চট্টগ্রামের চলমান সংকট সমাধনের দাবীতে ১৯ ডিসেম্বর মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ নভেম্বর, সোমবার: চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধি সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন।ccf28nov16 দক্ষিণ এশিয়ার স্বর্ণদ্বার প্রকৃতির অপার সৃষ্টি সমুদ্র বন্দর ও কর্ণফুলী নদী। এই সমুদ্র বন্দর দিয়ে সিংহভাগ আমদানী-রপ্তানী নির্ভর করে এবং দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আদায় হয় এই বন্দর থেকে। অথচ চট্টগ্রাম উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা নেই বললে চলে। চট্টগ্রামে যা উন্নয়ন হচ্ছে মাস্টার প্ল্যানবিহীন গতানুগতিক। ২৮ নভেম্বর সোমবার মোমিন রোডস্থ প্রিয়া কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধি সম্মেলনে ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব কামাল উদ্দিন সাংগঠনিক প্রস্তাবনা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করার মধ্যদিয়ে প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী, ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা জাফর, হেকিম মোহাম্মদ উল্লাহ, সালামত উল্লাহ, জাতীয় পার্টি(জেপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক আজাদ দোভাষ, ফুলকলির জিএম মোহাম্মদ আব্দুস সবুর, যুগ্ন মহাসচিব নাহিদা খানম শিমু, মোহাম্মদ মুসা, সাংবাদিক সামসাদ সাত্তার, মুজিবুর রহমান, ডা. শেখ মোহাম্মদ জাহেদ, চৌধুরী জসিমুল হক,লায়ন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মিন্টু, এম এ হান্নান, আবুল কালাম আজাদ, মো; ইসহাক, কাজলপ্রিয় বড়–য়া, চট্টগ্রাম বেকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, মো: মহিউদ্দিন চৌধুরী, মো: নুরুল ইসলাম চৌধুরী, মো: মুক্তার আহম্মদ, নুরুল আলম চৌধুরী, অনুপ কান্দি দাস, ডা. আহমেদ সায়েদ, গাজী মো: খালেকীন মো: ইমন, মো: মেজবাহ। ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন পূর্বের ইতিহাস টেনে বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবীতে আশি দশক থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। বিশেষ করে ১৯৮৮ সালে ১৬ই আগস্ট বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণসংগ্রাম কমিটি (বর্তমান গণ শব্দটি নেই) বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি গঠনের মাধ্যমে চট্টলবন্ধু মরহুম এস এম জামাল উদ্দিন ও আমি সহ চট্টগ্রামের একাধিক সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে প্রথমে ১৫ দফা পরবর্তীতে ২১ দফা দাবী সরকারের কাছে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিয়ম তান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ বিশেষ হরতাল, রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ, গণ অনশন, প্রতিবাদী সমাবেশ ও মিছিল এবং মানববন্ধনসহ সকল ধরনের আন্দোলন মুখি কৌশল প্রয়োগ করেছিলাম। যার প্রেক্ষিতে আমাদের দাবীসমূহ গণ দাবীতে পরিনত হয়েছিল এবং আমাদের আন্দোলনের মুখে প্রতিটি সরকার ধারাবাহিকভাবে দাবীগুলো প্রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আজকের বাস্তব প্রেক্ষাপটে যেসব উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রতিফলিত হচ্ছে তা আমাদের আন্দোলনের ফসল। এ আন্দোলন সংগ্রামে যারা জড়িত ছিলো তাদের মধ্যে চট্টলবন্ধু এস এম জামাল উদ্দিনের মতো অনেকে বেঁচে নেই। আমি বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম জামাল উদ্দিনসহ যারা প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। এখনো যারা বেঁচে আছেন এবং আন্দোলন সংগ্রামের সাথে সক্রিয়তা বজায় রেখেছেন তাঁদের প্রতিও সম্মান জানাচ্ছি। একটা প্রেক্ষাপটে অতীতে চট্টগ্রাম উন্নয়নের জন্য হরতাল, অবরোধসহ মারাত্মক কর্মসূচী পালন করতে হয়েছে। কিন্তু আজকের বাস্তব প্রেক্ষাপটে ঐ ধরনের আন্দোলন সংগ্রামের প্রয়োজন নেই। বর্তমান মানুষ অনেক সচেতন এবং সোচ্চার। যার দরুণ আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তনের পাশাপাশি সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচী পালনের জন্য