আবারো ম্যালেরিয়া হচ্ছে সচেতন হও

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ নভেম্বর, রবিবার: ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আয়োজিত অবহিতকরণ সভা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. আলাউদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি 1কলিম সরওয়ার, ব্র্যাকের কর্মসূচি প্রধান ডা. মোকতাদির কবীর ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এবং বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. দেলোয়ার হোসেন। তথ্য জানান ব্র্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার দিলীপ কুমার সাহা। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সনজয় কুমার পাল। বক্তারা বলেন,2 চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ম্যালেরিয়ায় মারা গেছে ১৭ জন। এর আগে ২০১৫ সালে ৯ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী মারা যায়। তুলনামূলকভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়লেও মারাত্মক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। ২০১৫ সালে ১ হাজার ২৩ জন এ ধরনের রোগীর বিপরীতে আট মাসে এ সংখ্যা মাত্র ৫৬৫। কমছে মোট ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাও। ২০১৫ সালে যেখানে ৩৯ হাজার ৭১৯ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, এবার আট মাসে তা ২১ হাজার ২৩২ জন।1
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৫ সালে ম্যালেরিয়াজনিত কারণে বিশ্বে ২১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ অসুস্থ এবং ৪ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগের বয়স ৫ বছরের নিচে। আফ্রিকার সাব-সাহারান ও এশিয়া মিলে মাত্র ১৫টি দেশেই ৮০ শতাংশ ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যু। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে যেখানে ১৫৪ জন ম্যালেরিয়ায় মারা গেছে সেখানে ২০১২ সালে তা ১১ জনে নেমে আসে। ২০১৩ সালে বেড়ে ১৫, ২০১৪ সালে তা ৪৫ জনে দাঁড়ায়। তবে আশার কথা হচ্ছে ২০০০ 3সালের তুলনায় ২০১৫ সালে বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুহার ৬০ শতাংশ ও অসুস্থতার হার ৩৭ শতাংশ কমেছে।
বিশেষজ্ঞ বক্তা ছিলেন জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ সাত্তার, ডা. অনুপম বড়ুয়া ও ডা. রাশেদা সামাদ।
সভায় জানানো হয়, দেশে ১ কোটি সাড়ে ৩২ লাখ জনগোষ্ঠী ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে তিন পার্বত্যজেলা উচ্চপ্রবণ, কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, সদর মধ্যপ্রবণ ও ৯টি জেলা নিম্নপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। ম্যালেরিয়াপ্রবণ উপজেলা ৭১টি। উচ্চ ও মধ্যপ্রবণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ৩৩ লাখ ৪০ হাজার। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে বান্দরবানে, ১০ হাজার ৮০৩ জন। এরপর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি যথাক্রমে ৭ হাজার ১২৬ জন ও ১ হাজার ৮১৮ জন।4
সভায় ম্যালেরিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, মশার ফলে সৃষ্ট রোগব্যাধি সম্পর্কে মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলে যেভাবে জোয়ার-ভাটায় পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা বিলি করা হয় তেমনি তিন পার্বত্যজেলাসহ উচ্চ ও মধ্যপ্রবণ জেলাগুলোতে সতর্কবার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

Leave a Reply