মহান ভাষা দিবস জাতির গৌরবের দিন : মাহমুুদুুল হক আনসারী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
২১ ফেব্রুয়ারী বাংলা সনের তারিখ বাংলা ভাষাভাষীর জন্য অহংকারের দিন, ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য সালাম,বরকত,জব্বার, যুদ্ধ না করলে আমরা মায়ের ভাষা পেতাম না। মায়ের ভাষায় কথা বলতে ঐ পাকিস্তানী উর্দু ভাষীরা দিত না। অনেক আন্দোলন, সংগ্রামে অসংখ্য শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা আমাদের জাতীয় গৌরব। জাতির এ গৌরব বাংলা ভাষার জন্য যাদের রক্ত ,ঘাম আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, জীবন বিসর্জন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা শ্রদ্ধা মহান এ দিবসে। ৬৫ তম মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ দুনিয়াব্যাপী আনন্দঘন কর্মসূচীর মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘের মাধ্যমেও পালিত হচ্ছে, পালিত হচ্ছে বিদেশে সকল বাংলাদেশী দূতাবাস সমূহে, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় দিবসে এ অনুষ্ঠানকে জাকজমকপূর্ণভাবে সকল সরকারী,বেসরকারী স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,বিশ্ববিদ্যালয় দেশী বিদেশী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ দিবস পালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই এ দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে। এ দিন বাংলার ঘরে ঘরে মাতৃভাষার আনন্দ উপভোগু করতে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় এ দিবসে দেশের শিক্ষা সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগঠন সমূহ নানাভাবে কর্মসূচী তৈরি করে। দিবসের গুরুত্ব তাৎপর্য তুলে ধর্ েদৈনিক পত্রিকাসমূহ, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া অনলাইন পোর্টালসমূহ বিশেষ গুরুত্বের সাথে মাতৃভাষার উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। আমার মায়ের ভাষা কথা বলার ভাষা, এ মাতৃভাষাকে তুলে ধরতে আঁকতে লিখতে কত যে আনন্দ তার কোন শেষ নেই। বাংলা ভাষায় আজ হাজার হাজার দৈনিক পত্রিকা, মাসিক পত্রিকা,ম্যাগাজিন,বুলেটিন,প্রতিদিন হাজার হাজার এ ভাষায় বই প্রকাশিত হচ্ছে তার গণনা করে শেষ করা যাবে না। বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা, এ ভাষার উপর দেশ বিদেশে অনেকজন গবেষনা করেছেন,ডিগ্রি নিচ্ছেন। জাতীয়ভাবে আমরা আজ কত গর্বিত আনন্দিত উদ্ভাসিত, এ ভাষার জন্য। তা ছোট্ট এ লেখাতে শেষ করা যাবে না। কোর্ট, কাচারী, অফিস ্আদালত,সচিবালয় প্রশাসনের সর্বস্তরে ্আজ আমার মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠিত। বাংলায় আজ আদালতের নথিপত্রে সব কিছুই তৈরি হচ্ছে। আমার দেশের কৃষক,শ্রমিক,দিন মজুুর,মানুষরা তা পড়তে পারছে এটার আনন্দই আলাদা, ভাষা শহীদদের প্রতি বারবার সর্বদা এ দেশের কোটি কোটি মানুষ শ্রদ্ধা,ভালবাসা জানাচ্ছে। প্রার্থনা করছে তাদের চির শান্তি এবং কল্যাণের জন্য। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে বাংলা ভাষার অনেক উন্নতি অগ্রগতি হয়েছে, দেশের সকল পাঠ্যসূচিতে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক, বাংলা ভাষা ছাড়া কোন স্কুল,বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়,মাদ্রাসায় পড়া লেখা হয়না। এক সময় মাত্র কয়েক বছর আগেও দেশের কতিপয় মাদ্রাসায় অন্য ভাষায় পাঠদান করা হত। পর্যায়ক্রমে আজকে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের প্রতিষ্ঠান হতে এখন নিয়মিত বাংলা ভাষায় মাসিক, সাপ্তাহিক,বাৎসরিক পত্রিকা বের হচ্ছে, দেরীতে হলেও তাদের বুঝে আসছে মাতৃৃৃৃভাষার গুরুত্ব এবং ভালবাসার, কদর। তবে এ গুরুত্ব যদি আরো দুুই যুগ তিন যুগ পূর্বে বুঝে আসত তাহলে বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা, কৃষ্টি,সভ্যতা ধর্মীয় আচার ব্যবহারের আরো উন্নতি অগ্রগতি হত। এটা না হওয়াতে বাংলাদেশের একটি শ্রেণীর শিক্ষা, সংস্কৃতি, অগ্রগতি, চাহিদা নি¤œমূখী হয়ে পড়ে আছে। এ জাতির বিজ্ঞান ভাষা, সংস্কৃতি শিক্ষায় অগ্রগতির উন্নয়ন ঘটাতে পারলে জাতি আরো আগে আরো উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারত। তখন ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বাংলা ভাষার গুরুত্ব এত যে হবে তা অনুধাবন করতে পারছিলনা। ফলে আজকে বাংলাদেশের এ গোষ্ঠী শিক্ষা গ্রহন করলেও ভাষাগত কারনে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিতে পারছেনা। অনেকদিন পর ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের পরিচালকগন বুঝতে পেরেছেন মাতৃভাষা বাংলার গুরুত্ব। মাতৃভাষা ছাড়া দেশে কোন প্রকারের সম্মানি, অধিক বেতনের বড়পদ পাওয়া যায়না। যার কারণে আজকে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষিত জ্ঞানী লোক দেশের চাহিদা সম্পন্ন পদে ্আবেদন ও নিয়োগ পাচ্ছে না। এর জন্য তাদের ভাষা রাষ্ট্রীয় সনদ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না থাকায় এ সকল সুযোগ সুবিধা থেকে ্ঐ শ্রেণীর বিশাল একটি জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে। ভাষার কথা মায়ের কথা বলতে গেলে মনের অনেক কথায় বের হয়ে আসে,না বললে লেখার দায়িত্ব ও বক্তব্য শেষ হবে না। ্এ সকল ভাষা ও রাষ্ট্রীয় সনদ না থাকার কারণে যা হবার তাই হচ্ছে আজকের সমাজে। এ গোষ্ঠী সমাজে অনেক অনেক পেছনে শুধুমাত্র মাতৃভাষা ও সরকারী সনদ না থাকার ফলে। বর্তমান সময়ে অনুধাবন করতে পারায় এখন কিছুটা হলেও তাদের ছাত্রগণ রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। তারা আজকে বাংলা ভাষা,মাতৃভাষায় ক্লাস,বক্তব্য,ওয়াজ নসিহত উপস্থাপন করছে।্ মসজিদের খুতবায় তারা আরবীকে বাংলা ভাষায় মুুসল্লীদের সামনে পেশ করছে। বাংলায় অনেক প্রবন্ধ,গল্প, কবিতা রচনা করছে, অনেক অগ্রগতি বাংলা ভাষা চর্চায় আজকের ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। এখন তাদের দরকার রাষ্ট্র্রীয়ভাবে তাদের সনদের মান ঠিক করা। সনদের অধিকার আদায় করা, তা যদি হয় তা হলে সমাজে তারা আরো এগিয়ে যাবে। তাদের সৃষ্ট সভ্যতা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান প্রচার ও প্রসারে। কথা হচ্ছিল বাংলাদেশের মাতৃভাষা মায়ের ভাষার উপর। এদিক ওদিক যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।্ মায়ের ভাষা মাতৃভাষাকে নিজ পরিবার সমাজ দেশ ও আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় প্রচার প্রসারে সকলের চেষ্টা থাকতে হবে। ঘরে বাইরে অফিস আদালতে মাতৃভাষার প্রাধান্য থাকা চাই।্ মাকে ভালবাসলেই মায়ের ভাষা মাটির দরদ প্রত্যেককেই বাস্তবে দেখাতে হবে। সমাজে দেখা যায় একটু দুএকটি ডিগ্রি নিলেই আমার বাংলাকে রেখে অন্যভাষায় কথা বলতে আনন্দ ও গৌরব বোধ করি। নিজকে বাংলা ভাষার পরিবর্তে ভিন্ন ভাষায় তুলে ধরতে বেশী মর্যাদার চিন্তা করি। এটা অনেকেই পছন্দ করি না। জনগণ চায় সরকারী বেসরকারী প্রতিটি অনুষ্ঠানে মাতৃভাষার চর্র্চা হউক, সব কিছুই যেন মাতৃভাষার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়। নিজকে জাহির করার জন্য যারা বক্তৃতা ও আলোচনায় ভিন্ন ভাষা চর্চা করে সেটাও শ্রুুতাগণ এত পছন্দ করতে দেখা যায় না। অন্য ভাষার উপর আমার অধিকার থাকবে,সব ভাষার উপর আমার শ্রদ্ধা থাকবে। কিন্তু সব জায়গায় আমার ভাষার গুরুত্ব আমাকে দিতে হবে।না হলে অন্য দেশের মানুষের নিকট কী ভাবে গুরুত্ব পাবে সেটাও আমাদের মাথায় আনতে হবে। এখনো আমার দেশের অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান দেখা যায়, যারা ভিন্ন ভাষায় অফিসিয়াল কর্ম সম্পাদন করছে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দেশে পরিচালিত হচ্ছে ভিন্ন ভাষার উপর। আমার কথা হচ্ছে অন্যের ভাষাকে আমি খাট করছিনা। তবে বলছি যে আমার ভাষার প্রাধান্য আগে, তারপর অন্য ভাষা। ছাত্র-ছাত্রীদের রেজাল্ট কার্র্ড, বেতন অন্যান্য রিসিট পত্র দেখা যায় ভিন্ন ভাষায়। এগুলো ভিন্ন ভাষায় দিয়ে করে কী লাভ তা আমরা বুঝছিনা, তবে এসব না করে ছাত্রছাত্রীরা যাতে মাতৃভাষার সাথে ভিনদেশী ভাষা রপ্ত করতে বলতে লিখতে পারে তার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাতৃভাষার সাথে অন্য দেশের ভাষার সমন্বয় না থাকলে দেশ বিদেশে প্রাপ্ত যোগ্যতার সনদের গুরুত্ব সহ পদবী অর্থ পাওয়া বাধাগ্রস্থ হবে। ভাষা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সেটা যারা দেশ বিদেশে ভ্রমন করছেন তারা ভাল করে বুঝেন। সব কিছুই হবে আমার ভাষার মর্যাদা সম্মান সব স্থানেই ঠিক রেখেই। তার পরে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, দেশে সংস্কৃতি চর্চার নামে ভিনদেশী সংস্কৃতি সভ্যতা প্রচার ও প্রসার ঘটছে। সেটাকে মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মকে এ সংস্কৃতির বাইরে আমার মাতৃভূমির সংস্কৃতির শিক্ষা দিতে হবে। আমার মাতৃভূূমির সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে,তাদেরকে উদ্বুুদ্ধ করতে হবে। ভিনদেশী সংস্কৃতি চর্চার কারণে আমার দেশের যুবক,যুবতী ছাত্রছাত্রী বিপদগামী হচ্ছে।্ চারিত্রিকভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ সকল বিষয়ে আমাদেরকে আরো সচেতন ও সজাগ থাকা দরকার। বাংলা ভাষা উচ্চারণ, বলতে লিখতে অশুদ্ধ বানান লেখনী থেকে সতর্র্ক থাকতে হবে। আমরা চাই বাংলা ভাষার অধিকার রাষ্ট্রের সর্বাস্তরে, স্কুল, কলেজ,সব স্থানে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা হ্উক, মর্যাদা ভোগ করুক, সেটাই দেশের মানুষের অন্তরের কথা। বাংলা ভাষাকে নিয়ে জাতিয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল এখনো আছে। আমার মাতৃভাষার উপর নানাভাবে ভিনদেশী ভাষা প্রভাব বিস্তার করার ষড়যন্ত্র চলছে। যা কখনো মাতৃভাষা প্রেমিক মেনে নেবেনা। দেশের এক শ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ মায়ের ভাষাকে ভিন্নভাবে রুপ দিয়ে কাব্য,গল্প,প্রবন্ধ ,কবিতা রচনা করছে, তাদের সাথে মাতৃভাষার মিল নেই। পানি আমার মায়ের ভাষা,পানিকে বাংলা ভাষাভাষী অন্য কিছু বলবেনা।্ সেটা বাঙালী মুসলমানদের ভাষা হিসেবে অন্তত আমি মানতে রাজি নই। মাকে মা-ই বলব,সেটা আমার মাতৃভাষা,মা বাবা আমাদেরকে এভাবেই ভাষা শিখতে শিখিয়েছেন। সে মাতৃভাষাকে আমরা রপ্ত করব। বাংলা ভাষা,মাতৃভাষা কোন ধর্ম বর্ণের নির্দিষ্ট ভাষা নয়। এট গোটা বাংলা ভাষাভাষী সকল ধর্ম গোত্রের মানুষের সম্মিলিত ভাষা। যারা ধর্র্মের আচরণ দিয়ে মাতৃভাষা বাংলাকে নিজ মালিকানায় নিতে চায় আমি তাদের সাথে এক মত নই। ধর্ম যার যার, ভাষা সকলের, রাষ্ট্র সবার, বাংলা ভাষার মধ্যে দেশী বিদেশী ভাষার সংমিশ্রণ থাকতে পারে, সেটা ছিল আছে,থাকবে দোষের কিছু নয়। তবে ভিন্ন দেশী ভাষার সাথে মিশিয়ে আমার মাতৃভাষা বাংলাকে যেন পরিবর্তন করা না হয়। ফেব্রুয়ারী মাস আসলে ভাষা আন্দোলন,‘৫২ কথা আসে। সকল,লেখক,গবেষক,বুুদ্ধিজীবি ,কবি,বক্তৃতা বিবৃতিতে সরগরম হয়ে ওঠে। ভাষার আন্দোলনের মাস চলে গেলে মায়ের ভাষার গুরুত্ব বিভিন্নভাবে হারিয়ে যায়। আমাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে মাতৃভাষার চর্চা গল্প,কবিতা,প্রবন্ধ লিখতে পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ থাকতে হবে। পাঠ্য পুস্তক সিলেবাসে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারন করতে হবে। ৮০ হাজার গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য সিলেবাসে রাখতে হবে। সব ধর্ম গোত্র,পেশার পরিচিতি, সংস্কৃতি বইপুস্তকে রাখা চাই। