বিজিবির হাতে উদ্ধারকৃত বণ্যপ্রাণী তক্ষকের মুল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা!

হাবিব সরোয়ার আজা, ২৩ নভেম্বর, বুধবার: তক্ষক স্থানীয় ভাবে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই প্রজাতির বন্যপ্রাণীকে কক্ষা নামেই চিনে থাকে। এ বণ্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে রাতারাতি কোটি pic-bgv-sunamganj-tokkotপতি হওয়ার আশায় এশধরণের প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু বিপথগমিী লোক সর্বস্থ খুইয়েছেন। সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে এ ধরণের তক্ষক পাচারকারী- ক্রয়কারী এমনকি বিজিবির কথিত কক্ষা বা তক্ষক উদ্ধারের পর এর মুল্য নির্দারণ করাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু দিন ধরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির টহল দলের হাতে উদ্ধারকৃত কথিত বণ্যপ্রাণী ৩ তক্ষকের মুল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করাকে নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ওই তক্ষক কী কাজে লাগে আর কীভাবে এর মুল্য নির্ধারণ করেছে বিজিবি কতৃপক্ষ।’
ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার সুত্র জানায়, জেলার বাঁশতলা বিওপির বিজিবির একটি টহল দল ওই ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মোঃ নুরুল আমিনের নেতৃত্বে সোমবার সন্ধারাতে সীমান্তের মেইন পিলার ১২৩৩ হতে ৫’শ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঁশতলার দক্ষিন কলোনী থেকে কথিত ৩টি বণ্যপ্রাণী তক্ষক যার একটি ০৮ ইঞ্চি এবং দুইটি ০৭ ইঞ্চি লম্বা আটক করে। বিজিবির দাবি উদ্ধারকৃত তক্ষকের মুল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।’এদিকে জেলার মাছিমপুর বিওপির বিজিবির টহল দলও ইতিপুর্বে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ওই ধরণের তক্ষকের মুল্য কোটি কোটি নির্ধারণ করে বনবিভাগে হস্তান্তর করার পর মুল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও নানা মুখরোচক আলোচনা বয়ে গেছে।’ সুনামগঞ্জ বনবিঅগের রেঞ্জার বলরাম রায়ের নিকট মঙ্গলবার তক্ষকের মুল নিধৃারণ প্রক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, বিজিবি কীসের ভিক্তিত্বে তক্ষকের মুল্য নির্ধারণ করে সেটি আমারও বোধগম্য নয়, আমি বিজিবিকে মুল্য নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের নির্ধারিত মুল্য তালিকা দেখাতে বললেও তারা তাতে সায় দিচ্ছেন না।’ তিনি আরো বলেন, কী করব বিজিবি কয়দিন পরপর এ ধরণের প্রাণী নিয়ে আসে অবমুক্ত করে দেই, কিন্তু ওগুলো আদৌ কোন তক্ষক ? নাকি অন্য কোন প্রাণী তাও আমি জানিনা।’
সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল নাসির উদ্দিন আহমদ পিএসসির নিকট তক্ষকের মুল্য ও তক্ষক চেনার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, তক্ষকের প্রজাতি ও সাইজের উপর নির্ভর করেই মুল নির্ধার করা হয়ে থাকে, যেমন কোন তক্ষকের পায়ের পাতা যদি হাঁসের পা’র মত হয় তার মুল্য বেশী, আবার মুরগীর মত পা হলে তার মুল্য কম।’ তিনি আরো বলেন, বিজিবি যখন বন বিভাগে তক্ষক হস্তান্তর করে তখন বন বিভাগ তক্ষক হিসাবেই তা গ্রহন করে কাগজ পত্র দেয়। পরবর্তীতে তা বন বিভাগের দায়-দায়িত্ব , তারাই দেখবে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে যে হস্তান্তর কৃত বন্যপ্রাণীট তক্ষক নাকি অন্য কোন প্রাণী। মুল
রাজশাহী বিশ্ব -বিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা ডিপার্টম্যান্টের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র রায়ের নিকট তক্ষক সম্পর্কে জানতে মঙ্গলবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিএ প্রতিবেদকে বলেন, আসলে তক্ষকের মুল এত নয়, বাংলাদেশে এ ধরণের প্রাণীর কোন চাহিদা নেই, তবে ইন্দো- চায়না, কোরিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রাণীটি কেউ কেউ শখের বশে বাড়িতে পোষে থাকেন, আবার অনেক সময় চিকিৎসার কাঁচামাল হিসাবেও ব্যবহ্নত হয়, বাংলাদেশে এ ধরণের প্রাণীর অস্থিত্ব থাকলেও সংকটাপন্ন বা বিলুপ্ত প্রায় নয়, প্রজাতি ভেদে তক্ষকের গায়ের বর্ণ হলুদাবরণ, সবজু লাল হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, এ ধরণের প্রাণী আটকের পর তক্ষক বা অন্যকোন প্রাণী কীনা তা জানতে বিশেষজ্ঞদের কিংবা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মতামত নেয়া যেতে পারে.মুল্য নির্ধারণের বিষয়টি তক্ষকের সাইজ ভেদে হতে পারে কিন্তু তা যে লাখ টাকাই তো হবেনা, সেক্ষেত্রে কোটি টাকা মুল্য নির্ধারন করাটা একেবারেই অবান্তর ও প্রশ্নাতিত।’

Leave a Reply