চট্টগ্রামে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

নিউজগার্ডেনডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, সোমবার: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও বহুমুখী উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। এ জন্য প্রত্যেককে আন্তরিক হতে হবে। তাহলে জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পাবে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসি বলেন, চট্টগ্রামের জন্য হালদা নদীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। গতানুগতিক কাজ করলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য একে অপরের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। সভায় উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিসি বলেন, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডে ইট তৈরির কাজে কয়লার পরিবর্তে বনজ কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে পাহাড় তার নান্দনিক সৌন্দর্র্য হারাচ্ছে। এক শ্রেণীর ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী বনদস্যুদের সাথে যোগসাজসে বনজ কাঠ কেটে রাতের অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে অভিযুক্ত ব্রিকফিল্ড গুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বিধ্বস্ত হওয়া সড়ক, কালভার্ট-সেতু মেরামতকরণ, নদীর ভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, হাসপাতালগুলোতে রোগীর সেবা নিশ্চিতকরণসহ ডাক্তার ও নার্স সংকটের সমাধান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুকুর রহমান সিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের সিইও দীপক রঞ্জন অধিকারী, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা, উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল (রাউজান), আবদুল জব্বার চৌধুরী (চন্দনাইশ), নুরুল আবছার (লোহাগাড়া), মাহবুবুল আলম চৌধুরী (হাটহাজারী), এম তৌহিদুল আলম (ফটিকছড়ি), মোজাফফর আহমদ (পটিয়া), মো. জহিরুল ইসলাম (বাঁশখালী), এস এম তৌহিদুল হক (আনোয়ারা), উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু চাহেল তস্তুরী (বাঁশখালী), দীপক কুমার রায় (ফটিকছড়ি), লুৎফর রহমান (চন্দনাইশ), জোনায়েদ কবির সোহাগ (রাউজান), মোহাম্মদ ফিজনুর রহমান (লোহাগাড়া), মোহাম্মদ উল্যাহ (সাতকানিয়া), গৌতম বাড়ৈ (আনোয়ারা), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলমগীর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আ স ম রেজাউন নবী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বজলুল হক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলমগীর, দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফায়েল মিয়া, চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন, কৃষি সম্প্রচারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী, সিএমপি’র এসি (ইন্টেলিজেন্স) মো. কাজেমুর রশিদ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পটিয়া (চট্টগ্রাম)-এর জিএম এ.এইচ.এম মোবারক উল্লাহ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাউজান (চট্টগ্রাম)-এর জিএম মো. আবু বকর সিদ্দিকী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম)-এর জিএম একেএম শামসুদ্দিন চৌধুরী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বন্দনা দাশ, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জনা ভট্টাচার্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষা অফিসার নাসরিন সুলতানা, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার, উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আবদুল ওয়াদুদ, দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ও বোয়ালখালী পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু প্রমুখ। সভায় সরকারের বিভিন্নস্তরের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply