ঐতিহাসিক ঈদে আজম সম্মেলন সফল করতে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, শুক্রবার: চট্টগ্রামের মিরসরাই মস্তানগর রহমানী দরবার শরীফে অলিকুল স¤্রাট হযরতুল আল্লামা সৈয়দ শাহ গোলাম রহমান এছমতী (রহ.) এর ৫৬তম ওরশ মোবারক ও ঐতিহাসিক ঈদে আজম মহান সুন্নী সম্মেলন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে আনজুমানে ইখ্ওয়ানে মা’রেফাত ট্রাস্ট বাংলাদেশ। শুক্রবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মস্তাননগর রহমানীয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা আ ম ম শফিউল আলম শফিনগরী নিজামী। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সুন্নী সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায়

৬ লক্ষাধিক আশেক ভক্ত উপস্থিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আনজুমানে ইখ্ওয়ানে মা’রেফাত ট্রাস্ট বাংলাদেশ এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা শেখ বশিরুল আলম নিজামী। উক্ত সম্মেলনে পীরে কামেল, শাইখুল হাদিস আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ ছাইফুর রহমান নেজামী শাহ সাহেব ছদারত করবেন বলে জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ শফিনগরী বলেন, ‘বড় হাফেজ এছমতী (রহ.) বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের উত্তর ইছাখালী গ্রামে ১৮৬৬ সালে স¤্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তফছিরে কোরআন, হাদিস, ইলমে ফিকাহ, তাছাউফ ও ইলমে তিব এ তাঁহার অসাধারণ জ্ঞান ছিল। তিনি ৭৫ বছর যাবত অবৈতনিকভাবে দরসুল কোরআন ও ইসলামিক শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখেন। জীবনের শেষ ৫০ বছর সফর বন্ধ করে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। তাহার জীবদশায় পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে খেলাফত লাভ করেন পীরে কামেল, শাইখুল হাদিস আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ ছাইফুর রহমান নেজামী শাহ সাহেব। যিনি ইসলামের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এ কার্যক্রম শুধু দেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তাসাউফ ভিত্তিক ইসলাম প্রচারে তিনি ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান,রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবদেশে ত্বরিকত প্রচার করছেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন স্থানে সুন্নীয়ত ভিত্তিক মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকা ও মানব কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র বাংলা ভাষায় কোরআনের পূর্ণাঙ্গ তাফসির, তাফসিরে মাশাহেদুল ঈমান, বিশ্ব বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ সহিহ বুখারী শরীফের শরাহ তাফহীমুল বুখারী এবং খুতবাতুর রহমানীয়াসহ শতাধিক কিতাব প্রনয়ণ করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্পূর্ণরূপে শরীয়ত সম্মত অলিদের পবিত্র ওরশকে হারাম বলে অবেধ ফতোয়াবাজি করাটা ধর্মীয় মুর্খতা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদকে বিশ্বাস করে না। ইসলামের নামে মানুষ হত্যা, বোমাবজি করা কোন ধর্ম নয়। বর্তমান ইনসানিয়াত বা সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার পূণঃপ্রবর্তক তথা মুসলিম মিল্লাতের মহান ঈমাম, ইমাম হায়াত আলাইহি রাহমা এর মতে দুনিয়া ব্যাপী বাতিল-জালিম অপশক্তির বিনাশী গ্রাস থেকে আত্মা ও জীবনের মুক্তি এবং সত্য ও মানবতার সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার সাধনায় আওলিয়া কেরামের দিকদর্শন। এ মহান বাণীকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আনজুমানে ইখওয়ানে মারেফত বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছেন। আর এর অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঝাকঝমকভাবে উদযাপন হবে মহান ৭ ফাল্গুন ওরশ মোবারক ও ঐতিহাসিক ঈদে আজম মহান সুন্নী সম্মেলন।
তরুণ ও যুব সমাজকে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে এ ধরণের সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উদ্যোগে সারা দেশে করার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা বশিরুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববাসীর কাছে আমরা ইসলামের প্রকৃত বাণী ছড়িয়ে দিতে চাই। কারণ একটি মহল ইসলামের ভুল ব্যাখা দিয়ে তরুণ ও যুব সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। জিহাদের নামে উগ্রবাদী কর্মকান্ডে নিয়ে যাচ্ছেন। হাতে তুলে দিচ্ছে অস্ত্র ও বোমা। যার ফলে সারা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই রাষ্ট্রকে এ ধরণের কর্মকা-ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সম্মেলনের দিন আশেক ভক্তদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মুফতি মাওলানা শেখ মুহাম্মদ বশিরুল আলম, এস এম সানাউল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ সোহরাব হোসাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ ইউসুফ জহির, আবদুর রহিম, শেখ আসাদ প্রমুখ।

Leave a Reply