লাখো পাসপোর্ট জব্দ চীনে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ নভেম্বর, শুক্রবার: চীনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলী জিনজিয়াং অঞ্চলের লাখ লাখ অধিবাসীর পাসপোর্ট স্থানীয় পুলিশের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। চীন সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপকে ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হামলা বলেছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। খবর সিএনএনের।1
গত ১৯ অক্টোবর সিহেজি পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো ইমিগ্রেশন অফিস এই নির্দেশ দেন। বাৎসরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুলিশ পাসপোর্ট নেয়া হয়েছে বলে নির্দেশনায় বলা হয়।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিদেশ ভ্রমণকারীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। যারা অনুমতি নিবেন না তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে।
জিনজিয়াং প্রদেশটি জাতিগতভাবে বিভক্ত। প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলটিতে প্রায় এক কোটি মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায় এবং ৮০ লাখ হান সম্প্রদায় বাস করে।
জার্মানি ভিত্তিক উইঘুর সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস জানায়, উইগুর সম্প্রদায়ের আন্দোলনকে সীমিত করতে সরকারের একটি ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও জানায়, যদিও আইনটি সব অধিবাসীদের জন্য। অতীতে চীনা সরকার নির্দিষ্টি করে উইঘুর সম্প্রদায়ের গতিবিধি সীমিত করতে স্পষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে।
চীনে সন্ত্রাসী হামলা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি হামলার জন্য উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করেছে চীন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কয়লা খনি বিস্ফোরণে ৫০ জন নিহত হয়। এর জন্যও উইঘুর সম্প্রদায়কে দায়ী করা হয়েছিল।
নির্বাসিত এবং মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা বলেছেন, সরকার ধর্মীয় নীতি দমন করতে চাইছে এবং অর্থনীতি প্রান্তিকীকরণ করে উত্তেজনাকে উসকে দিচ্ছে।
চীনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক সোফি রিচার্ডসন এক বিবৃতিতে জানান, জনগণের পাসপোর্ট জব্দ করার বিশ্বাসযোগ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি চীন কর্তৃপক্ষ। তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে এই পদক্ষেপ মানে সমষ্টিগত শাস্তি। এতে করে সরকারের প্রতি জনগণের বিরক্তি বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply