দোহাজারী’র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউ.পি কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স সরাসরি সম্প্রচার

মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা,চন্দনাইশ: সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ১৯ নভেম্বর (শনিবার) চট্টগাম বিভাগের ১১টি জেলার জনগণের সাথে গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময় চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দোহাজারী ইউ.পি কার্যালয়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।1
দোহাজারী ইউ.পি চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল নোমান বেগ’র উদ্যোগে ইউ.পি কার্যালয়ে এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স প্রদর্শন করা হয়। গণভবন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেন বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক/ শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং সাধারন জনগণ।2
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, দোহাজারী ইউ.পি কার্যালয়, দোহাজারী জামিরজুরী আহমদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, জামিরজুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জামিরজুরী সুন্নীয়া ফাজিল মাদ্রাসার হলরুমে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক, শিক্ষক/ শিক্ষিকা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।3

দোহাজারী জামিজুরী আহমদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ঃ-বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ্ আলম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি বশির উদ্দীন খান মুরাদ, অভিভাবক সদস্য মোঃ নুরুল আমিন, নুর মোহাম্মদ চৌধুরী, মোঃ আমির হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক ইসমাইল চৌধুরী, হোসেন ফারুকী, প্রীতি চক্রবর্তী, রাবেয়া বেগম, আব্দুস ছালাম, মুহাম্মদ মহসীন, মিলন নন্দী, স্বপন কুমার বড়ুয়া, বিকাশ কান্তি দাশ, হাসান আলী, তপন কুমার বড়ুয়া, প্রনব কুমার বসাক, মাধবী লতা দাশ, ভানুশ্রী ঘোষ, কে.এম মাহমুদুল হক কাদেরী, জিল্লুর রহমান, আলমগীর, শহীদুল আলম, মোঃ নাসির, আবদুল নুর, রোকসানা সুলতানা, রাজিয়া সুলতানা সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।4
দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ঃ- উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দনাইশ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের পুরষ্কারপ্রাপ্ত বাবু বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সদস্য আমির হোসেন, শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহানা বেগম, আশীষ চৌধুরী, সুভাষ ধর, রেহেনা বেগম, মফিজুর রহমান, আছাদুল হক, হাফিজা বেগম, গুলশান আরা, টিংকু ভট্টাচার্য, আছাদুল করিম। অভিভাবক তৌহিদুল ইসলাম ও আব্দুস ছালাম সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ঃ-উপস্থিত ছিলেন দোহাজারী ইউ.পি চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল নোমান বেগ, ইউ.পি সদস্য এস. এম জামাল উদ্দীন (৭নং ওয়ার্ড), মোঃ শাহ্ আলম (৩ নং ওয়ার্ড),মোঃ নুরুন্নবী (২নং ওয়ার্ড), মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণ চৌধুরী,দোহাজারী যুবওছাত্র ঐক্য পরিষদ আহবায়ক ওসমান আলী ভুট্টো, তপন দাশ, সুশীল দাশ, মরহুম আবুল কাশেম (লেদু) চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম, আ’লীগ নেতা রফিক মিয়া বানু, চট্টগাম দক্ষিন জেলা জাতীয় পার্টি সহ-সম্পাদক এ.কে.এম বাদশা মিয়া, আফসার উদ্দীন প্রমুখ।

জামিরজুরী সুন্নীয়া ফাজিল মাদ্রাসাঃ-উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি আহমদ হোসাঈন আল-কাদেরী, মাওলানা নুরুল ইসলাম লতিফী, প্রভাষক মাওলানা আবু সৈয়দ নেজামী, মাওলানা আবু তৈয়্যব রব্বানী, মাওলানা আব্দুল আলিম আল-কাদেরী, সহযোগী অধ্যাপক সামশুল আলম, আব্দুল কায়েস, আব্দুল মালেক রেজভী, সিনিয়র শিক্ষক মাষ্টার মহিউদ্দীন, মাওলানা খায়রুল বশর হক্কানী, মাষ্টার আবুল বশর, বজল ইসমাইল, মুহাম্মদ ইউছুফ, মাওলানা নুরুল আলম, লিয়াকত আলী, মাওলানা মিজানুর রহমান, মোছাম্মৎ জেসমিন আরা, ক্বারী জাকের হোসেন, মাষ্টার জাফর আলম, মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন আলী, মাওলানা আবদুল্লা আল মামুন সহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।5
গণভবন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা মোকাবেলার জন্য সমাজের প্রতিটা স্তরের মানুষের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ হবে দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ,এখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের কোন স্থান হবে না।”
তিনি আরো বলেন, “স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে বার বার পিছিয়েছে দেশ।সম্মিলিত উদ্যোগে সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে কাজ করে যাচ্ছে;এ কাজে আরো সফলতা আসবে,কারো ক্ষমতা নেই বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার।আগামী ২০২১সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে।
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির জনগনের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের জেলাগুলোতে জমি অধিগ্রহন ক্ষতিপূরন বর্তমানের ১০০+১৫%থেকে ১০০+৫০% এ উন্নীত করতে ভূমি কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।দুর্গম পার্বত্য জেলাগুলোর সাথে অন্যান্য জেলার সহজ যোগাযোগ স্থাপণের জন্য এ অঞ্চলকে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছিল আ’লীগ সরকার যার সুফল পাচ্ছে পার্বত্য জেলাগুলোতে বসবাসরত জনসাধারন।6
শিক্ষক সংকট উল্লেখ করে তা নিরসণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে রাঙ্গামাটির একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে শুধু রাঙ্গামাটি নয় সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও স্বাক্ষরতার হার শতভাগ না হওয়াটা লজ্জাজনক।”
সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত একটি জাতি পারে একটি দেশকে দারিদ্রতামুক্ত করতে।আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের সন্তানেরা যে কোন কাজ দক্ষতার সাথে করতে পারবে।7
আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী, এরা ভবিষ্যতে দেশের কর্ণধার হবে।
আমার মত প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনা করবে।এদের মধ্য থেকে কেউ প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও মন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমকা রাখবে। শিক্ষক হয়ে একটি শিক্ষিত জাতি গঠনেও ভূমিকা রাখবে কেউ কেউ।”
ধ্বংসের রাজনিতীর মাধ্যমে বি.এন.পি বার বার দেশকে পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত নির্বাচনে বি.এন.পি অংশ না নেয়ার দায় জনগনের নয়।নির্বাচন প্রতিহত করার নামে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে, প্রিজাইডিং অফিসারদের হত্যা করেছে।চাপাই নবাবগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছে,সেখানে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারকে আগুনের মধ্যে ফেলে হত্যা করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংস্থা, র্যাব, পুলিশ, বি.জি.বি থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কেউই রক্ষা পায়নি তাদের হাত থেকে।
এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ন জয়ন্তির অনুষ্ঠান ও সামুদ্রিক সম্পদ আহরনের জন্য সন্ধানী গভেষণা জাহাজের উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply