আইজিপি শহীদুল হক পুরো মেয়াদেই থাকছেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, বৃহস্পতিবার: দুই বছরের কিছু বেশি সময় আগে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নেয়া এ কে এম শহীদুল হক তার পুরো মেয়াদই বহাল থাকছেন কি না- এ নিয়ে বাহিনীর ভেতর আছে নানা কৌতূহল। ইতিমধ্যে নেয়া সরকারের একটি উদ্যোগ এই আলোচনা-কৌতূহলের কারণ। নতুন আইজিপি নিয়োগের সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত আর এগিয়ে নেয়নি সরকার।
বাহিনীতে যোগদানের বয়স হিসাবে শহিদুল হকের চাকরির মেয়াদ আছে আরও এক বছর। অবশ্য পুলিশ-প্রধান পদে একজন কত দিন দায়িত্ব পালন করবেন, সেটি আইনে সুনির্দিষ্ট নয়। এ অবস্থায় শহিদুল হককে সরিয়ে অন্য কাউকে পুলিশ-প্রধান করা-না করা নিয়ে যুক্তি বিবেচনায় নিচ্ছে সরকার।
সরকারের সূত্রগুলো বলছে, নতুন কাউকে আইজিপি করার যে উদ্যোগ সম্প্রতি নেয়া হয়েছিল, সেটি আপাতত যুক্তির কারণেই থেমে গেছে। ওই উদ্যোগের সূত্রেই পুলিশ-প্রধান হিসেবে একজন নারীর নামও আলোচনায় আসে।
পরবর্তী আইজিপি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, চাকরির মেয়াদের স্বাভাবিক নিয়মে এ কে এম শহীদুল হক ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাবেন। তিনি পুরোটা সময় এই পদে বহাল থাকলেও পরবর্তী পুলিশ-প্রধান হিসেবে কে আসছেন- এ নিয়ে পূর্ব-আলোচনা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, পরবর্তী আইজিপি হিসেবে তালিকার প্রথমে ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী। তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে তা আটকে যায়।
বর্তমান আইজিপিকে তার চাকরির পুরো মেয়াদ এই পদে রাখার পক্ষের কর্মকর্তারা কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তাদের যুক্তি, শহিদুল হক ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতা মোকাবেলায় দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব একটা খারাপ নয়। এ অবস্থায় আইজিপি পরিবর্তন হলে সেটা ভালো দেখাবে না। এই যুক্তি আপাতত গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলেই জানাচ্ছে সূত্র।
২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এ কে এম শহীদুল হককে। ১৯৮৪ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই কর্মকর্তা ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে তিনি চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছাড়াও তিনি বাহিনীর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তী পুলিশ-প্রধান হিসেবে বিবেচনায় যারা শহীদুল হক পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করুন বা না করুন, তার পরবর্তী আইজিপি তো কেউ একজন হবেন। কে তিনি?
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো বলছে, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী ছাড়াও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় আছেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) ফাতেমা বেগম এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
জাবেদ পাটোয়ারি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী জাবেদ পাটোয়ারি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা চাকরির প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে বর্তমানে পুলিশের সর্বোচ্চ পদের এক ধাপ নিচে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে কমরত।
ফাতেমা বেগম: ১৯৮৪ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশে যোগ দেন ফাতেমা বেগম। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি চাকরিতে স্থায়ী হন। পুলিশ সদরদপ্তরে সহকারী মহাপরিদর্শক (কল্যাণ), পুলিশ সুপার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ), কমান্ড্যান্ট (এসবি ট্রেনিং স্কুল), পরিচালক (তদন্ত, র‌্যাব), পুলিশ সদর দপ্তর ডিআইজি (ট্রেনিং অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট), ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ-এসবি) হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ফাতেমা বেগম। ২০১৪ সালে তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজর রেক্টর হিসেবে যোগ দেন। সব শেষে তিনি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক অর্থ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে যুক্ত হন। দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে তিনি আফ্রিকার সিয়েরালিয়নে কাজ করেন।
বেনজীর আহমেদ: বেনজীর আহমেদ ১৯৮৫ ব্যাচের বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগ দেন। ডিএমপির উপকমিশনার, সহকারী মহাপরিদর্শক (প্রশিক্ষণ), টাঙ্গাইলের পুলিশ সেন্টারের কমানডেন্ট, পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে বসনিয়ায়, ২০০২ সালে কসোভোতে পুলিশ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন। ২০১০ সাল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান।
মোখলেছুর রহমান: পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান ১৯৮৪ সালে বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশে নিয়োগ পান। সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে এবং এসএসএফে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাঙামাটি ও নোয়াখালী জেলায়। সিলেট ও নরসিংদীর পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে র‌্যাব ও এনএসআইর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগ দেন। পরে দায়িত্ব পালন করেন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে। সবশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply