বান্দরবানে প্রকাশ্যে স্কেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে পাহাড় : নীরব প্রশাসন

মোঃ নজরুল ইসলাম (টিটু), বান্দরবান, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, বুধবার: বান্দরবান সদর উপজেলার কালাঘাটা শিশু পরিবার সংলগ্ন এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। জায়গা সহ রাস্তা ভরাট কাজে ব্যবহার করার জন্য অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার সরেজমিনে পরির্দশন করে দেখা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার কালাঘাটা শিশু পরিবার সংলগ্ন এলাকায় পৌর কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশের বিশাল পাহাড় স্কেভেটর দিয়ে অবৈধ ভাবে কেটে গত দুই দিন ধরে ৮/১০টি ট্রাক যোগে মাটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করছে ঠিকাদার নুরুল আবছার ওরফে জ্বীন আবছার। স্কেভেটর দিয়ে দিনের দুপুরে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে বিশাল একটি পাহাড় সাবাড় করে ফেললেও প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করছে। কালাঘাটার বাসিন্দা, আহাম্মদ কবির, নুর আহাম্মদ ও উচনু মার্মা জানান, গত দুই দিন ধরে ঠিকাদার নুরুল আবছার ওরফে জ্বীন আবছার ও তার সহযোগী রেজাউল করিম ওরফে লেপ করিম স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটছে। পাহাড়ের এসব মাটি প্রতিদিন ৮/১০টি ট্রাক যোগে বহন করে পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করছে। ইতিমধ্যে বিশাল পাহাড়টি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ জনগণ ঘর নির্মাণ করার জন্য ছোট পরিসরে পাহাড় কাটলেও পুলিশ ও প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করে জেলা জরিমানা দেয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ঠিকাদার নুরুল আবছার ওরফে জ্বীন আবছার ও তার সহযোগী রেজাউল করিম ওরফে লেপ করিম মাটি বিক্রয়ের জন্য স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। প্রশাসনের নিরব ভুমিকার কারণে সাধারণ জনগণ পাহাড় কাটতে আরো বেশী উৎসাহিত হবে বলে তারা জানান। বান্দরবানের স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার খবর জানতে পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য ঘটনা স্থলে গেলে ঠিকাদার নুরুল আবছারের সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়দানকারী রেজাউল করিম ওরফে লেপ করিম সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় এবং উশৃংঙ্খল কথার্বাতা বলে। এক পর্যায়ে তিনি পাহাড় কাটার ঘটনা পৌর মেয়র মোঃ ইসলাম বেবীর উপর চাপিয়ে দেন।
এব্যপারে ঠিকাদার নুরুল আবছার ওরফে জ্বীন আবছার অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, পৌর এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা সংস্কারের কাজ চলতেছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য মেয়র বার বার চাপ সৃষ্টি করছে। তাই যেখান থেকে পারি মাটি নিয়ে রাস্তার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। যদি আপনারা বলেন পাহাড় কাটা বন্ধ করে দিব।
এব্যপারে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার সংবাদ আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিব। এদিকে বিকাল ৪টার পর্যন্ত অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার কাজ অব্যাহত ছিল।

Leave a Reply