হোল্ডিং নম্বর দিয়ে সাতকানিয়ার লোকজন থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

এম এম রাজা মিয়া রাজু, সাতকানিয়া: আবার ২০০৮ সালের সেই প্রতারক চক্র সাতকানিয়ায় এসেছে। এই প্রতারক চক্র স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে হোল্ডিং নম্বর দিয়ে এলাকার লোকজন থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘবদ্ধ1 প্রতারক প্রথমে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নে যায়। তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বশে রেখে এলাকায় বসবাসকারী প্রতিজন থেকে হোল্ডিং নন্বরের নামে ৭০ থেকে ১শ’ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা হোল্ডিং নন্বর দিয়ে টাকা নেয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি বিষয়টি এইপ্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানায়। এরপর এইপ্রতিবেদক হোল্ডিং নন্বরের নামে টাকা নেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহকে অবহিত করেন। তারপর ও বিষয়টি নিয়ে কেউ তৎপর হয়নি। প্রতারকচক্র উক্ত ইউনিয়নে টাকার নেয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করে এখন একই সাথে ধর্মপুর ও বাজালিয়া ইউনিয়নে হোল্ডিং নন্বরের নামে লোকজন থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আমাদের এই প্রতিবেদককে গত মংগলবার সন্ধ্যায় উক্ত দুই ইউনিয়নের ভুক্তভোগী লোকজন জানান উত্তরবঙ্গের কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অজুহাতে জনপ্রতি থেকে ৮০টাকা চাঁদা নিচ্ছে। তাদের হিসাব মতে প্রতিপরিবার থেকে ৫শ থেকে ১হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। তারা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে টাকা দেয়ার জন্য এলাকায় প্রথমে মাইকিং করে। তারপর চৌকিদারকে সাথে নিয়ে প্রতি পরিবারে গিয়ে হোল্ডিং নম্বরের প্লেট দিয়ে টাকা নেয়া হয়। টাকা দিতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে আইনী ভয় দেখানো হয় বলে তারা জানায়। বলা হয় হোল্ডিং নম্বর ছাড়া চেয়ারম্যান সাহেব জন্ম নিবন্ধন সনদ মৃত্যূ সনদ চারিত্রিক সনদ ওয়ারিশ সনদ দেবে না। সরকারী কোন কাজে সহযোগিতা করবে না। যেমন তারা ছেলে মেয়ে বিয়ে দিতে পারবে না পাসপোর্ট ভিসা করতে পারবে না বিধবা বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি ভাতা পাবে না। ছেলে মেয়ে স্কুলে ভর্তি করতে পারবে না। সরকারী/ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী পাবে না। জায়গা জমি বিক্রি করতে পারবে না। দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবে না। উক্ত শর্তগুলো এলাকার লোকজনকে দেখানো হয় স্বস্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের প্যাডে। তাদের যেসব শর্ত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সেসব শর্তগুলো পাওয়া গেছে বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস দত্তের প্যাডে। এই প্যাডে তার স্বাক্ষর সীল রয়েছে। এদিকে ধর্মপুর ও বাজালিয়া ইউনিয়নের লোকজন থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর এই প্রতিবেদক উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহকে আবারও অবহিত করেন। তখন তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন কেউ তাকে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বাজালিয়ার চেয়ারম্যান তাপস দত্তের কাছে তার নির্দেশে টাকা দেয়ার জন্য মাইকে পাবলিসিটি ও তার প্যাডে ওই শর্ত গুলো দেখিয়ে লোকজন থেকে টাকার নেয়ার বিষয়টি উক্ত দিন মুঠোফোনে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। বলেন আপনি আজ নিউজটি করবেন না। কাল আমি তাদের ধরব। গত বুধবার রাতে বিষয়টি জানার জন্য তার কাছে মুঠোফোন করলে রিং টোন পড়লেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে এলাকার গরীব দুঃখী মানুষ তৎক্ষণাৎ তাদের দাবিকৃত ৫শ’থেকে ১হাজার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে হিমশীম খাচেছ। অনেকে ধার কর্জ করে তাদের টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। অবস্থাদৃষ্টিতে চেয়ারম্যানের ভূমিকা রহস্যজনক বলে লোকজন সূত্রে প্রকাশ। উলেল্লখ্য ২০০৮ সালে এই প্রতারকচক্র হোল্ডিং নম্বর প্লেট বন্টন প্রকল্প নামে খাগরিয়া ধর্মপুর কেওঁচিয়া ও ছদাহা ইউনিয়ন থেকে একইভাবে টাকা পয়সা হাতিয়ে ছিল। ওই সময় এ প্রতিবেদক তাদের প্রতারণা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ৩টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। তার ভূমিকায় প্রতারকচক্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তারা ওই সময় উক্ত ৪ ইউনিয়ন থেকে ২৬ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অবশিষ্ট আর ১৩টি ইউনিয়নে হোল্ডিং নম্বর দেয়ার সুযোগ পায়নি। অভিযোগ ছিল চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে টাকার ভাগ নেয়ার। উক্ত প্রতারক চক্র দীর্ঘ ৭ বছর পর আবার সাতকানিয়ায় এসে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করার জন্য এলাকার লোকজন সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply