ওসেপ গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর, বুধবার: অরগানাইজেশন অব সোশ্যাল সার্ভিস অ্যান্ড এলিমিনেশন অব পোভার্টি (ওসেপ) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর থেকে নগরীর এনায়েত বাজার এলাকার বাটালী রোডের জসীম উদ্দিন ভবনে অবস্থিত ওসেপ কার্যালয়ে হাজারো জামানতকারী বিক্ষোভ করেছে।
দৈনিক বিশ, সপ্তাহে ১৪০, মাসিক ১০০০, এককালীন ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। জামানতকারী বেশির ভাগ খেটে খাওয়া লোকজন।1
ফারজানা নামের এক গার্মেন্টসকর্মী জানানন, দৈনিক বিশ টাকা হারে ওসেপ’কে ইতোমধ্যে আমি ৮০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। চার বছরে দ্বিগুণ দিবে বলেছে। তবে কেউ যদি এর আগে টাকা তুলতে চায় এক্ষেত্রে কিছু কম দেওয়ার কথা ছিল। সোমবারও (১৪ নভেম্বর) ওসেপ অফিসের এক মেয়ে গিয়ে টাকা নিয়ে এসেছে। কিন্তু মঙ্গলবার শুনলাম সংস্থাটি হঠাৎ করে অফিস বন্ধ করে চলে গেছে। আমার মা খবরটি শোনে আমাকে জানালে, আমি অফিস থেকে বাটালি রোড আসলাম। আমি কষ্ট করে এ টাকা জমিয়েছি। অনেক সময় সাপ্তাহিক জামানতের টাকা দিতে না পারলে মাস শেষে বেতন পেলে এক হাজার টাকা দিয়ে দিতাম। এগুলো আমার ঘাম জড়ানো পরিশ্রমের টাকা।
মায়া আক্তার নামের আরেকভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমি মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে আয়ার কাজ করে সপ্তাহে ১৪০ টাকা করে ২২ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। চার বছরে দ্বিগুণ দেওয়ার কথা ছিল। আজকে তাদের অফিস বন্ধ করে চলে গেছে। ওই টাকা আমার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য জমা করছিলাম। আমার এ কষ্ট্রের টাকা যদি তারা হাতিয়ে নিয়ে যায়, আল্লাহ তাদের ছাড়বে না।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাটালি রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই শতাধিক লোকজন ওসেপ কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছে। যদিও ওসেপ কার্যালয় তালাবদ্ধ। শুধুই ফারজানা, মায়া নয় এরূপ হাজারো খেটে খাওয়া মানুষের টাকা জামানত নিয়ে অফিস বন্ধ করে চলে গেছে ওসেপ কর্তৃপক্ষ্। ডা. জহির উদ্দিন ওসেপ এর মালিক। সম্প্রতি তিনি মারা যাওয়ায়, এখন ওনার স্ত্রী দেখভাল করছেন। তবে যাদের কাছ থেকেই টাকা জমা নিয়েছে, তাদের সাথে একটি চুক্তিপত্রে সই করেছে তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অহিদুর রহমান নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ৫০ টাকার দুইটি স্টাম্পে চুক্তি করে আমি এককালীন ২ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। মাসে ৪ হাজার টাকা হারে তারা লভ্যাংশ দেওয়ারও চুক্তি ছিল্। ইতোমধ্যে আমাকে তিন মাসে বার হাজার টাকা লভ্যাংশ দিয়েছি। কিন্তু আজকে লভ্যাংশ নিতে এসে দেখি অফিস তালবদ্ধ। আমি এই টাকাগুলো আমার মেয়ের বিয়ের জন্য রেখেছি। আগামী মাসে আমার মেয়ের বিয়্।ে আমি এখন কি করবো?
এরূপ মোহাম্মদ ইদ্রিছ নামের আরেক ভুক্তভোগী জামানতকারী বলেন, আমি ৫০ টাকার দুইটি স্টাম্পে চুক্তি করে ১ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। মাসে দুই হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে তিন দফায় লভ্যাংশ নিয়েছি। আজকেও (মঙ্গলবার) লভ্যাংশ নেওয়ার কথা ছিল। এগুলো আমার খুব কষ্টের জামানত টাকা।
বিক্ষোভের বিষয়টি খবর পেয়ে বাটালি রোড এলাকায় পুলিশের সোর্স গিয়ে পৌঁছালে, জামানতকারীরা পুলিশের কাছে বিচার দেয়। জামানতকারীদের হাতে থাকা সকল কাগজপত্র, সঞ্চয়ী বইগুলো দেখাতে থাকে।
এরূপ রিমা আক্তারের কাছ থেকে ৩১ হাজার ২০০, আমেনা বেগম ১৩ হাজার ৭১০, ময়না আক্তার ১২ হাজার, মো. হেলাল উদ্দিন ১১ হাজার ৬০০, শাহিদা বেগম ৩৫ হাজার, পিংকি আক্তার ১৯ হাজার ৮৫০, সাজু বেগম ১৭ হাজার ৬০০, স্বপ্না আক্তার ১২ হাজার ৩৭০, নাছিমা বেগম ৪৮ হাজার, মরশী বালা মজুমদার ৭০ হাজার, আহমদ হোসেন ৩৬ হাজার সহ হাজারো জামানতকারীর প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।
কোতোয়ালী থানাধীন সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে জামানত সঞ্চয়ী প্রকল্প ওসেপ কার্যালয়ে আসলাম। এখানে হাজারো ভুক্তভোগীরা এসে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছে। তবে ওসেপ এর মালিক ডা. জহির উদ্দিনের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। ডা. জহির উদ্দিনের মৃত্যুর পর ওনার স্ত্রী ওসেপের দেখভাল করছে। অফিসে চার/পাঁচজন মেয়ে নিয়োগ দিয়ে জামাতকারীর কাছ থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসে। যেহেতু ওনাদের নিজস্ব ভবনেই এর কার্যালয়। এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে, সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply