প্রসঙ্গ: মেলা সংস্কৃতি প্রেক্ষিত বর্তমান

মো: কামাল হোসেন: আসছে বিজয় মেলা, বিজয় মেলা বাঙ্গালী সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গে পরিণত হয়েছে। মেলা বাঙ্গালীর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যুগযুগ বছর ধরে আবহমান বাংলায় বাঙ্গালী সংস্কৃতির kamalসাথে মেলার যোগবন্ধন এক ও অভিন্ন সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে। মেলা, মেলা, মেলা যেন বাঙ্গালীর হৃদয় চিত্তকে নাড়া দেয় গভীর ভাবে। এ আয়োজন না হলে যেন চলেনা। এ যেন আমাদের জীবন জীবিকার মাধ্যমও অনেকাংশে বটে। মেলায় আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চেনা অচেনা লোকজন তাদের সাথে একে অন্যের সাক্ষাৎ-পরিচয় কথোপকথন রূপ নেয় আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের বন্ধনে। হরেক রকম জিনিসপত্র বিকিকিনি চলে মেলায়। বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে উদ্যাপিত হয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেলা। তৎমধ্যে, বৈশাখী মেলা, বিজয় মেলা, স্বাধীনতা মেলা, নবান্ন মেলা, একুশের বই মেলা সহ আরো ছোট বড় নানা মেলার আয়োজন হয় নানা সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে। দেশের বৃহত্তম মেলা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার রমনার বটমূলে। চট্টগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও জমে মেলার আয়োজন। তৎমধ্যে ডি.সি.হিল, লালদীঘির পাড়, এম.এ. আজিজ আউটার স্টেডিয়াম, রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড ময়দান অন্যতম। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে নানান উপলক্ষকে কেন্দ্র করে সারা বছরই আয়োজন হয় ছোট-বড় নানা রকম মেলা। বিজয় মেলা, একুশে মেলা ও স্বাধীনতা মেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশ প্রতিষ্ঠার বীরত্বগাঁথা ইতিহাস জানতে পারে। অন্যান্য মেলার মাধ্যমে বাঙ্গালী সংস্কৃতি সম্পর্কেজানতে পারে, মূলত মেলা বাঙ্গালী জনজীবনের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি অনেকটা লালন করে তাই মেলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বাঙ্গালী জনজীবনে। ‘কিন্তু সংস্কৃতি আজ পিষ্ঠ হচ্ছে অপসংষ্কৃতির যাতাকলে’। অনেক মেলায় দেখা যায় মদ, জোয়ার আসর, মঞ্চ নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে নারী-পুরুষ হেলে-ধূলে রাতভর অর্ধ উলঙ্গ নৃত্য ও গানের আসর। এ অসুস্থ সংস্কৃতি চর্চার কারনে দেশের শিশু ও যুবক সমাজের মানসিক বিকাশ বিপথে ধাবিত হতে পারে এবং তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে সামান্য একটি বিকৃত ঘটনাও প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। যা অনেক সময় দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। তাই মেলাকে সর্বসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সরকার প্রশাসন জনপ্রতিনিধি ও মেলা কর্তৃপক্ষকে যথার্থ ভূমিকা রাখতে হবে। মেলা নিয়ে এক শ্রেণীর লোক অশুভ ধান্দাবাজিতে লিপ্ত হয় এবং দেখা যায় তাদের মাঝে বিভিন্ন ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের সৃষ্টি হয়। যার কারনে মেলায় তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া মারামারি চলে। হতাহত হয় অনেক লোকজনও। এগুলো প্রশাসনকে শক্তহাতে দমন করতে হবে। সার্কিট ক্যামরার মাধ্যমে মেলার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখতে হবে, সরকার বিরোধী আন্দোলনের লোকজনও মেলার অভ্যন্তরীণ সুশৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন অশুভ কর্মকান্ড চালাতে পারে, সে ব্যাপারেও প্রশাসন, মেলা কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রতিদিন রাত ১১:০০ টার পর মেলার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে যুবক-যুবতীদের উশৃঙ্খলতা বন্ধ রাখতে হবে। এক কথায় মেলায় আগত অতিথি, দর্শনার্থীদের সার্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মেলার বিধি-বিধান সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ প্রচার মাধ্যম অব্যাহত রাখতে হবে। সুস্থ বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মেলা সংস্কৃতিকে তার নিজস্ব স্বকিয়তায় বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এদেশের সুস্থ ধারার সংস্কৃতিকে অপসংস্কৃতির কালো থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে। তা নাহলে বাংলাদেশের বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতি অনুপ্রবেশ করে ধক্ষংস করবে বাংলাদেশের হাজার বছরের লালিত সুস্থ ধারার বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে। আসুন বিশ্বায়ন ও তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা করি। অসুস্থ ধারার সংস্কৃতি থেকে নিজেদের বিরত রাখি, তাতে দেশ সমাজ ও নতুন প্রজন্ম উপকৃত হবে। লেখক: সাংবাদিক, সংগঠক

Leave a Reply