নাজমুল হাসান এলাকায় মন দিচ্ছেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ ফেব্রুয়ারী, বুধবার: নির্বাচনের বাকি দুই বছরেরও কম। রাজনীতিতে মন দিচ্ছেন প্রার্থী হতে আগ্রহীরা। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন সে সুযোগ পাচ্ছেন না তেমন। কারণ, ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডের ব্যস্ততা এর একটি কারণ। এ কারণে তিনি এই ব্যস্ততা কমাতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।
নাজমুল হাসানের আসনে দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ছিলেন তার বাবা জিল্লুর রহমান। ২০০৯ সালে তাঁর তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচিত হন নাজমুল হাসান। এরপর ২০১৩ সালে বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
পাপনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায়র নিজ নির্বাচনী এলাকায় তেমন সময় দিতে পারছেন না। নির্বাচনের আগে দলের ভেতর বা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতারা এর সুযোগ নিতে পারেন। কিন্তু এই সুযোগ দিতে চান না ক্রিকেট বোর্ড প্রধান। সম্প্রতি তিনি বোর্ড থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘ভৈরব-কুলিয়াচরের জনগণের জন্য জিল্লুর রহমানের পরিবারের অবদান অনেক। এ পরিবারের উত্তরাধিকার নাজমুল হাসান পাপন আমাদের এলাকার সংসদ। তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন। এলাকার মানুষের সাথে তাঁর একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তিনি এলাকায় তেমন আসতে পারছেন না। এ নিয়ে এলাকার কথা তোলার চেষ্টা করছে অনেকে। আমরা তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, তার ভাবনাতেও এটি আছে।’

সম্প্রতি বিসিবির সংবাদ সম্মেলনে পাপন বলেন, ‘আমার বেশ সমস্যা হচ্ছে। সভাপতি হিসেবে ক্রিকেটের জন্য সময় দেয়া আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমি একদমই সময় পাই না। সারাক্ষণ দৌঁড়ের মধ্যে থাকতে হয়। এছাড়া বড় বিষয় হলো আমি একজন চাকরীজীবী এবং সংসদ সদস্য। আমার এলাকায় কাজ করা ও সংসদে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য কাজ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
পাপন বলেন, ‘মানসিক সমস্যা না হলেও শারীরিকভাবে প্রভাব পড়ছে। তবে আমি উপভোগ করি। ভালো না লাগলে তো দায়িত্ব পালন করা কঠিন ছিল। নতুন করে পদটির মেয়াদ না বাড়ানোর আশা করছি।’
নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদের মেয়াদ চার বছর। ২০১৩ সালের অক্টোবরে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। সেই সুবাদে চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন মেয়াদে বিসিবি সভাপতি নির্বাচন হবে।
ক্রিকেটের একনিষ্ঠ ভক্ত ও সফলতম ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত পাপন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের অন্যতম দল আবাহনী লিমিটেডের সাথে প্রায় এক দশক জড়িত আছেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আবাহনীর ক্রিকেট কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ২০০৬ সালের করপোরেট ক্রিকেট লীগের চ্যাম্পিয়ন বেক্সিমকো ক্রিকেট দলের সভাপতি ছিলেন।

Leave a Reply