কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনিশ্চিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫নভেম্বর, মেঙ্গলবার: মেয়াদ শেষ হলেও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন যখন ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেই সময় হঠাৎ সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিটের কারণে এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।1
হঠাৎ কেন এই রিট, সে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। কুমিল্লায় বলাবলি হচ্ছে, নির্বাচন ঠেকাতেই কোনো একটি পক্ষ আদালতে গেছে। কে এবং কেন কুমিল্লায় ভোট চায় না- সে প্রশ্ন জানার চেষ্টাও করছেন আগ্রহীরা।
গুঞ্জন আছে, বর্তমান মেয়র বিএনপি সমর্থিত মনিরুল হক সাক্কুর সঙ্গে কুমিল্লা সদর আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সুসম্পর্কের সঙ্গে এই রিটের সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাওর আছে যে, মেয়র অন্য দলেও হলেও সংসদ সদস্য তাকে নিজের লোক হিসেবেই দেখেন। আর এ কারণে তিনি চাইছেন সাক্কু যেন এই পদে আরও কিছুদিন থাকে। সে কারণেই নির্বাচন ঠেকাতে এই রিট হয়েছে।
যদিও মেয়র সাক্কু বলেছেন, ‘এ ব্যাপার সংসদ সদস্য কিছু জানেন না।’ তবে তার সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন মেয়র। মেয়র বলেন, ‘এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক।তবে এই রিটের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে আমি জানি।’
আপনাকে আরো কিছুদিন দায়িত্বে রাখতে এমপির পক্ষ থেকে এই রিট করা হয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে- এমন প্রশ্ন করলে সাক্কু বলেন, ‘আমাকে রাখার জন্য তিনি রিট করালে বিএনপি করেন এমন কাউন্সিল কেন রিট করবে। আবার শিবির করেন এমন অভিযোগ আছে এমন লোক কেন রিট করবে। আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে রিট করাতে পারতেন।’
২০১১ সালের ১০ জুলাই ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা একিভূত করে ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সিটি নির্বাচনে বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফজল খান।
এই পরাজয়ের জন্য বাহাউদ্দিনের দিকে আঙ্গুল তুলেছিলেন আফজল খান। ক্ষমতাসীন দলের এই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। তাদের দ্বন্দ্বের কারণেই শক্তিশালী অবস্থান থাকার পরও কুমিল্লা সদর আসনটি নানা সময় হারিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের মধ্যে কথা আছে, এই দুই নেতা বরাবর নিজের জয়ের চেয়ে অন্যকে হারানোর কথাই বেশি চিন্তা করেন।
সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের সীমানা প্রায় তিনগুণ বাড়ানোর একটি মহাপরিকল্পনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে এ নিয়ে গত ৫ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করেন একজন কাউন্সিলর ও একজন বাসিন্দা। পরে মহাপরিকল্পনাটি তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করে নির্বাচন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশের কপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার মেয়র।
সংসদ সদস্য বাহার রিট করার সঙ্গে তার নূন্যতম সম্পর্কের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মেয়রের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো এই কথাটি ঠিক। সেটা দলীয় নয়, কুমিল্লার উন্নয়নের চিন্তা থেকে। কিন্তু আমি তাকে আরো কিছুদিন পদে বসিয়ে রেখে কুমিল্লার মানুষকে তো বঞ্ছিত করতে পারি না।’
শেষ পর্যন্ত রিট টিকবে না বলেও মনে করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘সীমানা জটিলতার সঙ্গে কুমিল্লাকে নিয়ে যে মাস্টারপ্লান হচ্ছে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণে এই মামলা টেকার কোনো সম্পর্ক নেই।’
তবে উন্নয়নের কারণে তার মেয়রের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কথা সংসদ সদস্য বললেও ভিন্ন কথা অনেক দিন ধরে চলছে। অভিযোগ আছে, বিএনপি সমর্থিত মেয়র হলেও আন্দোলন ছিলেন না সাক্কু। যে কারণে যেখানে অন্যান্য জায়গার বিএনপি সমর্থিত মেয়ররা অসংখ্য মামলায় জজর্রিত। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে কাটিয়েছেন কেউ কেউ। বেশ কয়েক ইতিমধ্যে পদও হারিয়েছেন। সেখানে মেয়র সাক্কুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের পুরো সময়জুড়ে তিনি বহাল তবিয়তে ছিলেন এখনো আছেন। সবকিছুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে গুঞ্জন আছে।
যদিও মেয়র সাক্কু একথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। সাধ্যমত কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।’

Leave a Reply