প্রাথমিক শিক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে নিজেদের ঠিক হতে হবে: দুদক চেয়ারম্যান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, বৃহস্পতিবার: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, শিক্ষকদের পেনশনের কাগজপত্র প্রস্তুত করতে, শিক্ষকদের বদলি, নারী শিক্ষকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি, অর্জিত ছুটি নিতেও শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয় এমন পাহাড়সম অভিযোগ আমার অফিসে জমা পড়েছে। আগামী ৩ মাস সময় দিলাম। এর মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষায় কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে আত্মশুদ্ধ হয়ে শুধরে নিতে হবে। এরপরে যাতে আর কোন অভিযোগ না আসে সেদিকে লক্ষ্য রেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে কাজ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে নিজেদের ঠিক হতে হবে। সন্তানদের নিজের মনে করে প্রত্যেক শিক্ষককে ক্লাসে বসে মানসম্মত পাঠদানে উদ্বুদ্ধ করে জাতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপহার দেবেন এটা সকলের কাম্য। দুর্নীতির মামলায় জড়িত অভিযুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আসতে হয়েছে। কেন ঘুষ খাবেন, ঘুষ নেবেন, তা হতে নিজেদের বিরত থাকতে হবে। ঘুষ খাবেন না, দুর্নীতি করবেন নাÑ এ রকম নেতৃত্ব চাই। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষাকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
আজ ১৬ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম নগরীর আইসফ্যাক্টরি রোডস্থ পিটিআই অডিটরিয়ামে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিতকরণে চট্টগ্রাম বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসহ কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকৃত ফলাফল পরিবর্তন করা, কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মেধা তালিকায় ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম স্থানে উন্নীত করে ফলাফল কারচুপি করারও অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে মনোনয়নের জন্য আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিক্ষক পাঠদান না করে বাইরে পড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত কাজে লিপ্ত থাকে, এক্ষেত্রে ঐ শিক্ষকের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকার প্রবণতার অভিযোগ রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে দুদক চেয়ারম্যান প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি এ অভিযোগ মানেন?’ শিক্ষা কর্মকর্তারা উত্তরে বললেন ‘না’।
এরপর দুদক চেয়ারম্যান বলে ওঠেন, ‘তাহলে এ অভিযোগ দুদক অফিসে কিভাবে আসলো’? প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যানের মতবিনিময় উপস্থিত শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ইকবাল মাহমুদ বলেন, যদি তাই হয়, ৪ বছরের ক্লাস্টারে কোন পরিদর্শন হয়নি কেন। আপনাদের কারও কাছে কোন জবাব নাই। চাকরি নয়, শিক্ষার মিশন নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের মোটর সাইকেলের প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। সীমবাদ্ধতার মাঝেও শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি জানি শিক্ষকরা সবাই সৎ, নিষ্ঠাবান। জাতি প্রাথমিক শিক্ষার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে না পারলে এদেশের ভবিষ্যত অন্ধকার। অন্যের কাছে জবাবদিহি করার চেয়ে নিজের কাছে জবাবদিহি করা সম্মানের। আমি আগামী ৩ মাস অপেক্ষা করবো। সময় দিতে চাই ৩ মাস। এর মধ্যে যারা জড়িত আছেন, শুধরে নিতে তাদের সময় দেওয়া হচ্ছে। এই ৩ মাস আমি এ সেক্টরে হাত দিতে চাই না। আমি চাই প্রাথমিক শিক্ষকদের মাধ্যমে একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে উঠুক। শুধু মানুষ নয়, স্বশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি’র সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রামের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষিকেশ শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বিল্লাহ। সভার সভাপতি ও প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম পিটিআই সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, কুমিল্লার পিটিআই সুপার হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বনিক, লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, বান্দরবানের সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার রিটন কুমার বড়–য়া, কুমিল্লার আলীগঞ্জের পিটিআই সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কুমিল্লা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রফিক, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার হেমায়েতুল ফারুক ভূঁইয়া, মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ইন্সট্রাক্টর মো. মাঈনুদ্দিন, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর দিলরুবা জাহান, কুমিল্লার তিতাসের সহকারী থানা ইন্সট্রাক্টর খালেদা আক্তার।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপার, সহকারী জেলা প্রাথমিক অফিসার, থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও রিসোর্স সেন্টারের দু’শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply