শিক্ষাবোর্ডে এসে কেউ হয়রানির শিকার হতে পারবে না: অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫নভেম্বর, মেঙ্গলবার: ‘চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে গড়ে ওঠা জালিয়াত চক্র ভাঙতে কাজ শুরু করে দিয়েছি। এ জালিয়াত চক্র বোর্ডে কোন সুবিধে করতে পারবে না। ইতোমধ্যে তিনজনকে চিহ্নিত করেছি। আশা করি শিগগিরই তাদের এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পারবো।’0
তিনি বলেন, শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড তৎপর। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। এ পেশার প্রতি সকলের সম্মানবোধ রয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার মান ও গুরুত্ব অপরিহার্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডও এর বাইরে নয়।
বোর্ডের কিছু ব্যক্তি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু দুর্নীতিপরায়ণ অসাধু কর্মচারী হাইকোর্টের রিট, স্কুলের টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে। শক্তিশালী এ সিন্ডিকেট ভাঙতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আমি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর প্রতিদিন সকাল নয়টায় অফিসে ঢুকে সকল দপ্তরে গিয়ে খোঁজখবর ও তদারকি করি এবং সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করি।
তিনি বলেন, বোর্ডের কিছু বিষয় এখন আদালতে বিচারধীন রয়েছে। আদালতের বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতে একজন বিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করেছি। নিয়োগকৃত ওই আইনজীবীকে আদালতের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তি করে শিক্ষাবোর্ডে যে জালিয়াত চক্র রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অ্যাকশনে যাবো।
‘শিক্ষাবোর্ডের দুর্নীতি ও জালিয়াতি রোধে আমি জিরো টলারেন্সে থাকবো। দুর্নীতি ও জালিয়াতির সাথে যেই জড়িত থাকবে, প্রমাণ সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’
অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম বলেন, শিক্ষাবোর্ডে এসে কেউ ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে পারবে না। এক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি আমার কাছে ধরা পড়ে, তাহলে আইনানুগভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
‘অনেকে অভিযোগ করে, শিক্ষাবোর্ডের কাজে ধীরগতি হয়। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাবোর্ডকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন অটোমেশনের মাধ্যমে যেকোন কাজ দ্রুত করে ফেলতে পারবে। এছাড়াও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি বলেন, কোনভাবেই অফিসের কাজে এসে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা যাতে কোন ভোগান্তির স্বীকার না হয়, সেজন্য বোর্ডের সকল কার্যক্রম অটোমেশনে নিয়ে আসতে চাই। যেকোন আবেদন, ফরম পূরণ, ফি জমা নেওয়া থেকে শুরু করে বোর্ডের সকল কার্যক্রম যদি অটোমেশনে নিয়ে আসা যায়, তাহলে ভোগান্তি একেবারে কমে আসবে।
ইতোমধ্যে বোর্ডের যাবতীয় টেন্ডার এখন ই-টেন্ডারিং এর মাধ্যমে করা হচ্ছে। এতে সচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে বোর্ডের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবাদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষাবোর্ডে ফিঙ্গার প্রিন্ট বসাচ্ছি। ইতোমধ্যে কাজের অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। বোর্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেইটের নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। সর্বোপরি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাবোর্ডের কল্যাণে যা করা দরকার, সেরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম চলতি বছরের ২ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রাম-এ চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেন। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৮১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স (সম্মান) ও ১৯৮২ সালে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি লাভ লাভ করেন।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি সপ্তম বিসিএসয়ে ফেনী সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালন করে ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং একই বছরের ৫ অক্টোবর অধ্যক্ষ হিসেবে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে যোগ দেন। ফেনী জেলার এডভোকেট জহুরুল ইসলাম ও শিক্ষিকা সুলতানা ইসলামের মেয়ে অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম ১৯৬০ সালের ২৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

Leave a Reply