ধর্মের বানী তার হৃদয় স্পর্শ করবেনা। ধর্মের মূলবানী হচ্ছে মানুুষকে তার মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন ও প্রাপ্তিতে সাহায্য সহযোগীতা করা। মৌলিক অধিকার যদি ধর্ম পালনকারীর না থাকে তাহলে তার নামাজ, রোজা, ইবাদাত বন্দেগী কিছুই হবে না। তার পেটে ক্ষুধা থাকলে নামাজে তার একাগ্রতা,আল্লাহ ভিরুতা আসবেনা। হাজার নামাজ পড়লেও তার নামাজ তার কাছে ও সমাজের কোন কাজে আসবেনা। ইবাদতের পূর্বে ইবাদতকারী মুসলমানের ভিতর বাইরের ফরজ,ওয়াজিব জানতে বুঝতে পালনের জন্য মানসিকভাবে তৈরি হতে হবে। বিশুদ্ধভাবে শিখতে হবে। আয় রোজগারের মধ্যে হালাল হারাম পার্থক্য থাকতে হবে। চাঁদা,ছদকা আলাদা রাখতে হবে। ঘুষ,বেতন,আলাদা করতে হবে,সব টাকা এক সাথে, ঘুষ-বেতন পার্থক্য নেই। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, হালাল, হারাম কোন পার্থক্য নাই। সব কিছুই এক পাত্রে, যে ভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ধর্ম পালন করলাম। তা হলে মনে রাখতে হবে ধরে নিতে হবে এ ইবাদত বন্দেগী কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না,কবুল হবে না। এ সব কিছু ইবাদতের মধ্যে পড়ে না। এ সকল ইবাদাত দিয়ে আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ (সঃ) কে খুশী রাজী,পুরস্কার কিছ্ইু আশা করা যাবে না। আজকের ইসলামী সম্মেলন,ওয়াজ,দোয়া,জিকির তথা সকল ধরনের ইসলামী মাহফিল সমূহ হতে সঠিকভাবে মানবজাতির মুক্তির কথা আসছেনা, ঘুষ,দুুর্নীতি,হালাল,হারামের নসিহত পরিস্কারভাবে আসছেনা। নামায, রোজা, হজ্ব, যাকাত, ঈমান তাওহীদ রেসালাতের বক্তব্য আসছেনা। ফলে সমাজ, জাতি, ন্যায়নীতি আদর্শ হারিয়ে ফেলছে,ইমাম ও মুক্তাদীর আমল সমানে সমান হয়ে গেছে। মুক্তাদী যা খায় ইমাম, খতীব, পীর মুহাদ্দীস, মুফতী ও তা খাচ্ছে, টাকা, অর্থ, খাদ্য হলেই হল, কীসের টাকা, কীসের ব্যবসা থেকে অর্থ দিয়ে মসজিদের মেহরাব করছেন জানেন কী? ইমাম, মুহাদ্দীস, মুুফতী, পীর সাধারণ মুসল্লী সকলেই এখন এক কাতারে, সবার আদর্শ একই, সকলেই সুদ ঘুষের সাথে মিশে গেছি, তাহলে ইবাদাতের কি অবস্থা, কী হবে নামায, রোজা করে? এতিমের হক খেয়ে নামাজ রোজা করলে কী হবে? সম্মেলন, সেমিনার, ওয়াজ, দোয়ার মাহফিলের টাকার মাপকাঠি কী? সেটাও এখন সাধারণ মুসলমানদের প্রশ্ন। সব মিলিয়ে ইসলাম এখন কীভাবে চলছে,কী ভাবে আছে, কোন মাপকাঠিতে ইসলাম ব্যবহার করছি,সেটাও মুসলমান শ্রোতাদের বুঝতে হবে। হালাল হারাম নির্ণয় না করে ইবাদত বন্দেগী করলে সে ইবাদত আল্লাহ পাক কবুল করবেন বলে সে ধরনের কোন কোরআনের উদ্ধৃতি আমার জানা নেই। তবে এ সকল সভা, সমাবেশ, সম্মেলন, ওয়াজ, সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য কী তা মুসলমানদের