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের গৌরব,অহংকার, এগুলো হারিয়ে ফেললে নতুন প্রজন্ম আমাদের সংস্কৃতি ভুলতে বসবে। এখনো দেখা যায় শহরের স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতি কী তা বুঝেনা। লুঙ্গী, ধুতি, পুুকুর পাড়,ঘাট চিনেনা। জমিনে ধানের চারা ,চারা থেকে যে ধান হয় তাও চিনেনা। কিভাবে ধান রোপন করতে হয় সেটা জানেনা। ভাষার সাথে গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য বুঝতে ও বুঝাতে চিনাতে হবে। আধুনিকতার নামে বিদেশী সংস্কৃতিতে জাতিকে বিলিন করে দেয়া যাবেনা। কর্ম, ভাষা, অর্থের জন্য বিদেশী ভাষা শিখব, জ্ঞান আমরা ঠিকই অর্জন করব। কিন্তু তাই বলে আমার মায়ের কথা,স্মৃৃতি, ইতিহাস,গ্রাম বাংলার কৃষক,শ্রমিকের সংস্কৃতি ভুলতে দেয়া যায় না। মাতৃভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম,কৃষ্ঠি কালচার সব ঠিক থাকবে,রাখতে হবে। আমার ভাষাকে অন্যদেশের ভাষার সাথে মিশ্রিত করে মাতৃভাষার অমর্যাদা করা যাবে না। দুনিয়াব্যাপী আজকে আমার মায়ের ভাষা চর্চা হচ্ছে। এ ভাষা চর্চা পরিধি বাড়ছে, সাথে আমাদের দেশে এখনো যে সকল অফিসিয়াল কর্মকাজে মাতৃভাষার চর্র্চা হচ্ছেনা সেখানে চালু করতে হবে। যাবতীয় অফিস কাজে মাতৃভাষার চর্চা বাস্তবায়ন করতে আর কত দেরী লাগবে তা এখনো বুঝতে পারছিনা। দেশ স্বাধীন হয়েছে ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে। ১৯৫২ না হলে ১৯৭১ হত না। একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক আছে। মাতৃভাষা আন্দোলন সফল হওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতা সফল হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার ফলে জাতি আজ পাকিস্তানী শাসন শোষণ থেকে মুক্তি পেয়েছে। আজ বাঙালী জাতি স্বাধীন জাতি হিসেবে দুনিয়া ব্যাপী স্বীকৃত। মুক্তিগামী এ জাতিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। ্এ জাতি সংগ্রাম করতে শিখেছে, আন্দোলন,দাবি কিভাবে আদায় করে নিতে হয় তাও বঙ্গবন্ধু শিখিয়ে গেছেন, দেখিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কাছে জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা বাস্তবায়ন করতে জাতি ও শাসককে আরো সক্রিয় হতে হবে। দেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষা শিক্ষা গবেষণা,বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষার গুরুত্ব কম সেটা খুজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে রাষ্ট্রকে। মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার, আলো বাতাস সুযোগ সুবিধা ভোগ বিলাস করবে , এদেশের নাগরিকত্ব দাবি করবে, কিন্তু আমার মায়ের ভাষার প্রতি অশ্রদ্ধা থাকবে সেটা কেউ মেনে নিবেনা। সব ভাষার উর্ধ্বে আমার মায়ের ভাষা মর্যাদা ও স্থান সবখানেই আজকের সময়ে দিনে জাতি দেখতে চায়। তবেই হবে এ দিবস ও ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি যতাযথ সম্মান। নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থান শহিদ মিনারে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানিয়ে অন্য ভাষায় চর্চা করে জীবন বিলিন করলে ভাষা শহিদগণ কখনো জাতির উপর খুশী হবেননা। তাদের ত্যাগের ফসল ভাষাকে সর্র্বাস্তরে চালুর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে তৈরী করাই ভাষা দিবসের মূল চেতনা ও দাবী।

Leave a Reply