আমরা বিগত ২০১৫সালে ৩১শে জুলাই (বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি পরে যিনি হাল ধরেছিলেন জামাল ভাইয়ের সাথে) চট্টগ্রামের পরিচিত মুখ চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের দক্ষ সংগঠক লেখক মো. কামাল উদ্দিনকে মহাসচিব এবং আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ পূর্বক অসংখ্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রেমিদেরকে সাথে নিয়ে পরীক্ষা মূলভাবে ছোট আকারে “চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম” পযরঃঃধমড়হম পরঃরুবহং ভড়ৎঁস (ঈঈঋ) গঠন করেছি। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও গঠন করা হয় নাই। ব্যারিস্টার মনোয়ার বলেন, নাগরিক ফোরাম গঠনের পর জনমত গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে একাধিক কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি থানা ও উপজেলা, ওয়ার্ড, মহল্লা এবং বাংলাদেশের বাইরেও একাধিক দেশে, “চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম” এর শাখা কমিটি গঠন করেছি। ঐ কমিটি সমূহসহ চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামকে পরিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক রূপ দেওয়ার জন্য আজকের এ প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করেছি। এ সম্মেলন থেকে আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবীতে কর্মসূচী ঘোষণার পাশাপাশি চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিপূর্ণ কমিটি ঘোষণা করবো আশা করছি। তিনি বলেন, বিগত সময়ের মতো চট্টগ্রামের উন্নয়ন বিষয়ে আমরা একান্ত অগ্রণি ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিয়েছি। আপনারা আরো জানেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং টেক্সের নামে ১৭% ইনক্াম টেক্স ধার্য্য করেছেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি, কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং একেবারে বন্ধ। চট্টগ্রাম শহরের পুরাতন খালসমূহ দখলকারীদের হাত থেকে এখনো দখল মুক্ত হয়নি এবং খালগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নতুন খাল খননের কথা থাকলেও অদ্যবদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। চট্টগ্রাম উন্নয়নের কোনো মাস্টার প্ল্যান নেই। নগরীর যানজট নিরসনের কোনো পরিকল্পনা নেই। খাল-বিল-নদী নগর দিনদিন প্রতিদিন পরিবেশ দূষণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সংকট সমাধান হয় নাই। কর্ণফুলী নদীতে কালুঘাটে একটি নতুন সেতু নির্মাণের ঘোষণা থাকলেও অদ্যাবদি বাস্তবায়ন হয় নাই। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে উল্লেখিত বিষয়সমূহ সমাধানের দাবীতে আগামী ১৯ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন পালন করার ঘোষণা করছি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ধার্য্যকৃত হোল্ডিং টেক্সের নামে ১৭% ইনক্াম টেক্স প্রত্যাহার, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতার সমাধান, কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং চালুকরণসহ চট্টগ্রামের গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ চলমান সংকট নিরসনের দাবীতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী, যানবাহন,সংবাদপত্র, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট, প্রতিটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় পূর্বক সর্বস্তরের জনগনকে নিয়ে জনসভা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলাম। এর মধ্যে চট্টগ্রামের প্রতিটি সচেতন মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে জনমত গঠন সভা চালিয়ে যাবো। এর মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে। আগামী ২০ শে জানুয়ারীর মধ্যে যদি হোল্ডিং টেক্স বিষয়ে একটা সুরাহা না হয়, এবং জলাবদ্ধতা, যানজট ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মকান্ড গ্রহণ করা না হয় তাহলে সর্বমহলের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচী দেয়া হবে।

Leave a Reply