বলিউড পাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘পদ্মাবতী’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, বুধবার: এই মুহূর্তে বলিউড পাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘পদ্মাবতী’। ইতিহাস নির্ভর এই সিনেমা নির্মাণের আগেই কম জলঘোলা হচ্ছে না। ইতিহাস বিকৃতের অভিযোগে জয়পুরে ‘পদ্মাবতী’ ছবির সুটিংয়ে রাজপুত কর্ণী সেনার হাতের শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে পরিচালব সঞ্জয় লীলা বনসালিকে। এর জেরে ছবির নাম পরিবর্তন ও জয়পুরে সুটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন পরিচালক।
সঞ্জয় লীলা বনসালির মতো একজন জ্যেষ্ঠ নির্মাতার গায়ে হাত তোলাকে গণতন্ত্রের জন্য বড় আঘাত বলে মনে করছেন বলিউড তারকারা। যদিও সঞ্জয় দাবি করেছেন, ‘পদ্মাবতী’ ছবিতে কোনও বিতর্কিত দৃশ্য নেই। এই আশ্বাসে শান্ত হতে নারাজ রাজপুত কর্ণী সেনার কর্মীরা। তাদের দাবি, ফিল্মের খুঁটিনাটি তাদের দিয়েই দেখিয়ে নিতে হবে। আসলে কি এই ‘পদ্মাবতী’? বাস্তবে কি তার কোন অস্বিস্ত আছে নাকি শুধু কল্পনা। ইতিহাস ঘেঁটেও মেলেনি এর কোন স্পষ্ট উত্তর।
জানা যায়, মেবারের রাজধানী চিত্তৌড়ের রাজা রানা রতন সিংয়ের স্ত্রী ছিলেন রানি পদ্মিনী। তিনি ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী, দেশজোড়া ছিল তার রূপের সুখ্যাতি।
রাজপুত লোককথা মতে, রানি পদ্মিনীর রূপের প্রশংসা গিয়ে পৌঁছায় দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খলজির কানে। ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে রানি পদ্মিনীকে দখল করতেই সেনা নিয়ে চিত্তৌড় আক্রমণ করে বসেন খলজি। রতন সিংকে কারারুদ্ধ করেন সুলতান। এরপর তিনি রানির কাছে প্রস্তাব পাঠান- যদি তিনি খলজির সঙ্গে দিল্লিতে যেতে রাজি হন, তবেই রতন সিংকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই খবর এসে পৌঁছতেই কিছুটা কুটনীতির সাহায্য নেন রাজপুতরা। রানি এবং পরিচারিকাদের পালকিতে করে কিছু সৈন্য পাঠানো হয়। তারা রতন সিংকে উদ্ধার করে আনেন।
এই ঘটনার পরেই সুলতান খেপে গিয়ে চিত্তৌড়গঢ় তছনছ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। চিত্তৌড় দুর্গ অবরোধ করে রইলেন তিনি। এদিকে রানা রতন সিং রাজপুতদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
রানি পদ্মিনী বুঝতে পারছিলেন যে, রানা রতন সিং ক্রমশই সুলতানের বিপুল সংখ্যক সেনার সামনে হেরে যাচ্ছেন। ভয়ঙ্কর যুদ্ধ করে মারা যান রানা রতন সিং। খলজি তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে দুর্গের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়েন রানি পদ্মিনীকে দখল করার উদ্দেশে। খবর যায়, রানির কাছে। তিনি বুঝতে পারেন তার সামনে দুইটি পথ খোলা রয়েছে। এক, সুলতানের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা। আর দুই, বিষ খেয়ে মৃত্যুবরণ। এরপর তিনি জহরব্রত পালন করে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
কিন্তু, ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে বাস্তবে রানি পদ্মিনীর কোনও অস্তিত্বই নেই। এটি একটি কাল্পনিক চরিত্র। তবে, অওধি ভাষায় ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে লেখা সুফি কবি মালিক মহম্মদ জয়সীর ‘পদ্মাবত’কাব্যগাথার রূপক কবিতায় এই চরিত্রটির উল্লেখ রয়েছে। বিখ্যাত গেজেটিয়ারদের মতে, মালিক মহম্মদ জয়সী কাব্যগাথার শেষে জানিয়েছেন এই চরিত্রগুলি রূপক। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের নিদর্শন আলাওলের অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ ‘পদ্মাবতী’ এটিকে আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাজ বলে গণ্য করা হয়। । মুহম্মদ জায়সীর কাব্যের অনুবাদ এটি। প্রায় ১০০ বছর পর আরাকানের বৌদ্ধ রাজার অমাত্য মাগন ঠাকুরের নির্দেশে আলাওল ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে পদ্মাবতী রচনা করেন। কবি তখন মাগন ঠাকুরের সভাসদ এবং আশ্রিত। পদ্মাবতী কাব্যের কাহিনীতে ঐতিহাসিকতা কতটুকু তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও এক দলের মত, বাস্তবেই রানি পদ্মিনী ছিলেন। ১৫৮৯ খ্রিস্টাব্দে হেমরতনের ‘গোরা বাদল পদ্মিনী চৌপাই’-এ রানিকে বাস্তব চরিত্র হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে রানি পদ্মিনীর চরিত্র নিয়ে রয়েছে বিরাট রহস্য। ‘পদ্মাবতী’ সিনেমার নাম ভূমিকার অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকন, আলাউদ্দিন খিলজীর চরিত্রে অভিনয়কারী রনভির সিং ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রাজা রতন সিং এর চরিত্রে অভিনয়কারী শহীদ কাপুর।
করনি সেনা দলের সদস্য বিবেক সিং বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই এ ছবির পুরো চিত্রনাট্যটি চেয়ে এসেছি পরিচালকের কাছে। কিন্তু তিনি আমাদের তা দেননি। এ ছবিতে রানী পদ্মিনীর সঙ্গে আলাউদ্দিন খিলজির প্রেম দেখানো হয়েছে যা সত্যি নয়। এর মাধ্যমে রানি পদ্মিনীকে অসম্মান করা হচ্ছে যা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
এর আগে আশুতোষ গোয়াড়িকরের ‘যোধা-আকবর’ সিনেমা নিয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছিল দলটি।

Leave a Reply