গণতন্ত্র সুসংহত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই: কেগম জিয়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ নভেম্বর, শনিবার: ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি।1
শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাব উত্থাপন করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে এ পর্যন্ত যারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেসব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে স্বাধীনতার পর গঠিত সকল রাজনৈতিক দলের মহাসচিব বা ওই সংশ্লিষ্ট দলের মনোনীত ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন। এরপর সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে ।’
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও নিবন্ধিত সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি।
বাছাই কমিটির সদস্যদের সাবেক প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, বিশ্ববিদ্যায়লের সাবেক অধ্যাপক ও দক্ষ যোগ্য নারীদের মধ্য থেকে বাছাই করার প্রস্তাব দেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন, ন্যূনতম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার সম্পন্ন, সিনিয়র আইনজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হবেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে দু’জন ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আটজন ব্যক্তিকে চার নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্তির সুপারিশ করবে বাছাই কমিটি। এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে দুজনের মধ্যে একজন এবং নির্বাচন কমিশন পদে আটজন থেকে চারজনকে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন তার বক্তৃতায় ইসিকে অধিকতর শক্তিশালীকরণের জন্য বিধিবিধান ও আরপিও সংস্কার করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ইসির নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে এবং সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে।
তিনি, ইসি কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের আহ্বান জানান। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় ইসি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করবে বলেও প্রস্তাব দেন তিনি। খালেদা জিয়া তার প্রস্তাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন।
তিন বলেছেন, ভোটগ্রহণের সময় ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে তা পোলিং বুথেই রাখতে হবে। আর ভোট গ্রহণের পর খালি ব্যালট বাক্স যদি থাকে তা নিরাপদে রাখতে হবে।
বিএনপি চেয়াপারসন রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতিসত্ত্বর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য বিএনপির প্রস্তাবনা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, আবদুল মান্নান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।
২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে- কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, আন্দালিব রহমান পার্থ, শফিউল আলম প্রধান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জেবেল রহমান গানি গোলাম মোর্ত্তজা, আজহারুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাঈদ আহমেদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মো. আবদুর রকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে প্রবীন আইজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ, জাবির সাবেক উপাচার্য ড. মোস্তাহিদুর রহমান, দিলারা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply