চট্টগ্রামে একুশে বইমেলা সম্পন্ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, বাঙালি কখনো মাথা নত করেনে এবং কখনো করবে না। এই চেতনায় বাঙালির রাষ্ট্রীয় স্বাধীনস্বত্ত্বা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নজরুল স্কয়ার ডিসি হিল প্রাঙ্গনে ১০দিনব্যাপী একুশে বইমেলা ও একুশ পদক প্রদানকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। তিনি আলো বলেন ভাষা অধিকার আন্দোলন, নানান ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব ইতিহাসে এটা বিরল ঘটনা। তাই ভাষা আন্দোলনে বিশ্বের মুক্তিকামী জনতার মুক্তির সংগ্রামের প্রেরণা উজ্জীবিত হয়েছে। তিনি নতুন প্রজন্মকে বাঙালির সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাতৃভাষাই আমাদের শিখড়মুখী করতে পারে। তবে মাতৃভাষার পাশাপশি অন্যান্য ভাষা প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, ষোড়শ শতকে যখন শেক্সপীয়ার তাঁর রচনাগুলো লেখেন তখন ইংরেজী ভাষার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ লাখ। এখন বিশ্বে ইংরেজী জানা মানুষের সংখ্যা ২শত কোটি। এর পরও অন্যভাষা হারিয়ে যায় নি। ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, ইতালীতে ইংরেজির প্রচলন নেই। তারপরও তারা উন্নত জাতি। তাই ইংরেজী কোনভাবেই অপরিহার্য নয়। বিশেষ অতিথির ভাষণে উপন্যাসিক কাইয়ুম নিজামী বলেন বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষরের মাঝে ভাষা শহীদরা মিশে আছে। ভাষা শহীদদের মত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। সভাপতির ভাষণে একুশ মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ওমর ফারুক বলেন এখনও বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার জন্য একটি মহল তৎপর রয়েছে। যার ‘৫২’ দেখেনি ‘৭১’ দেখেনি তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানানো আমাদের সকলের কর্তব্য। মেলা পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব সংস্কৃতিকর্মী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা মেলা পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শওকত আলী সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল আহমেদ, প্রকৌশলী বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান ফেরদৌস, সমাজসেবক হাজী মো: সাহাব উদ্দিন, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশ মেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ভাষা সৈনিক কৃষ্ণপদ সেন (কালা চাঁন্দ), শিক্ষাবিদ ও লেখক শামসুল আলম সাইদ (মরণোত্তর), উপন্যাসিক কাইয়ুম নিজামী পুঁথি সংগ্রাহক ও গবেষক ইছহাক চৌধুরীর হাতে একুশে পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত তিনজনের মধ্যে সকলেই তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুভূতি প্রকাশকালে তারা লেখালেখির কর্মকান্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে চান। অনুষ্ঠান শেষে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ উদিচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা, বসুন্ধরা শিল্পী গোষ্ঠী, দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন দ্যা স্কুল অব ফোক ড্যান্স। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রমা আবৃত্তি পরিষদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী সিব্বির আহমেদ বাহাদুর, সায়মান শাহাদাত, কবি সজল দাশ, প্রকৌশলী বিজয় চক্রবর্ত্তী, হানিফুল ইসলাম হানিফ, প্রদীপনন্দী, মো: সেলিম, আবুল হোসেন, আসিফ ইকবাল, ইমরান সোহেল প্রমুখ।

Leave a Reply