সামনে আরো পরিস্কার হওয়া দরকার। নিজেকে জাহির করা, নিজের শক্তির জানান দেয়া,অর্থের শক্তি প্রদর্শন করা,ভক্তের লম্বা মিছিল প্রদর্শন করা, না কী অন্য কিছু, এ সকল সভা সম্মেলন মাহফিল থেকে জনগণ মুসল্লী,শ্রুতাগণ কী নিয়ে ঘরে ফিরছেন তা কী আয়োজকগণ কখনো ভেবে দেখছেন? মুসলমানদেরকে ঈমানের বলে শক্তিমান করা,ইবাদতের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা, আল্লাহ ও রাসূলের নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা এসব কী সম্মেলনে পাওয়া যায়? মানবতার মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের কথা এ সকল সভা সমাবেশে থাকতে হবে। বিশ্ব মানবতা কী চায়, কী এখন প্রয়োজন, কীভাবে তা এখন বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটার সঠিক দিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন দুনিয়ার মুসলমানগণ চায়। গতানুগতিক সম্মেলন,সেমিনার,ওয়াজ বক্তৃতা মুসলমানগণ শুনতে আগ্রহী নয়। মুসল্লীদের শুনাতে হবে ঐক্য ভ্রাতৃত্ব আনুগত্য,শৃংখলা,দুর্নীতি,ঘুষ,সুদ,হালাল,হারাম,সম্পর্কৃত ওয়াজ তাকরির। আজকের দিনে মুুসলমানদেরকে বেশী বেশী করে শুনতে হবে যে বাণীসমূহ তা হল পারিবারিক,সামাজিক,রাষ্ট্রীয়,শান্তি,শৃংখলা রক্ষার কথা,ভ্রাতৃত্ব,ঐক্য,সামাজিক,অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা,সমাজে পরিবারে নানাভাবে আজকে ভদ্র,গুনিজন,শিক্ষক,ইমাম,খতীব,মুহাদ্দিসসহ,সম্মানিত মানুষগুলোর সম্মান হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় শিক্ষক,ডাক্তার,বয়স্ক সমাজপতি ও সমাজ নেতাদের খুবই ইজ্জত সম্মান ছিল, এমন সমাজে আজকের শিক্ষিত অশিক্ষিত তরুন তরুনীরা বড়দের ইজ্জত সম্মান দিতে কম দেখা যায়,পর্যায়ক্রমে সেটা নি¤েœ নেমে আসছে। সমাজে আলোকিত জ্ঞানী গুণীজনের কদর না হলে আগামীতে নতুন করে আলোকিত জ্ঞানী মানুষের সৃষ্টি হবে না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শিক্ষকদের সালাম,আদব শৃংখলা দেখাতে,রাস্তাঘাটে তাদের আচার ব্যবহারে খুশী হত, মুরুব্বীদের কথায় ভাল কাজে সাড়া দিত, এখন সেটা কম দেখা যায়। এ সকল আদর্শ এখন প্রায় শূণ্যের কোটায়, যুবক, যুবতী এখন উশৃংখল বেপরোয়া। শিক্ষক, অভিভাবক, মুরুব্বী কারো কথা শুনছেনা। এ সকল বিষয় ওলামাদের ওয়াজ নসিহত,বক্তৃতায়,সেমিনার ক্লাসে রাখা দরকার। সার্টিফিকেট, এ প্লাস, ক্লাসে এক নম্বর এর সাথে মানবিক ও চারিত্রিক গুনাগুন যুবকদের মাঝে সৃষ্টি না হলে সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃংখলা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা কিছুই থাকবে না। গতানুগতিক ওয়াজ সম্মেলন মহা সম্মিলন একে অপরের সমালোচনা,গালমন্দ,অতিরিক্ত রাজনীতি শ্রুতাগন