বান্দরবানে থানচিতে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবিবার: বান্দরবানের থানচি উপজেলায় এক বাঙ্গালী যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, গত ৬ই ফেব্রুয়ারী প্রভাবশালী চিংক্য ¤্রাে ’র ছেলে ও থানচি ৩নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাংসার ¤্রাে’র আপন চাচাতো ভাই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা রেংচিং ¤্রাে ,থানচি টিএন্ডটি পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ওরফে লেদাইয়া’কে মানিব্যাগ চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থানচি বাজারের সিঁড়ির পাশে বটগাছের নিচে বেধড়ক মারধর করে। পরে নুরুল ইসলাম আহত অবস্থায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহন করলে ৯ই ফেব্রুয়ারী তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে তার পরিবারের লোকজন চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করায়। গত ১৮ই ফেরুয়ারী শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। ময়নাতদন্ত শেষে থানচিতে তাকে দাফন করানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি থানচি থানায়।
এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই আবদুস সালাম জানান, আমার ভাইকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থানচি বাজারে পাশে বটগাছের নিচে মারধর করলে ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেটে ফুলে যায়। যেহেতু ৯ তারিখ ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল তাই তাকে কোন রকম প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে রাখা হয়েছিল। বিয়ের পরপরই তাকে অবস্থা খারাপ দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়। এরপর তিনি মামলা করার জন্য থানায় যাবার কথা স্বীকার করে বলেন, হত্যাকারীরা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের চাপের মুখে এবং পুলিশের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তার কোন রকম সহায়তার আভাস না পাওয়ায় মামলা না করেই ফিরে আসেন। এছাড়া রবিবার সকালে থানচি উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো আপোষের প্রস্তাব নিয়ে নিহতের পরিবারের কাছে যাবার কথাও বলেন নিহতের ছোট ভাই।
থানচি উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো জানান, ঘটনাটি আমরাও শুনেছি। তবে ব্যাপারটি নিয়ে বিকালে বৈঠক হবার কথা রয়েছে। এসময় তিনি নুরুল ইসলামের বাড়িতে আপোষ করার প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে থানচি উপজেলার ৩নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাংসার ম্রো জানান, রেংচিং ম্রো আত্মীয় সর্ম্পকে আমার ছোট ভাই। সে লেদাইয়াকে ৬তারিখ মারলেও সে পুরুপুরি সুস্থ্য ছিল। ৯তারিখ সে অন্যকোন রোগে অসুস্থ্য মারা যেতে পারে। তারপরও আমরা স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা করছি।
এব্যাপারে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোন রকম অভিযোগ আমরা পাইনি। মানিব্যাগ চুরি হলে থানা পুলিশ আছে, আইন আছে। কেউতো মারধর করে আইন হাতে তুলে নিতে পারেনা। ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কি কারনে মারা গেছে তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছেনা। আমরা অবশ্যই এর জন্য প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেব। এর মধ্যে আমি থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।
থানচি উপজেলার চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, ময়না তদন্ত হয়েছে। এখনো পুরুপুরি বলা যাচ্ছেনা এটি হত্যাকান্ড কিনা। তবে আজ বিকালে সকলকে নিয়ে বসার কথা আছে।
এ বিষয়ে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবদুস সাত্তার বলেন, যেহেতু কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি তাই আমি মামলা নিতে পারিনি। এবিষয়ে কেউ মামলা করার জন্য আমার কাছে আসলে আমি এক মিনিটের মধ্যেই মামলা নেব।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে থানচি উপজেলায় সকলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Leave a Reply