প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি উদ্বোধন করবেন ১ মার্চ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, শুক্রবার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবে। আগামী ১ মার্চ এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন গণভবন থেকে টুঙ্গীপাড়া, পীরগঞ্জ ও পার্বতীপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এটি সারাদেশে বিস্তৃত হবে।
শুক্রবার দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া হৃদয়নাথ স্কুল ও কলেজ মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক ও মা সমাবেশে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আকরাম-আল- হোসেন। তিনি বলেন, শিশুদের বিদ্যালয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উপবৃত্তির এই টাকা সরাসরি যোগ হবে তাদের মায়ের ব্যাংক হিসাবে। মোবাইল ব্যাংকিংএর মাধ্যমে এই টাকা পাঠানো হবে এই হিসাবে। এই প্রকল্পে মোট খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ৬৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
মেয়েদের স্কুলে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে গত শতকের ৯০ দশক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের মধ্যে উপবৃত্তি বিতরণ শুরু হয়। এই কর্মসূচিকে ব্যাপক সফল হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার। ধারণা করা হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়া কমেছে যে কয়টি কারণে, তার একটি এই উপবৃত্তি।
সরকার ভাবছে, প্রাথমিকেও এই কর্মসূচি চালু হলে শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুলে নিয়ে আসার পাশাপাশি পড়াশোনায় তারা অনেক বেশি মনযোগী হবে। এতে বিশেষভাবে উপকৃত হবে নিম্ন আয়ের মানুষরা।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা চাই শতভাগ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে। একটি শিশুও যেন ঝরে না পড়ে, সেটিও আমাদের ভাবনায় রয়েছে। আমরা মনে করি এই প্রকল্পটি আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে ‘
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুন থেকে কার্যকর ধরা হবে। এই সময়ের বকেয়াও পরিশোধ করা হবে। প্রতিটি শিশু প্রতি মাসে পাবে ১০০ টাকা। আর একই পরিবারে তিনটি শিশু থাকলে সম্মিলিতভাবে দেয়া হবে ২৫০ টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আকরাম-আল-হোসেন শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষায় দীক্ষিত করতে মাদেরকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ‘শিশুদের প্রথম শিক্ষক হচ্ছেন মা। প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে জাতীর ভিত্তি। এই ভিত্তি সুদৃঢ় করতে মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মা ও শিক্ষকসহ সবাই তাদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে। উন্নত সমৃদ্ধ ও মেধা সম্পন্ন জাতি গঠনে তৈরি হবে আগামী দিনের নেতৃত্ব।’
সারাদেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৫ হাজার শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হবে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব।
মাগুরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রোস্তম আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমীন, পিটিআই সুপারিটেন্ডেন্ট বাদল চন্দ্র রায় প্রমুখ।

Leave a Reply