শুনতে শুনতে কানভার হয়ে গেছে। এ কথা গুলোর সুফল ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রভাব ফেলছে বলে মনে হয় না। তার পরও এসব বক্তব্য, তাফসির সম্মেলনের নামে সাধারণ মানুষদের শুনানো হচ্ছে। এসব শুনার কোন ফল সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে না। একদল অন্যদলের সমালোচনা, সুন্নী, ওহাবী এক অপরকে কঠোরভাবে ইসলামের নামে যে সকল বক্তব্য শুনা যায় তাতে করে মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট হওয়া ছাড়া অন্য কোন ধর্মীয় লাভ দেখা যায় বলে মনে হয় না। সম্মেলনের আয়োজকদের বিরাট অংকের অর্থের খরচে এ সকল সম্মেলনে উপকারের চেয়ে অপকার কম নয়। নানাভাবে অর্থের অপচয় লক্ষণীয়,এখান থেকে মানুষ সঠিক ভাষা দ্বীনের শিক্ষা গ্রহনের চেয়ে বিরুপ মন্তব্য ও ধারণা নিতেও দেখা যায়,ইসলামের মৌলিক বিষয়ের উপর কথা না বলে কোরআন ও হাদীসের বাইরের কথা বেশী হয়। মুসল্লীগণ চায় মাহফিল সমূহে নবীর সুন্নত, ফরজ, ওয়াজিব, হাদীসের প্রকৃত অনুসরণ অনুকরণ, ইহ ও পরকালীন শান্তি ও সুখের বক্তব্য আসুক, অন্যকে আঘাত না করে শালিনতার মাধ্যমে কোরান হাদীসের বক্তব্য পেশ করা হউক, মানবতার প্রতি মানবতার দায়িত্ব শৃংখলায় ভ্রাতৃত্ববোধের কথা বলা হউক। সামাজিক ন্যায়নীতি ঘুষ, দুর্নীতি, সুদ মাদকের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হউক,হালাল ও হারামের মাফকাঠি,সত্য মিথ্যা, আয় ইনকাম, দান খয়রাত, যাকাত ফিতরা, চাঁদা দান প্রদানের কথা আসুুক, সুদ ঘুষের অর্থ দিয়ে দ্বীনের কাজ সহীহ ও শুদ্ধ বিশুদ্ধ কবুল হবে কিনা তাও বিশুদ্ধভাবে বলা দরকার,কিসের টাকায় কিসের অর্থে মাদ্রাসা, মসজিদ নির্মান হচ্ছে, হাদিয়া, হুজুরের ওয়াজের টাকা,ইমাম খতীবদের বেতন ভাতা, মসজিদ নির্মাণের অর্থ কোন ফান্ড থেকে মুসলমানগণ দিচ্ছে তার কোন হিসাব নিকাশ সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ করছেন কিনা আমার জানতে ইচ্ছে করে, যদি করে থাকেন ভাল কথা। না করে থাকলে ঐ সকল অপবিত্র অর্থ দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ সম্মেলন মাহফিল করা বৈধ কিনা সেটা প্রশ্ন রাখলাম পাঠকদের প্রতি। এতীমদের অর্থের টাকা দিয়ে মাদ্রাসা নির্মাণ করা বৈধ কিনা তাও পরিস্কারভাবে মুসল্লীদের সামনে বলা দরকার, এসকল বিষয়ে গরমিল ও ভেজাল করে ওয়াজ,বয়ান ও বক্তৃতার মাধ্যমে মুসলমানদের হেদায়াত বা সঠিক রাস্তার সন্ধান দেয়া সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। তাই আজকের দিনে দুনিয়ার সকল পণ্যের ভেজালের সাথে ইসলামের অনুসারী অনুকরণকারী উপস্থাপনকারী আলেম ওলামাদের মধ্যে কতিপয় আলেম, ইমাম ইসলাম ও সুন্নাত ওয়াজিবের মধ্যে ভেজাল কথাবার্তা, হাদীস বানী পরিবেশন করে