বাইপোলার ডিসঅর্ডারের কারণ হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, বৃহস্পতিবার: কথায় কথায় রাগ করেন। চিল-চিৎকার করেন। মেজাজ খিটখিটে। হতাশায় ভুগছেন। এর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, হাই ব্লাড প্রেশারের চিকিৎসায় সর্বাধিক ব্যবহৃত চারটি ওষুধেই লুকিয়ে আছে বিপদ।
উদ্বেগজনক হারে হতাশা বৃদ্ধি কিংবা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের কারণ হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ। শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি প্রায় সবারই চিন্তা-উদ্বেগের বিষয় হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি অনেকটাই অবহেলিত। ওষুধ দিয়ে হাই ব্লাড প্রেশারে রাশ টানার চেষ্টা করতে গিয়ে ভেঙে পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি।
হাইপারটেনশনের শিকার প্রায় দেড় লাখ রোগীর ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। এই রোগীদের ওষুধের তালিকায় ছিল অ্যাঞ্জিওটেনসিন অ্যান্টাগনিস্টস, বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার কিংবা থিয়াজাইড ডায়ুরেটিকস। একইসঙ্গে নজর রাখা হয় এমন আরও লক্ষাধিক হাই বিপি-র শিকার রোগীর ওপর, যাদের লিস্টে ওই চারটি ওষুধ ছিল না।
প্রায় পাঁচ বছর কড়া নজরদারির পর উঠে আসে চাঞ্চল্যকর ছবি। এই সময়কালে যাঁরা ওই নির্দিষ্ট চারটি ওষুধ নিচ্ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেককেই গভীর হতাশার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বিটা ব্লকার এবং ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার দিয়ে যাদের চিকিৎসা চলছিল, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনে ভোগার প্রবণতা বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ হারে। ঘনঘন মেজাজ বদল, খিটখিটে ভাব ধরা পড়ে।
এসব রোগীর মধ্যে তুলনামূলক কম প্রভাব থিয়াজাইড ডায়ুরেটিকস, অ্যাঞ্জিওটেনসিন অ্যান্টাগনিস্টস ওষুধের। শরীরের অসুখ সারানোর ওষুধে, মনের অসুখ গভীর হয়ে চেপে বসলে বিষয়টি অবশ্যই চিন্তার। শুধু রোগীদের নয়, একথা ভাবাচ্ছে ডাক্তারদেরও।

Leave a Reply