মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে সাংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার: স্মরণাতীত কাল থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যে, সংস্কৃতির সকল কর্মকাণ্ডে dr-jinobodhi-bikkhu-photos-27-11-2016যোগাযোগ ও সম্পর্ক এখনও নিবিড়। সম্প্রতি মিয়ানমারের চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলার ঘটনার পর থেকে কথিত হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযানে অন্তত ৬৯ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সংকটাপন্ন চলমান সহিংসতায় নিহত হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারেরও বেশি মানুষ। রোহিঙ্গা নিপীড়ন করতে গিয়ে মিয়ানমার মানবতাবিরোধী যত অপরাধ রয়েছে তা করেই চলেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে মানবতাবিরোধী গুরুতর অভিযোগ। সন্ত্রাস দমনের নামে কোন সাধারণ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। মিয়ানমারে চলমান সংকটে মানবাধিকারের চরম লংঘন হচ্ছে। এতে বিশ্ববাসী চরম ক্ষুদ্ধ। বর্তমানে চলমান সকল সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও চলমান সমস্যার সুরাহা করতে হবে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশকে যৌথ উদ্যোগে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা, বৌদ্ধ বিহার সংঘ সম্পত্তি সংরক্ষণ কমিটি ও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের উদ্যোগে আজ ২৭ নভেম্বর রবিবার বিকাল ৩টায় নগরীর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান ও বৌদ্ধ বিহার সংঘ সম্পত্তি সংরক্ষন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান চাইলে বাংলাদেশ কিংবা মিয়ানমার যে কোন এক পক্ষকে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দুই পক্ষ একযোগে কাজ করলে বিষয়টি সহজ সমাধান হবে এবং দ্রুত সংকট কাটিয়ে শান্তি ফিরে আসবে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা কোন দেশের সেটা স্থির করতে পারলে চিহ্নিত রাষ্ট্র তাদের দায়-দায়িত্ব নেবে। কিন্তু যতদিন না এই সমস্যার দ্রুত সঠিক সমাধান হচ্ছে না ততদিন পর্যন্ত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক ও সহৃদয় আচরণ করতে হবে। ড. জিনবোধি ভিক্ষু আরো বলেন, সব রোহিঙ্গা কখনো জঙ্গী হতে পারে না। জঙ্গীবাদ দমনের নামে মিয়ানমার যা করছে তা মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড। দমন-পীড়নের পর প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। বিষয়টা গভীর উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত সময়ে সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে ড. জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি অভ্যান্তরিন বিষয় হলেও রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়টি মানবাধিকার লংঘনের শামিল। বিষয়টি কোন ধর্মের নয়, মানবতার বিষয়। ড. জিনবোধি ভিক্ষু আরো বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন জগতের সব প্রাণী সুখী হউক। আর এই সকল প্রাণীর মধ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গারাও রয়েছে। মানুষতো দুরের কথা কোন কীটপতঙ্গকেও হত্যা করা বৌদ্ধ ধর্মের নীতিতে নেই। বৌদ্ধ ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে যে সকল অপপ্রচার চলছে তা থেকেই দূরে থাকার আহ্বান জানান। সাংবাদিক সম্মেলনকালে উপস্থিত ছিলেন, এস লোকজিৎ থের, প্রজ্ঞাপাল মহাথের, দয়ানন্দ মহাস্থবির, প্রিয়রতœ ভিক্ষু, লোকানন্দ স্থবির, সুমনপ্রিয় ভিক্ষু, জ্যোতিরক্ষিত ভিক্ষু, জে.বি.এস. আনন্দবোধি ভিক্ষু, রতন কুমার বড়–য়া, øেহরূপ বড়–য়া চৌধুরী, সুনীল কান্তি বড়–য়া, জিনাংসু বড়–য়া, উজ্জ্বল বড়–য়া চন্দন, উত্তম বড়–য়া, কাজলপ্রিয় বড়–য়া, সিজার বড়–য়া, এড. দীর্ঘতম বড়–য়া, সুশীল কান্তি বড়–য়া, বোধিপাল বড়–য়া, সুপায়ন বড়–য়া প্রমুখ।

Leave a Reply