সম্পত্তি ক্রয়ের পূর্বে ও পরে ক্রেতার করনীয় !

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, বুধবার:
সম্পত্তি ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতা যে সম্পত্তি খরিদ করতে চান তার টাইটেল (মালিকানা স্বত্ব) ভাল করে পরীক্ষা করে নিবেন। এক্ষেত্রে ক্রেতা চাইলে ভাল একজন আইনজীবী দ্ধারা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তল্লাশী করা বাঞ্ছনীয়। আমাদের দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২ এর বিধান সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে একজন ব্যক্তি ভুল ব্যক্তির নিকট হতে ভুল সম্পত্তি ক্রয় করে অনেক সময় বঞ্চিত হয়।

এখন জেনেনিন সম্পত্তি ক্রয় করার পূর্বে কোন কোন বিষয়গুলো ভালভাবে যাচাই করে নিতে হয়ঃ

(ক) সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার যোগ্যতা বা অধিকার আছে কিনা?

(খ) বিক্রয়ের সময় বিক্রেতা প্রকৃতপক্ষে বিক্রয়কৃত সম্পত্তিতে বাস্তবসম্মত ভোগদখল ছিল কিনা?

(গ) বিক্রয়কৃত সম্পত্তি সরেজমিনে যাচাই করা। বিক্রয়কৃত সম্পত্তিতে কোন গৃহ, গাছ-পালা অন্য কোন স্থাপনা থাকলে উক্ত স্থাপনা বিষয়ে বিক্রেতার মতামত।

(ঘ) বিক্রয়কৃত সম্পত্তিটি কোন সংস্থা/ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নিকটে ঋণে আবদ্ধ কিনা বা রেহেন (গড়ৎঃমধমব) দায়ে আবদ্ধ কিনা?

(ঙ) বিক্রয়কৃত সম্পত্তিতে কোন বকেয়া খাজনা বা কোন দায় আছে কিনা ? থাকলে তা পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

(চ) কোন এজমালী জোতের ( শরিকদের সংঙ্গে একত্রে ভোগদখল করা সম্পত্তি) সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিক্রেতার অংশ সুনির্দিষ্ট বণ্টননামা আছে কিনা? বণ্টননামা না থাকলে বিক্রেতার অংশ সুনির্দিষ্টভাবে দখল চিহিৃত করা আছে কিনা?

(ছ) বিক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে আদালতে কোন মামলা আছে কিনা? মামলা চলমান থাকলে মামলার কারণ ও ফলাফল বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা গ্রহণ।

(জ) বিক্রয়কৃত সম্পত্তির সি. এস. রেকর্ড, এস. এ. রেকর্ড, আর. এস. রেকর্ড বিষয়ে যাচাই করা। কোন সম্পত্তি সর্বশেষ রেকর্ডে কোন খতিয়ানভূক্ত না হলে, কোন সুনির্দিষ্ট দাগ নম্বর না থাকলে, দাগে জমির পরিমাণ সুনির্দিষ্ট না থাকলে সে সম্পত্তি ক্রয় করা উচিত নয়।

(ঝ) বিক্রয়কৃত সম্পত্তি বিক্রেতার নামে নামজারি করা আছে কিনা?

(ঞ) সাক্ষীর সম্মুখে সম্পত্তির মূল্য ও শর্তাবলী ধার্য করতে হবে। বায়নানামাপত্র বা বিক্রয় চুক্তি করতে হলে তা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। অ-রেজিস্ট্রিকৃত বায়নানামাপত্র বর্তমান আইনে মূল্যহীন । বায়নানামাপত্রে শর্তাবলী স্পষ্টরুপে লিপি বদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে সম্পত্তি ক্রয়ের একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রকাশ করতে পারেন।

(ট) সাফকবালা দলিল রেজিস্ট্রি করার পূবে সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার দেনা-পাওনা বিক্রাতা কতৃর্ক পরিশোদিত হয়েছে কিনা তা দেখে বুঝে নিতে হবে।

(ঠ) সঠিকভাবে সাফকবালা দলিল তৈরি সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করিয়ে নিতে হবে।

(ড) সম্পত্তির মূল্য সর্বদা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়।

Leave a Reply