মুসলমানদেরকে প্রকৃত ইসলামী আদর্শ সুন্নাহ হতে দুরে নিয়ে যাচ্ছে,বিল্ডিং ঘর,পাঠদানের নাম ইসলাম নয়, ইসলাম হচ্ছে শিক্ষা, গ্রহণ, অনুসরণ অনুকরণ বাস্তবায়নের নাম। ঘর আছে,বিল্ডিং আছে, শিক্ষা আছে,বাস্তবায়ন নাই। সেটাকে কখনো নবীর আদর্শ ও ইসলাম বলা যাবে না। মহান ইসলাম থেকে সরিয়ে আজকে মুসলমানগণ দুনিয়ার যাবতীয় আরাম আয়েশ,ভোগ বিলাসে মত্ত্ব হয়েছে। ইসলামের মর্মবাণী,মানুষকে ভালবাসা মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত হওয়া, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানাদেশ আজ মুসলমান তথা মানবতা আজ বিপন্ন, খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা,আবাসন শিক্ষায় সব পর্যায়ে অনেক পিছিয়ে আছে এ মুসলিম জাতি। এ জন্য পৃথিবীর মুসলমানদের মাঝে যারা সামর্থ্যবান তারা মুসলমানদের সাহায্য সহযোগীতায় এগীয়ে আসছেনা। অর্থ সম্পদে পৃথিবীর নানা মুসলীম দেশ স্বাবলম্বী হলেও তাদের অর্থ হতে দুর্বল ও দুস্থ বিশ্বের মুসলমানগণ উল্লেখযোগ্য সাহায্য সহযোগীতা পাচ্ছে না। বিপন্ন মুসলমান মানবতার পাশে ধনী মুসলমানের এগীয়ে আসছেনা। অথচ এটা ইসলামে ফরজ করা হয়েছে। এক মুসলমানের সামনে অপর ঈমানদার মুসলমান নির্যাতিত, তার কোন খবর দায়িত্ব ঐ মুসলমানদের কাছে নেই। দুনিয়ার সামর্থ্যবান ক্ষমতাবান মুসলমান জাতি যদি পৃথিবীর পিছিয়ে পড়া মুসলমান সমাজে সাহায্যে এগীয়ে আসত তাহলে দুনিয়ায় এ জাতি এত পিছনে ও নির্যাতনের সম্মুখীন হত না। এসবের কারণে আমাদের সমাজে দেশে বিদেশে মুসলিম সমাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ে আছে। জাতীয় আন্তর্জাতিক এ সকল বিষয়ের উপর পরিচ্ছন্ন পরিস্কার বক্তব্য বিবৃতি দেশে প্রচলিত সম্মেলনে সেমিনারে আসা দরকার। বাংলাদেশ অনুন্নত উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে আছে। বছরে যে পরিমান অর্থ সম্মেলন, সেমিনার, মহাসমাবেশের জন্য খরচ করা হয়, এ অর্থ দিয়ে দেশের পিছিয়ে পড়া মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষায় বিজ্ঞান ও টেকনোলজীতে খরচ করলে মুসলিম পরিবারের অনেক ছেলে মেয়ে উপকৃত হত এবং জাতীয় আন্তর্জতিকভাবে আরো এ জাতিকে এগিয়ে নিতে পারত। প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়ের প্রতি চিন্তা প্রয়োজন,অপ্রয়োজন বিষয়ের উপরে লক্ষ্য করে আয়োজকগণ সেমিনার সম্মেলনের আয়োজন করলে মুসল্লীগণ উপকৃত হবে। নাম, খ্যাতি, অর্থ এ সকল বিষয়কে সামনে না এনে মুসলিম জাতির বৃহত্তর উপকার ঐক্য শৃৃংখলার আলোকে আগামীতে এ সকল সভা, সেমিনারের কর্মসূচী প্রনয়ন বাস্তবায়ন বর্তমান দুনিয়ার মুসলীম সমাজের অন্যতম দাবী। লেখক: সংগঠক, গবেষক, কলামিষ্ট, mh.hoqueansari@gmail.com

Leave a Reply