চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত

saminarনিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার: ২৯ নভেম্বর সকাল ১০ টা থেকে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে “রোড কন্সট্রাকশন এন্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল” বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনার উদ্বোধন এবং সমাপ্তি ঘোষনা করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সেমিনারে “রোড কন্সট্রাকশন এন্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল” বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-১ রফিকুল ইসলাম মানিক। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ। সেমিনারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী এম আই খান, দীপক কান্তি বৈদ্য, রেজাউল আমিন খান, মোহাম্মদ আবু তাহের, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত, মোখতার আলম, মো. এয়াকুব নবীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত সাবেক প্রধান প্রকৌশলীদের ক্রেষ্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সেমিনারে আইইবি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুন, সাউথদার্ন ইউনির্ভাসিটির ডিন অধ্যাপক আলী আশরাফ, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি এ কে এম ফজলুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদুল আলম, আইইবি’র সাবেক সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন সহ আইইবি’র সাবেক ও বর্তমান নির্বাহী সদস্যবৃন্দ সহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, সাধারন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম,নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস সনজিদা শরমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মন্নান সিদ্দিকী,তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো.মাহফুজুল হক, মো. আনোয়ার হোছাইন, মো. কামরুল ইসলাম, মুনিরুল হুদা, মো. আবু সালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী এম সামছুল হুদা সিদ্দিকী, ঝুলন কুমার দাশ, সুদিপ বসাক, রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী, বিপ্লব দাশ, মো. আবু ফরহাদুল আলম,হারাধন আচার্য্য, আহমদুল হক, এস এম আইয়ুব, অসিম বড়–য়া, আবু সাদাত মো. তৈয়ব, সাইফুর রহমান, শাহিনুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মির্জা ফজলুল কাদের, মঞ্জুরুল হক তালুকদার, আবদুল্লাহ আল ওমর সহ সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী এবং চসিক এর শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের উদ্বোধক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ১৫মাস ৩দিনের সময়ের কার্যক্রমের বিষদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার বিষয়ে কোন বাস্তবধর্মী পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তা সত্বেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দূর্ণীতি ও দুর্নাম এবং অনিয়ম সম্পর্কে একটা পূর্ব ধারনা ছিল।তিনি বলেন,দায়িত্ব গ্রহন করেই দেনা এবং অব্যবস্থাপনার ভারে জর্জরিত এই সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানটিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালনার বিষয়ে যাবতীয় উদ্যোগ ও কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন,এখানে জনবল কাঠামোর কোন বৈধ অর্গানোগ্রাম নেই। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবলের স্বল্পতা সত্বেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রি-বার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় নগরীকে শতভাগ ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে উন্নয়ন, নালা-নর্দমা,রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নগরবাসীর দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া সহ নানামুখি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এছাড়াও দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ১৯৯৫ সনের মাষ্টার প্লান এর ভিত্তিতে বারুই পাড়া থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত নতুন খাল নির্মাণ এবং আরো দুটি নতুন খাল নির্মাণে ডিপিপি তৈরী করা হচ্ছে। প্রকৌশল বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আজ এই সেমিনার এর আয়োজন করা হয়েছে। উন্নতমানের নির্মাণকাজ এবং দূর্ণীতি রোধকল্পে সেমিনার এর মাধ্যমে আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বাধা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে যাচ্ছে- অনুরুপভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অতীতের বদনাম ঘুচিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। যাতে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসে। তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিপত্র জারির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সকল সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করার কর্তৃত্ব প্রদান করার কারনে সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে নগরীর উন্নয়ন তরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মেয়র বলেন, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম এর সামুদ্রিক বন্দর এর সক্ষমতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানী ও রপ্তানী বহুগুনে বেড়ে যাচ্ছে। বন্দরের প্রয়োজনে রাস্তা ও সড়ক পথের ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নগরীর সড়ক সমূহ সংস্কার করা হবে। মেয়র সকল নাগরিক এর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে পরষ্পরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে নান্দনিক ও বিশ্বমানের নগরী গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগকে পালন করতে হবে। মেয়র বলেন,আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে স্মার্ট সিটির আওতায় আনায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ১ ডিসেম্বর থেকে স্মার্ট সিটির প্রথম ধাপের কর্মসূচি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। মেয়র তাঁর সেবাধর্মী সকল কর্মকান্ডে দলমত নির্বিশেষে সকল নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সেমিনারে সচল রাখিব প্রযুক্তি ও দক্ষতায়-এ স্লোগানকে সামনে রেখে সড়ক নির্মাণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রবন্ধে প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশল বিভাগের কর্মবাস্তবায়ন কাঠামো বিন্যাস তুলে ধরে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে রাস্তা নির্মাণ,মেরামত ও উন্নয়ন। তিনি রাস্তা উন্নয়নের ২ টি ধাপ রিজিডপেভমেন্ট ও ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এর বিষদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরীতে ভারী যানবাহনের সংখ্যা ও ট্রাফিক ঘনত্ব অত্যন্ত বেশী। সেহেতু এখানে সওজ এর টাইপ ডিজাইন সমূহের ব্যবহার উপযোগিতা বেশি বলে উল্লেখ করে সে সকল রাস্তার বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে মান নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে বলেন, রাস্তা নির্মাণের কাজ মান নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। নির্মাণ সংক্রান্ত ড্রইং,ডিজাইন,উপকরণের গুনাগুন পরীক্ষা, দক্ষ মাঠকর্মী, সুপারভাইজার, যোগ্য প্রকৌশলী, হিসাব নিরীক্ষা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। পরিশেষে প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, তার লিখিত প্রবন্ধ সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রিন্ট করে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।এই প্রবন্ধে তাত্বিক জ্ঞাণকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রধান প্রকৌশলী সেমিনার আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply