এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে দ্বিগুণ টাকার নেয়ার অভিযোগ

এমএমরাজা মিয়া রাজু: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে নির্ধারিত ’ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া যাবে না। যেসব বিদ্যালয় নিয়ম 1ভঙ্গ করে অতিরিক্ত টাকা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশানা অনুযায়ী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিভাগ অনুযায়ী ফি’ উল্লেখ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ’ফি’ মতে বিজ্ঞান বিভাগে মোট ১হাজার ৪শ’ ৮৫টাকা। আর মানবিক ও ব্যবসা মোট ১হাজার ৩শ’ ৯৫টাকা। কেন্দ্র ফিসহ বিজ্ঞান বিভাগে সর্বমোট ১হাজার ৭শ’ ৮৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসা বিভাগে ১হাজার ৬শ’ ৯৫টাকা। সাতকানিয়াসহ নগরীর কতেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকা উক্ত নিয়ম তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছা মতো টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করেছেন বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি নিয়ে ফরম পূরণ করেছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয় গুলোতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলে ১হাজার ৮শ’ টাকা ছাত্রদের কাছ থেকে নেয়ার পর কোন রশিদ দেয়া হয়নি। বরঞ্চ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেজিয়া আখতারের নির্দেশে শ্রেণী শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের আগামী ২৬ নভেম্বর আরও ১হাজার ৫শ’ টাকার নেয়ার নির্দেশ দেন। ওইদিন তাদের ফরম পূরণ করা হবে বলে ছাত্রদের জানিয়ে দেয়া হয়। এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে শ্রেণী শিক্ষক সমরেন্দ্র নারায়ণ ধরের কাছে অতিরিক্ত ১৫শ’ টাকা নেয়ার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান এখানে আমার করার কিছু নেই। ম্যাডামের নির্দেশে আমি ছাত্রদের ১৫শ’ টাকা আনার কথা বলেছি। এই প্রতিবেদক ১৪ নভেম্বর দুপুরে ১৮শ’ টাকা নেয়ার পর আর ও ১৫শ’ টাকা ছাত্রদের নেয়ার নির্দেশের কথা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব স্কুলে নিচ্ছে, আমি ও নেব। তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন অর্পনা চরণ কৃষ্ণ কুমারী, কলেজিয়েট ও খাস্তগীর স্কুলে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। তখন এ প্রতিবেদক কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের কাছে মুঠোফোনে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান আমরা বোর্ডের নির্দেশ মতে ১৭শ’ টাকা নিচ্ছি। এই কথা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেজিয়া আখতার শোনার পর তেলে বেগুন হয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে অশোভন আচরণ করেন। তিনি বলেন আমি কাউকে পরোয়া করি না। আমাকে কেন এই চেয়ারে বসানো হয়েছে। জানা যায় তার সাথে স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকের বৈরীভাব। তার আচার আচরণে অভিভাবক ও শিক্ষকরা অতিষ্ট। তার বাড়ী কক্্রবাজার জেলার মহেশখালী বলে জানা যায়। তার অশোভন আচরণ ও অতিরিক্ত টাকার নেয়ার চাপ সৃষ্টির বিষয়টি জেলা প্রশাসক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও সিটি কর্পোরশনের শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে গত মংগলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই শিক্ষিকা উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে সূত্রে প্রকাশ। সূত্র মতে অভিভাকরা ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা যোগাড় করতে গিয়ে হিমশীম খাচ্ছে।

Leave a Reply