পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধে গরু ও খাসীর মাংস বিক্রি বন্ধ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, শুক্রবার: গরুর মাসং বিক্রি বন্ধ সোমবার থেকে, তাই ক্রেতাদের চাপ মুরগির মাংস আর মাছের ওপর। আর চাহিদা বাড়ায় বেড়ে গেছে দাম, সেটিও কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর চারটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
পথে পথে চাঁদাবাজি হয়, এমন অভিযোগ তুলে এবং বিভিন্ন দাবি আদায়ে গত সোমবার থেকে গরু ও খাসীর মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছে মাংস ব্যবসায়ী সমিতি। তাদের এই কর্মসূচি চলার কথা আগামী শনিবার পর্যন্ত। তাদের এই কর্মসূচি বাজারে প্রথমদিন একদিন তেমন প্রভাব না পড়লেও মঙ্গলবার থেকে বাজারে প্রভাব পড়ে। কারণ, রাজধানীতে বিভিন্ন খাবার হোটেল বা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় রান্নার ক্ষেত্রে মাংসের ওপর নির্ভরশীল বহুমাত্রায়।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গত সপ্তাহে এক কেজি ব্রয়লার মুরগির পাওয়া যেত ১৩০ টাকায়। আর সেই মুরগির দাম এখন ১৬০ টাকা। আর লাল মুরগির দাম ছিল ১৬০ টাকা কেজি। সেটি এখন ১৯০ টাকা। আর দেশি মুরগি ছোটখাটো একটির দাম নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা, যেটা গত সপ্তাহেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরুর মাংস না থাকায় মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার কারণে দাম বেশি নিতে হচ্ছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দামের এই তারতম্য।
মুরগি বিক্রেতা আবদুল বাতেন জানান, গরুর মাংস বাজারে না থাকায় মুরগির মাংসের দিকেই ক্রেতারা বেশি ঝুঁকছেন। এর ফলে মুরগির বাজারের উপর চাপ পড়ছে। দাম বেড়ে যাচ্ছে। ধর্মঘট শেষে গরুর মাংস চলে আসলে এই অবস্থা থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

মালিবাগ বাজারের হারুনুর রশিদ জানান, ‘গরুর মাংস বাজারে নাই দেইখ্যা আমগো দোকানে চাপ বেশি। তাই দামডা এমনেই বাইড়া গেছে।’
এ অবস্থায় খুশি মুরগি ব্যবসায়ী করম আলী। তিনি বলের, ‘মুরগির বাজার এখন বেশ গরম। বেচাবিক্রি চলছে ধুমধাম। এ অবস্থা চলতে থাকলেই ভাল।’
রামপুরা বাজার ঘুরে দেখো গেছে, ১৫০ টাকার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। আর মালিবাগ ও খিলগাঁও বাজারে এই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে তবে হাতিরঝিল ও মধুবাগ বাজারে ১৫০ করেই বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই দামেই মুরগি বিক্রি হতো।
খিলগাঁওয়ের জুবায়ের আল আবদুল্লাহ, মালিবাগের মোয়াজ্জেম হোসেন, কারওয়ান বাজারের মো. আলাউদ্দিন ভুঁইয়াকে মুরগি কিনতে এসে কিছুটা বিরক্ত দেখা যায়। তারা বলেন, ‘কশাইগো দোকান বন্ধ, সুযোগ নিচ্ছে মুরগির ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজিতে তারা ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বাড়াইসে।’
বাজারে না পাওয়া গেলোও অবশ্য সুপার শপে পাওয়া যাচ্ছে গরু-খাসীর মাংস। তবে সেখানে দাম বেশি। এমন একটি বিপনী বিতান স্বপ্ন। সেখানে শুক্রবার গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকায়। মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের আগে গরুর মাংসের দাম ছিল ৪৮০ টাকা।
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সংবাদ সম্মেলন
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, তারা শনিবারের পর থেকে নতুন কোনো কর্মসূচি দিচ্ছেন না। তারা আশা করছেন আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে।
গাবতলী গরুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে অপসারণসহ চার দফা দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে।

রবিউল জানান, রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তাদের বৈঠক। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়া হবে আশা করছেন তারা।
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির এই নেতা বলেন, ‘দাবি মানা না হলে এরপর ধর্মঘট হবে সারা দেশে। আর সব দাবি পুরোপুরি মানলে মাংসের কেজি ৪০০ টাকার নিচে নেমে আসবে বলে আমি আশা করি। আর কয়েকটি দেশ থেকে ঠিকঠাক মত বৈধ পথে গরু আমদানি করা গেলে এই দাম নেমে আসবে ৩০০ টাকার নিচে।’
ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল বারেক ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply