মোপলেসের উদ্যোগে ৬ জন বরেণ্য শিল্পীকে নিয়ে স্মরণানুষ্ঠান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ নভেম্বর, বুধবার: মোরা পত্র লেখক সমাজ (মোপলেস) চট্টগ্রামের উদ্যোগে ২৫ নভেম্বর বিকাল ৩টায় কদম মোবারক মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মেমোরিয়াল হলে sajal-dasশিল্পী আবদুল আলিম-আব্বাস উদ্দিন-হাছন রাজা-লালন ফকির-শেফালী ঘোষ-শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব কে নিয়ে এক স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টায় শিশু কিশোরদের নিয়ে চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, শিল্পী ডা. শিউলী চৌধুরী, সহযোগীতায় ছিলেন সংগঠক স.ম জিয়াউর রহমান ও দিলীপ সেন গুপ্ত। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সজল দাশ। সন্ধ্যায় বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ ও সমাজ চিন্তাবিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকিত করেন চট্টগ্রাম আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক লায়ন আলহাজ্ব দিদারুল আলম চৌধুরী। উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক অধ্যাপিকা সায়রা বানু রৌশনী। প্রধান আলোচক ছিলেন বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি মো: জসীম উদ্দীন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক এড. মোস্তফা আনোয়ারুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু চার নেতা স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাবন্ধিক মো: আবদুর রহিম, ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক স.ম জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতি জোট বোয়ালখালী শাখার সভাপতি সুভাষ চৌধুরী টাংকু। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সজল দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন গিফারী। সংস্কৃতি কর্মী সুমন চৌধুরী। সভায় প্রধান অতিথি আলহাজ্ব দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, মোপলেসের উদ্যোগে ৬জন বরেণ্য শিল্পীকে নিয়ে যে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে তা একটি অনিন্দ্য সুন্দর আয়োজন। তাঁরা শুদ্ধ-পরিশুদ্ধ সংগীতের মাধ্যমে বিশ্ব সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বাংলাদেশ ও ভাষাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তাঁরা সর্বদা স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবেন সবার মাঝে, তাঁদের কীর্তির জন্য। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, তাঁরা দেশে যথার্থ সম্মান পায়নি। তরুণ প্রজন্মের অনেক শিল্পী আছেন, তারা তাঁদের নামও জানেনা। এটি একটি লজ্জাষ্পদ ব্যাপার। তিনি অসম্প্রদায়িক চেতনায় সবাইকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও দেশরতœ শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কায়েমের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান। উদ্বোধক অধ্যাপিকা সায়রা বানু রৌশনী বলেন, বাঙ্গালী বীরের জাতি। বাঙ্গালীর ইতিহাস গর্ব করার ইতিহাস। আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে শিল্পীদের অবদান অনন্য। শিল্পী আবদুল আলিম, আব্বাস উদ্দিন, হাছন রাজা, লালন ফকির, শেফালী ঘোষ ও শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণবের গাওয়া গান গুলো সারা বিশ্বে এখনো সমাদৃত। তাঁরা সুকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তাঁদের গাওয়া গানগুলো সংরক্ষণ করা খুবই জরুরী এবং বেশি করে টিভি, বেতার ও বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হলে তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা এতে বেশি অনুপ্রাণিত হবে। সভার সভাপতি অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী বলেন, যে দেশে গুণী শিল্পীর কদর নেই, সেদেশে গুণী শিল্পী সৃষ্টি হয় না। তাঁরা ছিলেন সমাজের আলোকবর্তিকা। তাঁদের স্মরণ করে মোপলেসের কর্মকর্তারা নিজেরা আলোকিত হয়েছেন। সভায় প্রধান অতিথিদের নিয়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ও অংশগ্রহণকারীদের ক্রেষ্ট প্রদান করেন। এতে শিশু শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অচিন্ত্য কুমার দাশ, আলোকচিত্র শিল্পী সমীর পাল, রতন ভট্টাচার্য্য, আবু বক্কর ও আমির হামজা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সজল দাশ।

Leave a Reply