দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর, বুধবার: সবুজের উত্তরীয় ঘেরা উঁচু-নিচু দালান। হেমন্তের শিশিরে ভেজা চিকমিকে অবারিত সবুজ প্রাঙ্গণ। হৃদয়কাড়া বাহারি ফুলের সৌরভ। রাতে কান ধাধানো ঝিঁঝিঁর ডাক। চোখ জুড়ানো নানা প্রজাতির সারি সারি সবুজ বৃক্ষ। উপর থেকে দেখলে মনে হবে ঘন সবুজের 1লীলাভূমি। এসব বৃক্ষের ডালে অপার ভালোবাসায় সুখের নীড় বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি। দোয়েল, শালিক. চুড়–ই, ঘুঘু, কোকিলসহ নাম না জানা অনেক পাখি। অনবরত গানে-গানে মাতিয়ে রাখে নিত্যদিনের সকাল। সব মিলে যেন এক স্বর্গপুরী। এটা আর কোথাও নয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত রূপ ঠিক এমনই।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহর থেকে যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কি.মি দূরে অবস্থিত। কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে এক নিবিড় পল্লীতে গড়ে উঠেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রতিষ্ঠিত সাদ্দাম হোসেন হলের পূর্বদিকে ঘন সবুজ বৃক্ষের বাগান। যেথায় দেখা যায় কাঠবিড়ালি, শিয়াল, নেওঁলেসহ নানা প্রজাতির পশু-পাখি। শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দক্ষিণে এবং লালন শাহ হলের পশ্চিমে রয়েছে সারি সারি মেহগনি গাছের বাগান। এখানে শত পাখি সুখের নীড় বেঁধেছে। এসব পাখির কলকাকলিতে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ঘুম যেন হারাম।
শহীদ জিয়াউর রহমান হলের অদূরে সোজা পশ্চিমে শেখ হাসিনা হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও খালেদা জিয়া হল। এসব হলের সামনের প্যারডাইস রোড (ছাত্রী আবাসিক হলের সামনের রাস্তা) হয়ে মফিজ লেক পর্যন্ত আমলকি, জাম, আমড়া, দেবদারু, অর্জুন, হরতকি, সুন্দরীসহ নানা প্রজাতির সারি সারি সবুজ বৃক্ষ।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমি ভবনের সামনে, ভিসির বাংলোর পাশে এবং শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা ঘেরা রয়েছে বৃক্ষের সমাহারে। এসব গাছ-গাছালিতে বাসা বেঁধেছে শত শত পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমে আছে মফিজ লেক। এই লেকে শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখি ছুটে আসে উষ্ণতার খোঁজে।
প্রভাতের অরুণোদয় হওয়ার আগেই পাখিরা খাবার সংগ্রহে বের হয়। আবাসিক হালের ডাইনিংয়ের পাশে, ক্যাম্পাসের ঝাল চত্বর, ডায়না চত্বর, ক্যাফেটেরিয়াসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এরা খাবার সংগ্রহ করে। বিকালে ফিরে আসে আবাসিক হলের ছাদে। পানির ট্যাঙ্ক থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত পানিতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ধুয়ে মুছে নেয় বির্বণ শরীর। আবার রোদে গিয়ে মজা করে গা শুকায়। সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়লে আপন নীড়ে ফেরে। কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত করে চারপাশের পরিবেশ।
অনুভূতি ব্যক্ত করে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান বলেন, সকালে সূর্যের আলো ও পাখি বারান্দায় এসে উঁকি দিলে মনে হয় ইবির সৌন্দর্যের উৎকৃষ্টতার স্পর্শে যেন নতুন মাত্রা। এই স্মৃতিগুলো হয়তো পরবর্তীতে আর পাব না। এখানকার সৌন্দর্য প্রকাশের ভাষা আমার নেই। তারপরও বলতে চাই, ইবির প্রতিটি সৌন্দর্য আমাদের মনের মাঝে দাগ কেটে দেয়। পাখিগুলো আমাদের প্রতিবেশীর মত। বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে হাজার হাজার পাখি মারা গেলে হৃদয় ভাঙার মত কষ্ট হয়। আবাসিক হলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের মধ্যকার ফুল বাগানের মধ্যে ব্যতিক্রম পরিবেশ শহীদ জিয়াউর রহমান হলে। এখানে রয়েছে অসংখ্য ফুলগাছ যা অন্য হলে নেই। রাতে শিউলি ফুলের সৌরভ এবং চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর সমন্নয়ে অন্যরকম একটি পরিবেশ তৈরি হয় সেটা এ হলে না আসলে বোঝা সম্ভব না।
আশিকুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাস জীবনের আবাসিক হলে থেকে পড়াশুনা করার স্বাদ ও তৃপ্তির অনুভূতি প্রকাশের মত। যার স্বাদ অন্য কাউকে বোঝানো যায় না। সকালে যখন পাখির কলকাকলীতে ঘুম ভাঙে। তখন এ অনুভূতি বহুগুণে বেড়ে যায়। ভোরে যখন পাখি ডাকে তখন ক্যাম্পাসকে নৈস্বর্গিক মনে হয়।
নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আর প্রকৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, ‘জীবন যেথায় হারিয়ে যায়, অবারিত সবুজের নিলীমায়। ফুল-পাখির আর স্বপ্নের দেশে।’

Leave a Reply